প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আফগানিস্তানে কর্মসূচি সীমিত করেছে ব্র্যাক, ফিরিয়ে আনা হচ্ছে কর্মী

নিউজ ডেস্ক: আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ এখন তালেবানদের হাতে। ক্ষমতা গ্রহণের আনুষ্ঠানিক ঘোষণাই শুধু বাকি। আফগানিস্তানের ১০টি প্রদেশে কার্যক্রম চলছিল বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক ইন্টারন্যাশনালের। সহিংস পরিস্থিতির মধ্যে এ কার্যক্রম সীমিত করে এনেছে সংস্থাটি। বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশের কর্মীদেরও আফগানিস্তান থেকে ফিরিয়ে আনতে এরই মধ্যে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ব্র্যাক ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, সাময়িকভাবে দেশটিতে তাদের কার্যক্রম সীমিত করা হয়েছে। বণিক বার্তা

আফগানিস্তানের ১০টি প্রদেশে প্রায় তিন হাজার ব্র্যাক কর্মী কাজ করছেন। এদের মধ্যে ১২ জন বাংলাদেশীসহ প্রবাসী ছিলেন ১৪ জন। প্রবাসী কর্মীদের মধ্যে তিন বাংলাদেশীসহ পাঁচজন ছুটিতে দেশটির বাইরে ছিলেন, যাদের আফগানিস্তানে ফিরে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। বাকি নয়জন বাংলাদেশীর মধ্যে তিনজন দেশটি থেকে গত শুক্রবার বিমানে রওনা হয়েছেন। ২২ আগস্টের মধ্যে রওনা হওয়ার কথা বাকি ছয়জনের।

ব্র্যাকের একটি সূত্র জানিয়েছে, ৯ আগস্ট থেকে আফগানিস্তানে ব্র্যাকের কর্মসূচিগুলো সীমিত করে আনা হয়েছে। আপাতত এসব কার্যক্রম সীমিত পরিসরে চলবে। বিদেশী কর্মীদের সুরক্ষিত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আর যারা আফগান কর্মী, তাদের বাসা থেকে কাজ করতে অথবা সুরক্ষিত কোনো স্থানে চলে যেতে বলা হয়েছে।

প্রায় দুই দশক ধরে আফগানিস্তানে ব্র্যাকের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এসব কর্মসূচির বেশির ভাগই স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও খাদ্যনিরাপত্তাকেন্দ্রিক। এছাড়া নাগরিক সেবাসংক্রান্ত কর্মসূচিও বাস্তবায়ন করেছে সংস্থাটি। তবে আফগানিস্তানে সর্বশেষ স্বাস্থ্য ও শিক্ষাসংক্রান্ত কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছিল ব্র্যাক। উদ্ভূত পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে গত সপ্তাহ পর্যন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রাখা বা না রাখা নিয়ে ব্র্যাকের সর্বোচ্চ পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে।

আফগানিস্তানের ৩৪টি প্রদেশের মধ্যে ১০টিতে কার্যক্রম ছিল ব্র্যাক ইন্টারন্যাশনালের। গত সপ্তাহ পর্যন্ত কার্যক্রম চালু ছিল সাতটি প্রদেশে। তিনটি প্রদেশে সহিংস পরিস্থিতির মধ্যে পড়ে ব্র্যাকের কার্যক্রমগুলো। যে অঞ্চলগুলোতে সহিংস পরিস্থিতি ছিল সেগুলোতে কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না বিধায় বন্ধ আছে। সমস্যা নেই এমন অঞ্চলগুলোতে গত সপ্তাহ পর্যন্ত কাজ করা সম্ভব ছিল। কিন্তু গত কয়েক দিনে পরিস্থিতি আরো প্রকট হয়েছে।

আফগানিস্তানের বর্তমান সংকট পরিস্থিতির ঠিক আগে দেশটিতে ব্র্যাকের স্বাস্থ্য ও শিক্ষাসংক্রান্ত কর্মসূচির কাজ চলছিল। ব্র্যাকের অর্থায়নে যে প্রধান কর্মসূচিগুলো দেশটিতে ছিল সেগুলোর কাজ শেষ হয়ে যায় গত জুন-জুলাই নাগাদ। ফলে স্বাভাবিকভাবেই পরবর্তী অর্থায়ন সুরক্ষিত না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচিগুলো বন্ধ ছিল। চলমান ছিল মূলত শিক্ষাসংক্রান্ত কর্মসূচিগুলো।

এদিকে বাংলাদেশে ব্র্যাকের প্রধান কার্যালয়ে এ বিষয়ে জানতে চাইলে সংস্থাটি এক বিবৃতিতে বলেছে, আফগানিস্তানে কর্মরত কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। বিবৃতিতে সংস্থাটি জানিয়েছে, ১৯ বছরের বেশি সময় ধরে আফগানিস্তানে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কমিউনিটির উন্নয়ন, নভেল করোনাভাইরাস প্রতিরোধসংক্রান্ত সহায়তা, মানবিক সহায়তা ও খাদ্যনিরাপত্তা-সংক্রান্ত সেবা দিয়ে আসছে ব্র্যাক ইন্টারন্যাশনাল। দেশটি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে আন্তর্জাতিক সেনা প্রত্যাহার শুরুর পর থেকে দেশটিতে ক্রমবর্ধমান সহিংসতার পরিপ্রেক্ষিতে কর্মীদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যবস্থা নিয়েছে ব্র্যাক।
ব্র্যাক ইন্টারন্যাশনালের নির্বাহী পরিচালক শামেরান আবেদ বিবৃতিতে জানান, আফগানিস্তানে কর্মরত কর্মীদের ঝুঁকি নিরসন করে তাদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে ব্র্যাক ইন্টারন্যাশনাল।

২০০২ সালে আফগানিস্তানে কার্যক্রম শুরু করার মাধ্যমেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কর্মসূচি সম্প্রসারণ করে ব্র্যাক। সেই থেকে পূর্বাভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে এশিয়া ও আফ্রিকার আটটি দেশে দারিদ্র্য দূরীকরণের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে ব্র্যাক। বর্তমানে ব্র্যাক আফগানিস্তান, পাকিস্তান, শ্রীলংকা, লাইবেরিয়া, তানজানিয়া, উগান্ডা, দক্ষিণ সুদান ও সিয়েরা লিওনে কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

আফগানিস্তানে ব্র্যাকের কর্মসূচির ঘটনাপ্রবাহ পাওয়া গেছে ২০১৯ সাল পর্যন্ত। দেখা গেছে, দেশটিতে কৃষি, খাদ্যনিরাপত্তা ও জীবিকা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য নিয়ে কর্মসূচি পরিচালনা করেছে ব্র্যাক। যেগুলোর ব্যাপ্তি ছিল দেশটির মোট ৩৪টির মধ্যে ১৪টি প্রদেশে। সিটিজেন চার্টার আফগানিস্তান প্রজেক্টের (সিসিএপি) আওতায় ৪৩৫টি শস্য ব্যাংক স্থাপন করেছে ব্র্যাক। যার মাধ্যমে মৌসুমি মন্দায় বিপর্যস্ত জনগোষ্ঠীর বিকল্প খাদ্যভাণ্ডারের ব্যবস্থা হয়। এছাড়া দেশটিতে ৪৯ হাজার জনেরও বেশি কন্যাশিশুকে মাধ্যমিক ও কারিগরি শিক্ষাদান কর্মসূচি পরিচালনা করেছে ব্র্যাক। সংস্থাটির কর্মীরা মা ও শিশুদের জন্য আফগানিস্তান সরকারকে মানসম্পন্ন স্বাস্থ্যসেবা সহায়তাও দিয়েছে।

২০১৯ সাল পর্যন্ত আফগানিস্তানে ব্র্যাকের কর্মসূচির জন্য অনুদান ছিল শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সিটিজেন চার্টার ন্যাশনাল প্রায়োরিটি প্রোগ্রাম ও গবেষণায়। এসব কর্মসূচিতে অর্থায়ন প্রতিশ্রুতি ছিল এমন দাতা সংস্থাগুলোর মধ্যে ছিল যুক্তরাজ্যভিত্তিক দাতা সংস্থা ডিএফআইডি, গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কানাডা, ওয়ার চাইল্ড কানাডা, জাতিসংঘ সংস্থা ইউএনডিপি, গ্লোবাল ফান্ড, আফগানিস্তানের জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, গেটস ফাউন্ডেশন, আফগানিস্তানের গ্রামীণ পুনর্বাসন ও উন্নয়ন মন্ত্রণালয় এবং সেন্টার ফর ইফেক্টিভ গ্লোবাল অ্যাকশন (সিইজিএ)।

গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কানাডার অর্থায়ন প্রতিশ্রুতির আওতায় শিক্ষা খাতের কর্মসূচি ২০২২ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা ছিল। আফগানিস্তানের জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অর্থায়ন প্রতিশ্রুতিতে স্বাস্থ্যসংক্রান্ত কর্মসূচির মেয়াদ শেষ হয় চলতি বছরের জুনে। একই সময়ে মেয়াদ শেষ হয় গেটস ফাউন্ডেশনের অর্থায়ন প্রতিশ্রুতিতে স্বাস্থ্যসংক্রান্ত কর্মসূচির। এছাড়া সিইজিএর অর্থায়ন প্রতিশ্রুতিতে গবেষণাসংক্রান্ত কর্মসূচির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২২ সালের মার্চে।

সর্বাধিক পঠিত