প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ড. আহমদ আল কবির: বঙ্গবন্ধুর সাধারণ জীবনযাপনে পরিপূর্ণ সমর্থন ছিলো বঙ্গমাতার

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এই রাষ্ট্রের স্রষ্টা। তার সান্নিধ্য লাভের সুযোগ যারা পেয়েছেন তাদের কথা থেকে যতোটুকু জানতে পেরেছি, শুনতে পেরেছি সেখান থেকে আমরা জানতে পাই বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব সকল সময়ে তার অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে কাজ করেছেন। অনুপ্রেরণার উৎসের পেছনে তার চিন্তাধারা, বিচক্ষণতা অনেক বেশি ছিলো। কারণ তিনি জাতির পিতার সকল দুর্যোগময় সময়ে, জাতির পিতা যখনই জেলে গেছেন ও অন্যান্য সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন, সমস্যার মোকাবেলা করেছেন, এ সবগুলো ক্ষেত্রেই বঙ্গমাতা তার একজন অনুপ্রেরণার উৎস ছিলেন এবং তাকে সাহস যুগিয়েছেন। এই কাজটি খুব সহজ ছিলো না। বঙ্গমাতা ছিলেন প্রতিভাবান এবং বহু গুণে গুণান্বিত বাঙালি। তিনি হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর একজন ঘনিষ্ঠতম লোক হিসেবে সকল সময় তার কাজগুলোতে সমর্থন যুগিয়েছেন। তার যদি কোনো দ্বিমত থাকে, এটা তিনি খোলা মনে আলোচনা করেছেন। সকল সময়ে তার সকল কার্যক্রমে সাহস যোগানোর কাজ করেছেন। বঙ্গবন্ধু বারবার জেলে গিয়েছেন। পরিবারের সকল সদস্যদের দেখাশোনার কাজ তখন বঙ্গমাতাই করেছেন। শুধু তাই নয়, বিভিন্ন ধরনের আর্থিক সংকটে থেকেও যখন সংসার পরিচালনা করছিলেন, তিনি তখনও কোনো প্রতিবাদ ও আক্ষেপ প্রকাশ করেননি। এটা একটি বিরল ঘটনা। বিভিন্ন গুণের মধ্যে এটি বঙ্গমাতার অন্যতম গুণ।
তার আরেকটি বড় গুণ হচ্ছে তিনি সকলের সামনে না এসে নেপথ্যে থেকে বঙ্গবন্ধুকে সাহায্য-সহযোগিতা করেছেন। এই কাজগুলো করতে গিয়ে তাকে অনেক বিভিন্ন ধরনের বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে। আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ঠিক আগে ১৯৬৬ সালে ছয় দফা ঘোষণার পরে ১৯৬৯ সালের মার্চ মাস থেকে ১৯৭১ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত যে কঠিন সময়। ছয় দফা এবং ১১ দফা নিয়ে যে উত্তাল সময়। এই সময়ে বঙ্গমাতার অনেক সাহসী ভূমিকা ছিলো। নেতা-কর্মীদের কীভাবে টানতে হয়, তাদের কাছে কীভাবে বার্তা পাঠাতে হয় এবং কর্মী ও নেতানেত্রীদের কীভাবে এগিয়ে যেতে হবে তার দিক-নির্দেশনাগুলো এসেছিলো বঙ্গমাতার মাধ্যমেই। একদিকে তিনি পরিবারের দেখাশোনা করেছেন, অন্যদিকে একজন মহানায়কের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে তাকে সকল সময়ে অনুপ্রেরণা ও উৎসাহ দিয়েছেন এবং তার কাজকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য সাহস যুগিয়েছেন। এই কাজগুলো সকলের দ্বারা সম্ভব নয়। একজন মহামানবের সঙ্গে আরেকজন মহামানবের এই যে যোগাযোগসূত্র ও দুজনের মনের এবং চিন্তার মিল থাকার কারণেই এটা সম্ভব হয়েছে। তার এই ভিশনারি চিন্তগুলোকে সুন্দরভাবে তিনি বিভিন্ন সময় ব্যবহার করেছেন, চিন্তা করেছেন। এগুলো আমাদের জন্য শিক্ষণীয় বিষয়। জাতির পিতার পুরো জীবনটাই চ্যালেঞ্জের মধ্যে ছিলো।
স্বাধীনতাউত্তরকালে বাংলাদেশের মানুষদেরকে ঐক্যবদ্ধ করার জন্য তিনি যে রকম কাজ করেছেন, স্বাধীনতার পরবর্তী সময়েও একটি ধ্বংসপ্রাপ্ত দেশকে গড়ে তোলার কাজেও ঠিক একইভাবে কাজ করেছেন। কিন্তু বঙ্গবন্ধু কোনো সময়েই বিলাসবহুল জীবনযাপণ করতে চাননি। বাংলাদেশে স্বাধীন হওয়ার পরও বঙ্গবন্ধু তার নিজ বাড়িতেই থাকতেন। এমনকি বড় ধরনের কোনো সিকিউরিটিও ছিলো না। এটা নিয়ে বঙ্গমাতার কোনো ক্ষোভ ছিলো না। সাধারণত দেখা যায়, পরিবারের সদস্যরাই এসব ব্যাপারে অনেক বেশি উৎসাহী হয়ে উঠে। তারা বিভিন্ন ভাবে প্রভাবিত করে পরিবারের অভিভাবককে। বঙ্গন্ধুর পরিবার সকল সময়ে তাকে সহযোগিতাই করেছেন। সাধারণ জীবন ও তাদের চিন্তাধারার মিল ছিলো। কীভাবে গরিব মানুষদের উন্নয়ন হবে, বাংলার মানুষদের মুক্তি কীভাবে আসবে তারা এটা নিয়েই ভেবেছেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা লাভ ও স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্যে যে অর্থনৈতিক কাজগুলো করা হচ্ছিলো সেসময়ে বঙ্গমাতা বড় কোনো উচ্চাভিলাস না করে, কীভাবে সাধারণ জীবন যাপন করা তার উদাহরণ দুনিয়ার কাছে সৃষ্টি করেছে। স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে যদি জাতির পিতা চাইতেন তাহলে তিনি বঙ্গভবন বা গণভবনে যেতে পারতেন। কিন্তু তিনি যাননি। সেগুলোতে না গিয়ে তিনি তার নিজস্ব ছোট কুটিরে স্বাভাবিক জীবনযাপন করেছেন। এই জীবনযাপণের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে ভূমিকা রেখেছেন বঙ্গমাতা শেখ মুজিবুর রহমান। কারণ তার ইচ্ছা ও পরিকল্পনার অংশ এখানে না থাকলে তবে জাতির পিতার জন্য এই কাজটি করা অনেক কঠিন হতো। বঙ্গমাতা শুধু উৎসাহ যোগাননি, এর পাশাপাশি জাতির পিতাকে ব্যাপকভাবে অনুপ্রাণিত করেছেন। বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছার এই আদর্শ ও চিন্তাধারা এবং সাধারণ মানুষের জন্য তার যে প্রীতি সেটা আমাদের জন্য পাথেও হয়ে থাকবে আগামী দিনে। আজকের দিনে আমরা বঙ্গমাতাকে স্মরণ করি এবং শ্রদ্ধা জানাই।
পরিচিতি : সাবেক চেয়ারম্যান, রূপালী ব্যাংক। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আমিরুল ইসলাম

 

সর্বাধিক পঠিত