প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সাঈদ তারেক: ‘ভান্ডারিতে আজগুবী কারবার’!

সাঈদ তারেক: একটা ভালো সিদ্ধান্ত, তার মধ্যেও নোক্তা লাগানো চাই! এগারো তারিখ থেকে অফিস আদালত খুলবে, কলকারখানা চলবে, দোকানপাট খুলবে, লঞ্চ চলবে, ট্রেন চলবে, পণ্যপরিবহনও চলবে। সবই ঠিক আছে, কিন্তু গণপরিবহনে এসে একটা নোক্তা! ‘ভান্ডারিতে কি আজগুবী কারবার’! বাস চলবে অর্ধেক সংখ্যায় আর যাত্রী বসবে পুরো সংখ্যায়! ধরেন- গাবতলী-যাত্রাবাড়ী রুটে বাস চলে একশ’টা যাত্রী ওঠে তিন হাজারজন, নতুন এই গবুচন্দ্রিয় নিয়মে বাস চলবে পঞ্চাশটা যাত্রী কিন্তু তিন হাজারই। আবার বসবে সব আসনেই। সেই মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রীর অমিয় বাণীর মতো- টিকা দেওয়ার কার্ড ছাড়া রাস্তায় বের হলে কঠোর সাজা। অবস্থাটা কী দাঁড়াবে। হওয়া উচিত ছিলো সব বাসই চলবে, কিন্তু যাত্রী বসবে এক সিট ছেড়ে, হুকুম হয়েছে উল্টোটা। তারা কি করোনা মোকাবেলা করতে নেমেছেন, না লোক হাসাতে তামাশার যোগান দিচ্ছেন বোঝা মুশকিল। বাসের সংখ্যা অর্ধেক হয়ে গেলে কী পরিমাণ গাদাগাদি হবে কোনো আইডিয়া আছে পরিকল্পনাবিদদের। তাতে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি কমবে না বাড়বে।
সংক্রমণ এবং উচ্চ মৃত্যুহারের মধ্যেই গণপরিবহন বা পাবলিক প্লেস খুলে দেওয়া এমনিতেই বিরাট ঝুঁকির, তার ওপর গণপরিবহনে গাদাগাদি অবস্থা পরিস্থিতিকে কোথায় নিয়ে যেতে পারে গাবতলীর একটা সাধারণ পরিবহন শ্রমিক সেটা বুঝলো আর সরকারের বড় বড় পন্ডিত নীতিনির্ধারক পলিসি মেকারদের মাথায় ঢুকলো না। আমার তো মাঝেমাঝে সন্দেহ হয় কোনো একটি চক্র কি সরকারকে ডোবাতে ভেতরে ভেতরে সাবোটাজ করছে। মানুষের ভোগান্তি বাড়িয়ে দুর্ভোগ দুর্দশার পরিস্থিতি সৃস্টি করে গণঅসন্তোষের আগুনে ঘি ঢালছে। যাতে মানুষ এক সময় রাস্তায় নেমে আসে। গণবিদ্রোহের সৃষ্টি হয়। লকডাউন তামাশায় গত কয়েক মাসে কতো লক্ষ কোটি গালি অভিসম্পাত বর্ষিত হয়েছে সে খবর কারও আছে। বারবার একই কান্ডগুলো কেন ঘটানো হচ্ছে। সেই ‘রোববার থেকে গার্মেন্টস খুলে’ দেওয়ার মতো।

ঘোড়ার আগে গাড়ি বলবো না গাড়ির আগে ঘোড়া। পরিবহনের ব্যবস্থা নাই কারখানায় এসে কাজে যোগ দাও। যাহোক সোস্যাল মিডিয়ায় তুমুল তুলোধোনার পর বাস লঞ্চ খুলে দেওয়া হলো। সেখানেও নোক্তা। অতোটা থেকে অতোটা পর্যন্ত। কেন ভাই, করোনা কি এই সময়টায় ঘুমাতে যাবে। বেলা বারোটায় ঘুম থেকে জেগে পটাপট পাবলিকের ঘাড় মটকাতে শুরু করবে। ভোর ছয়টায় যে লঞ্চটা ভোলা থেকে ছেড়ে এলো বেলা বারোটায় সে মাঝ নদীতে, নীলফামারি থেকে আসা বাসটা যমুনা সেতুর ওপর, তারা তখন কি করবে। লকডাউন উঠে যাওয়া পর্যন্ত যার যার অবস্থানে ঠায় বসে থাকবে। তা তো না। পথে পথে ‘ম্যানেজ’ করে ঠিকই গন্তব্যে চলে যাবে। তাহলে এই সিদ্ধান্ত কি ঘুষ, দুর্নীতি, চাঁদাবাজির, একটা খাত খুলে দিলো না। এবারও দেখুন- দশটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত দোকানপাট খোলা, আটটার পর কি করোনার সংক্রমণ বেশি হয়? না মানুষ বেশি মরে। কোনো যুক্তি নেই। মানে একটা ভ্যাজাল লাগিয়ে রাখতে হবে।

এটা ঠিক ঢাকার রাস্তায় পূর্ণ কলেবরে গণপরিবহন চলাচল করলে হেভি ট্যাফিক জ্যাম হয়। একঘণ্টার রাস্তা তিন চারঘণ্টা, মোড় পার হতে আধাঘণ্টা একঘণ্টাও লেগে যায়। ব্যক্তিগত গাড়ির এতো দাপট ‘১নং আসল কঠোর লকডাউনও’ তা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে নাই। লকডাউনে করোনার কোনো হেরফের না হলেও রাজপথে প্রাইভেট গাড়িগুলো কিছুটা স্বস্তিতে স্বচ্ছন্দে চলাফেরা করতে পারে। আমাদের ট্রাফিক ব্যবস্থাপকরা পঞ্চাশ বছরেও আধুনিক এবং সভ্য কোন ট্রাফিক সিস্টেম তৈরি করতে পারলো না।

একমাত্র লকডাউনেই কিছুটা ‘শৃঙ্খলা’ দেখা গেলো। কারণ লকডাউনে কোনো গণপরিবহন চলে না। তাহলে কি রাজধানী শহরে ট্রাফিক জ্যাম কমাতে ‘লকডাউনই’ একমাত্র কার্যকর পন্থা। রাস্তায় ট্রাফিক জ্যাম নিয়ন্ত্রণ তথা প্রাইভেট গাড়ির স্বচ্ছন্দ্য যাতায়ত নিশ্চিত করতে যদি অর্ধেক গণপরিবহন চালানোর সিদ্ধান্ত হয় সেটা ভিন্ন কথা, তার জন্য করোনার দোহাই দেওয়া লাগে না। তাতেও বলার কিছু থাকতো না, কিন্তু এই উজবুকীয় সিদ্ধান্ত যে ব্যপকহারে সংক্রমের ঝুঁকি তৈরি করবে- তার দায় কে নেবে। শেষে তো যতো দোষ ওই নন্দ ঘোষের ঘাড়েই চাপবে, জনগণ স্বাস্থ্যবিধি মানলো না। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত