শিরোনাম
◈ শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস আজ ◈ লোহার খুঁটি পড়ে ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ ◈ হজ করতে পাসপোর্টের মেয়াদ থাকতে হবে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত ◈ পি কে হালদারকে এখনই দেশে আনা সম্ভব না, জানালেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ◈ রপ্তানির সুযোগ রেখে নিরাপদ খাদ্য আইন সংশোধন প্রস্তাব ◈ বয়স্ক সাংবাদিকদের স্থায়ী ভাতা দেয়ার কথা ভাবছে সরকার: কল্যাণ ট্রাস্ট এমডি ◈ আমাদের হাতে মাত্র এক দিনের পেট্রল আছে ◈ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতের চলচ্চিত্র নির্মাতা গৌতম ঘোষের সাক্ষাৎ ◈ প্রধানমন্ত্রী ও তার পরিবারের নামে প্রতারণার চেষ্টা করলে ফোন করে জানানোর পরামর্শ ◈ ড্রোনে রূপ নিচ্ছে রাশিয়া-ইউক্রেনের যুদ্ধ

প্রকাশিত : ১৩ জুলাই, ২০২১, ০২:১১ দুপুর
আপডেট : ১৩ জুলাই, ২০২১, ০২:১১ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

দীপক চৌধুরী: গৃহহীনের ‘হক’-এ যারা ‘ ভাগ’ বসায় ওরা কী মানুষ!

দীপক চৌধুরী: সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে থাকা দুর্নীতিবাজ, কিছু কীট, কিছু রাজনৈতিক টাউট আর লুটেরারা আমাদের লক্ষ্য অর্জনে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এদের সংখ্যা কম কিছু ডালাপালাও আছে। শুধু সুযোগ পেলেই হলো। কী আর বলবো! ‘লকডাউন’ মানার জন্য রাস্তায় পুলিশ, র‌্যাব, সেনাবাহিনী নামাতে হয়েছে। তবুও নানা উছিলায় প্রাইভেট কার, হাইয়েস, মিনিট্রাক চলছেই। মাস্ক পরানো যায় না। দোকান খুলে ‘চোর-পুলিশ’ খেলা হয়। পুলিশ দেখলেই ‘শাটার’ নামিয়ে দোকান বন্ধ। অথচ দোকোনের ভিতর কাস্টমার। চোখের সামনে দেখা যাচ্ছে-- ভয়ংকর করোনা দোরগোড়ায়। মাস্ক না পরলে যে ফেরেস্তা এসেও বাঁচাতে পারবে না- এ কথাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানো হচ্ছে। পত্রিকায় দেখলাম, লকডাউন শেষ হতে না হতেই ট্রাকে করে মানুষ গ্রামে যাচ্ছে ঈদ করতে! এবারই কী শেষকালের ঈদ? ঈদ আর আসবে না জীবনে। একশ্রেণির মানুষের জীবনাচারের মনেই হয় না আমরা করোনা নিয়ে বিপদে আছি।

উন্নয়নের গতিধারা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে নানা পদ্ধতির দুর্নীতি ও অনিয়মের জন্য। কিছু ব্যক্তি, কিছু কীট, কিছু দুর্নীতিবাজ এদেশের পা টেনে নীচে নামাতে চাইছে। সারাবিশ্ব এখন কেরোনা আতঙ্কে। সবকিছু লণ্ডভণ্ড। বর্তমানে করোনা মহামারিতে সারা দুনিয়ার মতো আমাদের দরিদ্র মানুষ নানামুখী জটিলতার সম্মুখীন হচ্ছে। এরমধ্যেও প্রভাবশালী দুর্নীতিবাজেরা নানা ছুতোয়, নানা অপকৌশলে দুর্নীতিতে নিমজ্জিত। বিভিন্ন প্রকল্পের কাজে অনিয়ম-দুর্নীতির ‘কল’ বসিয়েছে ওরা।

আশ্রয়ণ প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতি হচ্ছে। মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার আধারা ইউনিয়নের ভাসানচরে আশ্রয়ণ প্রকল্প-২-এর আওতায় ২০০ ঘর নির্মাণে অনিয়ম-দুর্নীতির তথ্য গণমাধ্যমে এসেছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশে মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসন পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একটি দলও আলাদাভাবে তদন্ত করছে। এ প্রকল্পের ঘর নির্মাণে অনিয়ম-দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়ায় সম্প্রতি প্রশাসন ক্যাডারের পাঁচ কর্মকর্তাকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করে এ সংক্রান্ত পাঁচটি পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। তাদের মধ্যে দুজনের বিরুদ্ধ ইতোমধ্যে বিভাগীয় মামলাও হয়েছে।

আমরা জানি, পৃথিবীর কোনো দেশে যা করা হয়নি তা-ই করতে যাচ্ছেন শেখ হাসিনা। দরিদ্র মানুষের জন্য ঘর। গৃহহীন দরিদ্র মানুষের মাথা গোঁজার ঠাঁই তৈরির উদ্যোগ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু সেখানেও দুর্নীতি-অনিয়ম করছে যারা তাদের কঠিন ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া অতি জরুরি। দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশ, সুনীতি ও সুশাসন নিশ্চিত করার দিকে আমাদের এগিয়ে যেতে হলে কঠিন পদক্ষেপ অবশ্যই জরুরি। দুর্যোগসহনীয় গৃহনির্মাণ প্রকল্প, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এবং ভূমি মন্ত্রণালয়ের গুচ্ছগ্রাম প্রকল্প- এই তিন প্রকল্পের আওতায় সরকার সারা দেশে হতদরিদ্রদের জন্য গৃহ নির্মাণ একটি অত্যন্ত জনদরদী ভালো কাজ। স্বাভাবিকভাবেই আশা করা গিয়েছিল, যারা প্রকৃতই এমন গৃহ পাওয়ার যোগ্য, তারাই এ সুবিধা ভোগ করবেন। কিন্তু বাস্তবে দেশের কোনো কোনো অঞ্চলে এসব ঘর নির্মাণ এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে এর বণ্টন নিয়ে নানা ধরনের অনিয়ম-দুর্নীতির ঘটনা গণমাধ্যমে প্রকাশ হচ্ছে।

বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার ধারাবাহিকভাবে গত ১২ বছরে বাংলাদেশ উন্নয়ন অগ্রগতির সকল সূচকে যুগান্তকারী মাইলফলক স্পর্শ করেছে। ফলে বাংলাদেশ আজ বিশ^ সভায় উন্নয়নের রোল মডেল। শেখ হাসিনার প্রজ্ঞা, দৃঢ়তা, সাহসিকতা, সততা ও কর্মনিষ্ঠা আজ বিশ^নন্দিত। আজ সারা বিশে^ বিস্ময়কর রাজনীতিক বঙ্গবন্ধুকন্যা।

কূটনৈতিক অঙ্গনে আজ নানা প্রশ্ন উঠেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কিভাবে একই সঙ্গে ভারত ও চীন এই দুই বৃহৎ দেশের সঙ্গে অত্যন্ত সুসম্পর্ক রাখছেন, তা নিয়ে বিস্মিত পশ্চিমা অনেক কূটনীতিকও। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আর তার সরকার সিদ্ধান্তগুলো নেয় নিজের স্বার্থের কথা বিবেচনা করে। চীন ও ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বাংলাদেশ কখনো যুক্ত হয় না। অন্যের ভৌগোলিক সীমারেখাকে বাংলাদেশ সম্মান করে। জাতিসংঘ সনদে যে নীতিগুলোর কথা বলা আছে তা বাংলাদেশ অনুসরণ করে। কয়েকমাস আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, “শেখ হাসিনার সরকারের পররাষ্ট্রনীতিই বাংলাদেশকে এমন অবস্থানে নিয়ে এসেছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ কারো শত্রু নয়। সবার বন্ধু। আবার একই সঙ্গে বাংলাদেশ কারো লজুড়বৃত্তিও করে না।”

সারা দুনিয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নাম উজ্জ্বল থেকে উজ্জ্বলতর হচ্ছে। কিন্তু দেশের ভেতর কিছু কীট রয়েছে, কিছু দুর্নীতিবাজ, মানব পাচারকারী রয়েছে, ষড়যন্ত্রকারী কিছু রাজনৈতিক দলও রয়েছে। শেখ হাসিনা সরকারের অর্জনকে নানাভাবে দমানো হচ্ছে। দলের বাইরের লোক ছাড়াও এরসঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে কিছু দলের লোক। তাঁরা দলের বিভিন্ন পদ দখল করে আছে। এসব বিতর্কিত লোকের বিষয়ে শিগগির সিদ্ধান্ত নিতে হবে। গণমাধ্যমে দেখলাম, আয়কর দিতে জব্দ ব্যাংক হিসাব থেকে টাকা তোলার অনুমতি চেয়েছেন পুরান ঢাকার (বহিষ্কৃত আওয়ামী লীগ নেতা) এনামুল-রূপন। কে তারা, কী তাদের পরিচয়, তাদের চরিত্রটা কী? একজন সাংবাদিক জানালেন, ট্যাক্স দেওয়ার অজুহাত তুলে জব্দ করা ব্যাংক হিসাব থেকে ৯ কোটি টাকা তোলার অনুমতি চেয়ে সংশ্লিষ্ট জায়গাতে আবেদন করেছেন এনামুল হক ভূঁইয়া ওরফে এনু ও রূপন ভূঁইয়া। জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ২০১৯ সালের ২৩ অক্টোবর এনামুল হক ও রূপন ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে পৃথক মামলা করে দুদক। নানারকম দুর্নীতির ভয়ঙ্কর তথ্য পেয়েছে দুদক ও পুলিশ।

অবাক হতে হয়! আমরা এগিয়ে যেতে চাই, যাচ্ছিও কিন্তু কিছু কিছু বাধা এদেশের সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত করে। অথচ বাস্তবতা কী বলছে? শত চেষ্টা করেও কোনো কোনো সেক্টরে দুর্নীতিবাজদের দমন করা যাচ্ছে না। তবে এটা স্বীকার করতেই হবে, দুর্নীতিবাজদের এখন ধরা হচ্ছে, করোনাকালেও দুর্নীতিবাজেরা পার পাচ্ছে না। জেলে যেতে হচ্ছে। বিচারের মুখোমুখি করা যাচ্ছে।
লেখক : উপসম্পাদক, আমাদের অর্থনীতি, সিনিয়র সাংবাদিক ও কথাসাহিত্যিক

 

 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়