প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

অজয় দাশগুপ্ত: দুনিয়ার দৃষ্টি কেড়েছেন অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী রন্ধনশিল্পী কিশোয়ার

অজয় দাশগুপ্ত: আমাদের দেশের রান্নার শো এখন অপরিহার্য একটি অনুষ্ঠান। প্রত্যেক চ্যানেলে এই শো হয়। কেউ বিরক্ত করেন আর কেউ করেন মনোযোগী। সিদ্দিকা কবীরের পর আর কাউকে তেমন মনে ধরেনি আমার। তবে রান্নার শো করা সেলিব্রেটিদের চাপ যে কী তা আমি খুব ভালো জানি। সুদীপার রান্নাঘরে যাবার জন্য আমি মিস করেছি নবনীতা দেব সেনের সঙ্গ। এই আফসোসের পর ও রান্নার বিষয়ে লেখার কারণ এক বাঙালি নারী। যে এখনো তারুণ্যে। কিন্তু ইতোমধ্যে অর্জন করে নিয়েছেন সেলিব্রেটির সম্মান। না পরিমিত বা আনন্দ ও কলহমুখর বাঙালি সমাজে না। সরাসরি অস্ট্রেলিয়ার মূলধারায়। ফ্রানক রডাম নামের এক ভদ্রলোক রান্নার শো চালু করেন ১৯৯০ সালে। ২০০৫ সালে বিবিসির আধুনিকায়ন করে। যার নেপথ্যে ছিলেন রডাম জন সিলভার আর কারেন রস। সে থেকে তুমুল জনপ্রিয় এই শো ছড়িয়ে পড়ে দেশে দেশে।

বলাবাহুল্য ইংরেজদের হাতে গড়া তাদের আদলের দেশ অস্ট্রেলিয়া তা লুফে নিতে দেরী করেনি। এখন এটি এখানকার চ্যানেল টেনের এক অন্যতম জনপ্রিয় শো। এই শোতে এতোদিন আমাদের জনগোষ্ঠী ছিলো দর্শক। কিন্তু কিশোয়ার চৌধুরী নামের ছিপছিপে এক তরুণী প্রশান্তপাড়ের বাংলাদেশিদের তো বটেই, সাথে দৃষ্টি কেড়ে নিয়েছে পুরো দুনিয়ার বাঙালির। এমনকি আজ সাদা কালো পিঙ্গল সব বর্ণ আর চামড়ার মানুষের চোখে কিশোয়ার জনপ্রিয় এক রন্ধনশিল্পী। রন্ধনশিল্পী আর রাঁধুনীর ভেতর আমি যে তফাৎ দেখি তা খুব সোজাসাপটা বড়া মোচা মাছের ঝোল মাংস সব বাঙালি রাঁধতে জানেন। পরিবেশন এবং ফিউশানের নামে জগাখিচুড়ি পাকানো ব্যতিরেকে নিপাট বাংলাদেশি খাবার পরিবেশন রান্না আর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় কিশোয়ার অনন্য আর অনবদ্য। আমি বিষয়টাকে যেভাবে দেখি, এতোদিন আমাদের রেস্তোরাঁ কিউজিনগুলো বাঙালি বাদে খাদ্যরসিক টানতে পারেনি। এসব উন্নত নিরাপদ খাদ্যের সমাজে ভাবমূর্তি বিশাল ব্যাপার। ইন্দোচাইনীজ নামের দোকানগুলো চাইনিজ নামটা বলছে শুধু বিশ্বাসভাজন হবার জন্য। ভিয়েতনামী দোকানগুলোর সাইনবোর্ডে হয় থাই নয় চাইনীজ রেঁস্তরা লেখার কারণ ও তাই।

সিডনির বাংলাদেশি রেঁস্তরাগুলো ইন্ডিয়ান কিউজিন লেখার কারণ দুটো প্রথমত এমনটা লিখলে উপমহাদেশের সবাই আসবেন । দ্বিতীয়ত আমাদের খাবারের স্টাইল এখনো অপরিচিত আর রান্নার উৎকর্ষ প্রশ্নের বাইরে না। সেখানে অজি বিচারকদের তাক লাগিয়ে দিয়ে মাছের ঝোল থেকে মিষ্টি পান নেহেরী খাইয়েই সে পৌঁছে গিয়েছে ফাইনালে। ব্রিটিশ জাজ জেক বলেন, কিশোয়ারের শক্তি তার রান্নার স্বাদ আর বাহারী পদ। কিশোয়ারই জানিয়ে দিলেন আমাদের রান্না আর ঐতিহ্য কতোটা শক্তিশালী। বলি কী, দেশের রাজনীতি দেশের সমাজনীতি বা বিভিন্ন বিষয় আমরা সবাই চর্চা করি বটে কিন্তু তাতে শুধু আমরা আমরাই। এর বাইরে মূলধারায় পা রাখতে হলে দেশের মানসম্মান এমনকি বাঙালি জাতির মর্যাদা তুলে ধরতে হলে মূলধারায় নতুন কিছু করার বিকল্প নেই। করছেন অনেকেই। কেউ নাটকে কেউ চলচ্চিত্রে কেউ মূলধারার রাজনীতিতে কাজ করছেন। কিন্তু মেলবোর্নের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী কামরুল ইসলাম চৌধুরী ও তার পত্নী লায়লা বেগমের কন্যা। মোনাশ থেকে স্নাতক শেষ করে লন্ডনে গ্রাফিক ডিজাইনে পোস্ট গ্র্যাজুয়েট করা কিশোয়ার আজ প্রতিষ্ঠিত রন্ধনশিল্পী। ফাইনালে কী হবে জানি না। কিশোয়ার চৌধুরী জিতুক আর না জিতুক ইতোমধ্যে সে জিতিয়ে দিয়েছে আমাদের। রান্না করেও যে একটি দেশকে প্রতিনিধিত্ব করা যায়, একটি জাতির ভাবমূর্তি আকাশচুম্বী করে তোলা যাব সেটা তাকে না দেখলে বোঝা অসম্ভব ছিলো । শুভকামনা, গুডলাক কিশোয়ার, প্রবাসে বাংলার মুখ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত