প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] রংপুর খাদ্য বিভাগে এবারও ধান সংগ্রহে নেই কোনো সফলতা

আফরোজা সরকার: [২] গত বছর আমন মৌসুমে ধান-চাল সংগ্রহে পুরোদমে ব্যর্থ হয়েছিলো রংপুর খাদ্য বিভাগ। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই এরই মধ্যে বোরো মৌসুমেও ফের ব্যর্থতার ধাক্কা। এবারেও ধান সংগ্রহে নেই কোনো সফলতা। কিন্তু চালে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়েছে। সরকারিভাবে বোরো মৌসুমে ধান-চাল সংগ্রহের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লক্ষ্যমাত্রার মাত্রা ৪২ শতাংশ ধান সংগ্রহ হয়েছে। যোগফল আমনের মতো বোরোতেও ব্যর্থতার তকমা।

[৩] গত বছর আমন মৌসুমে রংপুরের আট উপজেলা হতে ১০ হাজার ৩৮২ টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। কিন্তু সংগ্রহ হয়েছিল মাত্র ২ টন। সেইবার ধান ছাড়াও ১৭ হাজার ৬৩৮ টন সেদ্ধ চাল সংগ্রহের বিপরীতে মিলেছে মাত্র ১ হাজার ৫৩৫ টন। সেটাও সম্ভব হয়েছিল মিলারদের কারণে। কিন্তু এবার বাজার ঊর্ধ্বমুখি থাকায় সরকারি মূল্যে বোরো ধান দিতে আগ্রহী ছিলেন না কৃষকেরা। এতে খাদ্য বিভাগ চালে হাসলেও ধানে যেন ধরাশায়ী।

[৪] জেলা খাদ্য কার্যালয় সূত্র জানায়, গত ৪ মে থেকে বোরো ধান-চাল সংগ্রহ অভিযান শুরু হয়ে ৩১ আগস্ট শেষ হয়। এ বছর জেলায় ধানের সরকারি মূল্য ছিল কেজিপ্রতি ২৭ টাকা আর চালের ৪০ টাকা। ধান কিনতে লক্ষ্যমাত্রা ১৭ হাজার ৪০৩ মেট্রিক টন নির্ধারণ হলেও চালে ছিল ২৮ হাজার ১৭১ মেট্রিক টন।

[৫] এর মধ্যে সিদ্ধ চাল সংগৃহীত হয়েছে ৩৬ হাজার ৮০৫ দশমিক ৪৩০ মেট্রিক টন এবং আতপ চাল সংগৃহীত হয়েছে ৬১২ দশমিক ৯১০ মেট্রিক টন। যা লক্ষ্যমাত্রার হিসেবে শতকরা ৯৯ এবং ৯১ ভাগ। চাল পুরোটা সংগ্রহ করা হয়েছে। তবে ধান সংগ্রহ হয়েছে মাত্র ৭ হাজার ৪৪০ মেট্রিক টন, যা অর্ধেকেরও কম।

[৬] খাদ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী- জেলার রংপুর সদর, মিঠাপুকুর ও তারাগঞ্জ উপজেলায় কৃষক অ্যাপের মাধ্যমে লটারি করে ধান ক্রয় করা হয়েছে। বাকি পাঁচ উপজেলার কৃষকেরা গুদামে গিয়ে ধান বিক্রি করেছেন। বড় কৃষকের কাছ থেকে সর্বোচ্চ ৩ টন, মাঝারি কৃষকের মধ্য থেকে ২ টন এবং ক্ষুদ্র কৃষকের কাছ থেকে ১ টন করে ধান কেনা হয়।

[৭] আমনের চেয়ে বোরো মৌসুমে চাল-ধান সংগ্রহে সরকারি মূল্য বেশি ছিল। এ বছর ধান এবং চালের প্রতি কেজি দাম নির্ধারণ করা হয় যথাক্রমে ২৭ ও ৪০ টাকা। গত বছর আমন ধান-চাল সংগ্রহে ধানের ছিল কেজিপ্রতি ২৬ টাকা আর চালের ৩৬ টাকা। দাম বাড়িয়েও কেন পুরোদমে সফলতার হাসি নেই খাদ্য বিভাগে, সেই প্রশ্ন বরাবরের মতো এবারও ঘুরপাক খাচ্ছে।

[৮] ধানের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হওয়া প্রসঙ্গে কৃষক সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক পলাশ কান্তি নাগ বলেন, প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষকেরা ঘাম ঝড়ানো শ্রমে উৎপাদিত ধান নিয়ে স্বপ্ন দেখেন। তারা বেশি দামে সরকারের কাছে ধান বিক্রির আশায় থাকেন। কিন্তু সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বাজারদর বেশি হলে কৃষক কাকে ধান দিবে? লাভ যেখানে সেখানেই কৃষকের ধান গড়াবে। কারণ সরকারের ধান সংগ্রহ করা হয় মূলত কৃষকদের কাছে থেকে। কিন্তু বাজার ঊর্ধ্বমুখি থাকায় এবার কৃষকেরা ধান দিতে আগ্রহী ছিলেন না।

[৯] সদর উপজেলা মিল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সামসুল আলম জানান, সরকার চালের মূল্য ভালো দেয়ায় চুক্তিভুক্ত মিলাররা খুশি ছিলেন। এবার বরাদ্দের পাশাপাশি আগে আসলে আগে পাবেন ভিত্তিতে মিলাররা চাল দিয়েছে। তবে বোরো মৌসুমে ধানের বাজারদর সরকারি দরের থেকে বেশি থাকায় কৃষকদের আগ্রহ কম ছিল। সঙ্গে করোনা পরিস্থিতি ও বিভিন্ন মেয়াদের লকডাউনের প্রভাবও রয়েছে।

[১০] জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আবদুল কাদের বলেন, অফিসের সব কর্মকর্তা-কর্মচারী করোনা মহামারি ও কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যে নিরলসভাবে কাজ করেছে। শুরুতে জেলায় সিদ্ধ চালের যে লক্ষ্যমাত্রা ছিল পরে মিলারদের আবেদনের প্রেক্ষিতে বাড়ানো হয়। একারণে বর্ধিত লক্ষ্যমাত্রার শতকরা ৯৯ ভাগ পূরণ হয়েছে। মূলত কৃষকদের কাছে থেকে ধান সংগ্রহ করা হয়। সংগ্রহকালীন ধানের বাজার ঊর্ধ্বমুখী হওয়াতে কৃষকেরা ধান দিতে আগ্রহী ছিলেন না। তাই ধানের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত