প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

খান আসাদ: আফগানিস্তানে সোভিয়েত ভূমিকা নিয়ে সাম্রাজ্যবাদী প্রোপাগান্ডা যা আড়াল করে তা হলো ‘দ্বন্দ্বের রাজনৈতিক চরিত্র’

খান আসাদ: আফগানিস্তানে সোভিয়েত ভূমিকা নিয়ে সাম্রাজ্যবাদী প্রোপাগান্ডা যা আড়াল করে তা হচ্ছে, দ্বন্দ্বের রাজনৈতিক চরিত্র। প্রগতি ও প্রতিক্রিয়ার দ্বন্দ্বকে। আফগানিস্তানে দ্বন্দ্ব ছিলো, বামপন্থীদের প্রগতিশীল আর্থসামাজিক সংস্কার কর্মসূচির বিরুদ্ধে স্থানীয় সামন্ত পিতৃতান্ত্রিক ‘ইসলামী’ শক্তিকে কাজে লাগিয়ে সাম্রাজ্যবাদের রেজিমচেঞ্জের সহিংস রাজনীতি।

১৯৭৮ সালে বামপন্থী সামরিক অভ্যূত্থানের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট দাউদ খানকে ক্ষমতাচ্যুত করে নূর মোহাম্মদ তারাকি। এই পরিবর্তনের পটভূমিতে ক্ষমতা চলে যায় বামপন্থী দুই দল, খালক ও পার্চাম পার্টির জোটের কাছে। এই দুই দল আসলে একসময় ‘পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টি’ নামের একটি দলেই ছিলো, যারা বিভক্ত হয়ে দুই নাম নেয়। এরা মতাদর্শের কারণেই সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে ঘনিস্ট সম্পর্ক গড়ে তোলে এবং ব্যাপক ভূমিসংস্কার ও সামাজিক সংস্কার কাজে হাত দেয়।

আফগানিস্তানের সামন্তবাদী স্বার্থ ও পিতৃতান্ত্রিক শক্তি এই সংস্কারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়, যার আসল নেতৃত্বে ছিলো জামাতে ইসলামী। এই ‘ইসলামী’ জোটের নাম মুজাহেদিন, যারা মূলত এই সংস্কার কর্মসূচির কারণে সরকারের বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রাম সংগঠিত করে। পেছনে ছিল মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ ও তাঁদের প্রপাগান্ডিস্টরা।

অন্যদিকে, সরকারি জোটের মধ্যেও সংকট দেখা দেয়। অবস্থা এমন দাঁড়ায় যে সরকার সহিংসতা দমনের জন্য সোভিয়েত সহায়তা চায়। প্রায় ৩০ হাজার সোভিয়েত সেনা চলে আসে, সরকারের আমন্ত্রণে। (মার্কিন যেভাবে ইনভেশন করে, এটা সেরকম নয়।) মোদ্দা কথা, আফগানিস্থানে আর্থসামাজিক সংস্কার কর্মসূচির বিরুদ্ধে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ ও স্থানীয় চরম প্রতিক্রিয়াশীল শক্তি যেমন জামায়াতে ইসলামী ও অন্যান্য ইসলামী শক্তি ঐক্যবদ্ধ হয়। যে কারণে, পরে জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় এসেছিলো। মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ যেকোনো প্রগতিশীল আর্থসামাজিক সংস্কারের বিপক্ষে, সারা দুনিয়াতেই। সামরিক কৌশল ব্যবহার করে রেজিমচেঞ্জ করাই তাদের কাজ। যেমন চিলির আলেন্দে সরকারকেও উচ্ছেদ করা হয়েছিলো।

দ্বন্দ্বের রাজনৈতিক চরিত্রকে বাদ দিয়ে, অমুকে কম খারাপ আর তমুকে বেশি খারাপ, কোনো বিশ্লেষণ নয়। আর হত্যার কথাই যদি বলি, মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের নেতৃত্বে পুঁজিবাদ প্রতিদিন ২৫ হাজারের বেশি মানুষ না খাইয়ে কাঠামোগত হত্যা করছে। মানুষের জীবন নিয়ে ন্যূনতম চিন্তা থাকলে, এই অব্যাহত কাঠামোগত হত্যার বিরোধিতা করুন। রাশিয়া বা চীনের সঙ্গে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের তুলনা কেবল অতিসরল (নাইভ) অজ্ঞতা নয়, মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের চরম প্রতিক্রিয়াশীল সভ্যতাবিরোধী আগ্রাসী ভূমিকার পরোক্ষ সমর্থনও।

সর্বাধিক পঠিত