প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

শোয়েব সর্বনাম: শিক্ষার্থীর চুল কেটে দেওয়া, লুঙ্গি পরায় বহিষ্কার অভিযুক্ত শিক্ষক, আসলে ভিক্টিমটা কে?

শোয়েব সর্বনাম: শিক্ষার্থীর চুল কেটে দেওয়া, লুঙ্গি পরায় বহিষ্কার, অভিযুক্ত শিক্ষক,আসলে ভিক্টিমটা কে? যারা দায়িত্বশীল লোক, কোনো টপিক ভাইরাল করার আগে নিউজটা পড়তে শিখেন আগে প্লিজ। আজেবাজে সংবাদমাধ্যম তো আছেই, বড় সংবাদমাধ্যমগুলাও ক্যাচি হেডলাইন বানায়ে পাবলিশ করে দেয় নিউজ ভাইরাল করার জন্য। কিন্তু ভেতরে থাকে অন্য কথা। কাউকে ভিকটিম বানানোর আগে বোঝার চেষ্টা করেন সে আসলেই ভিকটিম কিনা, অভিযোগের ওয়েটা প্রোপার কি না। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলেদের চুল কেটে দেওয়া হচ্ছে, লুঙ্গি পরে পরীক্ষা দিতে আসায় বহিষ্কার করা হয়েছে এগুলো হেডলাইন মাত্র। বিস্তারিত ঘটনাটা আমরা জানবো নিউজ পড়ে, যেহেতু আমরা কেউই ঘটনাস্থলে হাজির ছিলাম না। নিউজটা কি আমরা ঠিকঠাক পড়তে জানি? ধরে নিলাম, উপরের দুটি ঘটনায় ভিকটিম শিক্ষার্থীরা, অভিযুক্ত আছেন শিক্ষক। তো নিউজ ঘেটে অভিযোগটা খুজে দেখা যাক? কয়েকটা প্রশ্ন রাখি।

[১] যে অভিযোগ করলেন তার চুল কেটে দেওয়া হয়েছে, তার বক্তব্যে কি আসছে কেন চুল কাটা হয়েছে?[২] অভিযোগকারীর পক্ষে কোনো প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য নেওয়া হয়েছে নিউজে? কাজটা তো গোপনে ঘটেনি, ক্লাসে কেউ না কেউ দেখবেন। [৩] অভিযোগ যার বিরুদ্ধে, তার বক্তব্যটা নিউজে কোথায়? তিনি কেন চুল কাটছেন, চুল নিয়ে তার কেন চুলকানি, কিংবা আদৌ তিনি চুল কেটে দিছেন কিনা সরাসরি এই বিষয়ে অভিযুক্তের বক্তব্য থাকতে হবে। আমি নিউজ পড়ে দেখলাম, পুরা ঘটনার বিবরণ দিতেছেন সাংবাদিক। কারও বক্তব্যে ঘটনাটা উঠে আসেনি। নিউজে সকল বক্তব্য শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার চেষ্টা বিষয়ক।

চুল কাটার ঘটনা ডিটেইল সাংবাদিক জানলেন কেমনে সেইটা তিনি নিউজে বলবেন না? এই ৩টা শর্ত পূরণ না হলে জানবেন ওইটা দুর্বল নিউজ, সাংবাদিক তার দায়িত্ব ঠিকঠাক পালন করেননি। দায়িত্বশীল লোকের ওই নিউজটা ভাইরাল করা উচিত হবে না। লুঙ্গি পরে পরীক্ষা দিতে আসায় বহিষ্কারের নিউজটা পড়লাম বাংলা ট্রিবিউনে। এখানে ইনটেনশনালি শিক্ষকদের অভিযুক্ত করা হচ্ছে। শিক্ষকদের বক্তব্য লুঙ্গি পরার জন্য নয়, অসদুপায় অবলম্বনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীর বক্তব্য, লুঙ্গি পরার জন্য তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

দুই ধরনের বক্তব্য নিউজের বডিতে থাকলেও হেডলাইনে আসছে লুঙ্গি পরার জন্য বহিষ্কার। এইটা ক্যাচি হেডলাইন, বাট প্রকৃত ঘটনা তো এইটা না। নিউজে কোথাও বলা নেই বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থীদের ড্রেসকোড ছিলো কিনা, ফলে এই নিউজটাও অসম্পূর্ণ, দুর্বল। তারা শিক্ষকের বক্তব্য আড়াল করে শিক্ষার্থিদের বক্তব্য হাইলাইট কেন করলো তার ব্যাখ্যাও পাওয়া যাবে না নিউজে। তাহলে তাদের এই কথা আমি কেন বিশ্বাস করবো? চুল কেটে দেওয়া হয়েছে, তাদের চুল বড় রাখাটাকে অপরাধ হিসেবে আইডেন্টিফাই করতেছেন কিনা অভিযুক্ত শিক্ষক এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের কোনো বক্তব্য নিউজগুলাতে নেই। অনেককিছু না বুঝেই,ভাইরাল সাংবাদিকতার ফাঁদে পরে আমরা নিজেদের ব্যবহার করতে দিচ্ছি না তো? ফেসবুক থেকে

সর্বশেষ