প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

নিপূ সৈয়দ নূরুলহৃদা: অসভ্য তালিবানকে সভ্য বিশ্ব কেন স্বীকৃতি দেবে?

নিপূ সৈয়দ নূরুলহৃদা: তালিবান বিশ্বের স্বীকৃতি চাচ্ছেন, কিন্তু কোনো দেশই এখনো পর্যন্ত তাদের স্বীকৃতি দেননি। স্বীকৃতি দিবেন কীভাবে? তারা নারীদের অধিকার হরণ করবেন, নারীদের ওপর মধ্যযুগীয় ধর্মীয় বর্বর আদেশ নিষেধ চাপিয়ে দেবেন, নারীদের বস্তায় ভরে চার দেয়ালে বন্দী করে রাখবেন, প্রকাশ্যে রাস্তায় নারীদের পেটাবেন, সাংবাদিকদের পেটাবেন, গান-বাজনা-সিনেমা-নাটক শিল্প সাহিত্য সংস্কৃতি, আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞান নিষিদ্ধ করবেন, সাংস্কৃতিক কর্মীদের হত্যা করবেন, মতপ্রকাশের অধিকার কেড়ে নেবেন, বিরোধীদের হত্যা করবেন, তারা যা বলবেন তাই অন্য সবাইকে চুপচাপ মেনে নিতে হবে, তাহলে বাকি বিশ্ব আহম্মকের মতো তালিবানের হিংস্র জঙ্গি জঘন্য অপকর্মকে স্বীকৃতি দিয়ে নিজেদেরও জানোয়ারে পরিণত করবেন কেন? তালিবানের বিশ্বের স্বীকৃতির দরকার কি?

তাদের টাকার দরকার, খাদ্যের দরকার। রাষ্ট্রীয় কর্মচারীদের বেতন নেই। ইসলামী শরীয়ত তো আর তাদের পেট ভরায় না, ধর্ম তাদের কর্মসংস্থান, কলকারখানা করে দেয় না। একদিন তাদের টাকা দিয়েছে মার্কিনিরা, সৌদিরা। চীন ব্যবসা করে, পণ্য রপ্তানি করে।’ চীন টাকা দেওয়ার আগে হাজার বার ভাববে একটাকা দিলে একশ টাকা তার লাভ হবে কি না। তালিবানের সঙ্গে চীনের সম্পর্ক [১] সীমান্ত [২] ব্যবসায়িক। দান খয়রাতের টাকায় আর কদিনই বা চলবে? তালিবানের সঙ্গে আমেরিকা চুক্তি না নামার অজুহাতে আফগান রিজার্ভের ১০ বিলিয়ন আটকে রেখেছে আমেরিকা। বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ তাদের সকল কর্মকাণ্ড স্থগিত করেছে, ইইউও তাদের সকল সহায়তা কাজ স্থগিত করে রেখেছে। তালিবানের মধ্যযুগীয় আইয়ামে জাহেলিয়ার ধর্ম আছে, শরীয়া আইন আছে, বন্দুক আছে, গুলি আছে, স্বীকৃতির দরকার কী? বন্দুক খাও, গুলি খাও, বোমা খাও, ধর্ম খাও, আত্মঘাতী হও, বেহেস্তে যাও! বাম-ডান শ্রেণি দ্বন্দ্ব, শ্রমিক শ্রেণি বনাম লুটেরা শোষক শ্রেণি শীতল যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে ৭০ এর দশকে ১০০০ বিলিয়ন সৌদি অর্থ মার্কিন ও পাকিস্তানি পরিকল্পনায় উগ্র ওহাবিজমের জন্ম দিয়েছে আফগানিস্তানে। তখন পৃথিবী ছিলো দুই ভাগে। সোশালিজম বলাম ক্যাপিটালিজম।

একমাত্র সিরিয়ার শাসক হাফিজ ছাড়া বাকি সমস্ত মুসলমান দেশের শাসকরা ছিলো হয় আমেরিকার বন্ধু বা এন্টি সোশালিজম সোভিয়েট ইউনিয়ন। আবার বিপরীতে বাংলাদেশসহ পৃথিবীর শতশত মুক্তকামী স্বাধীনতাকামী জাতি জনগণের পাশে নিঃস্বার্থভাবে এসে দাঁড়িয়েছিলো সোভিয়েট ইউনিয়ন। এখন এসব ইতিহাস। তাই তালিবানের আর আর কদর নেই, কাড়ি কাড়ি মার্কিন ডলার নেই। তারা এখন দান খয়রাত করুণা প্রার্থী। স্বয়ং সৌদি থেকে এখন আমেরিকা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তুলে নিয়ে গেছে। যার ফলে সৌদি এখন যেকোনো মুহূর্তে ইয়েমেনি হুদিদের ভয়ঙ্কর আক্রমণের স্বীকার হতে পারে, ইরানি আক্রমণের স্বীকার হতে পারে। মুখে ধর্ম মননে ভোগ আরাম-আয়েশ, দল-উপদল, কোন্দল প্রতিকূল পরিস্থিতিতে টিকে থাকার জন্য, বাঁচার জন্য কীট-পতঙ্গও ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করে। সোভিয়েট রাশিয়া, আমেরিকার বিরুদ্ধে লড়াই করার সময় তারা শতশত গ্রুপ শত্রুর বিরুদ্ধে এক হতে পেরেছে। তাদের পেছনে ছিলো ‘বিশ্বপরাশক্তি।’

স্বার্থ ছাড়া পরাশক্তি তাদের টেকাটুকা দেবে কেন? কিন্তু দখলদারমুক্ত স্বাধীন দেশে এখন তারা নিজেরাই নিজেদের শত্রুতে পরিণত হয়েছে। নিজেরা নিজেদের বিরুদ্ধে লড়াইতে নেমে পড়েছে। কে কোন পদ নেবে, কে কোন বাড়ি দখল করবে, কে প্রধান নেতা হবে ইত্যাদি সুবিধা ও বৈষয়িক বিষয়ে দ্বন্দ্ব বিরোধ সংঘর্ষ লড়াই চলছে। আমেরিকা তাদের পরাজয়ের প্রতিশোধ নিবে না? বিভিন্ন দল-উপদলকে তারা আবার পরস্পরের বিরুদ্ধে লাগিয়ে দেবে। চীন সেই সংঘাতে জড়াবে? চীন এতোটা বোকা বলে কখনও দেখিনি। তালিবানকে একা স্বীকৃতি দিয়ে চীনও কি অসভ্যের কাতারে দাাঁড়বে? রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্রালাদিমির পুতিন বলেছেন, ‘তালিবান আফগানিস্তানে সভ্য আচরণ করবে, যাতে বিশ্বসম্প্রদায় কাবুলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখতে পারে’। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত