প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ইমরান আহমেদ ভূইয়া: আমরা আজ দায়িত্ব ভুলে কেবল অধিকার চাই

ইমরান আহমেদ ভূইয়া: আমরা আজ দায়িত্ব ভুলে কেবল অধিকার চাই। পশ্চিমা’দের কাছ থেকে ধার করা এই অধিকার তত্ত্ব আমাদের’কে নিজ দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিয়ে অধিকার প্রাপ্তি’ তেই আনন্দ দেয়। অথচঃ ওরাও যে অধিকার দেওয়ায় সচেতন তা মোটেও নয়। নজীর বর্তমান পৃথীবিতেই; ১৫ বছরের একটি মেয়ে শামিমা যে সিরিয়ায় গিয়েছিল পাকে-চক্রে পরে সে এখন রাষ্ট্র হীন। ব্রিটেন তার নাগরিকত্ব হরন করেছে যে কিনা জন্মসূত্রে ব্রিটিশ নাগরিক! আহারে পশ্চিমা বিশ্ব তারাই আমাদের’ কে সভ্য হওয়ার দীক্ষা দেয়, অধিকার বিষয়ক লেকচার ঝাড়ে আর মানবিকতার দোহাই দেয়। কি হত; যদি আমাদের প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব ভুলে অধিকার দেখাত। অধিকার তো আমাদের ছিলই ১০ লক্ষ আদম সন্তান কে দেশে প্রবেশ করতে না দেওয়ার। জীবন্ত কয়েক হাজার শিশু না’হয় পুড়ে মরতো তাতমাদাও এর আগুনে, হত’নাহয় কয়েক লক্ষ নারী শিশু ধর্ষিত; গুলি, বেয়নেট, গ্রেনেড ছোরায় মরতো না হয় লক্ষ লক্ষ অশিক্ষিত রোহিঙ্গা! দায়িত্ব নিয়ে আশ্রয় দিলেন; নিশ্চিত রক্ষা করলেন লক্ষ লক্ষ মানুষের প্রান, বিনিময়ে এদেশীয় নিন্দুকেরা বললো নোবেল শান্তি পুরষ্কারে’র আশায় তিনি আশ্রয় দিয়েছিলেন! এই যে শান্তিতে নোবেল পুরষ্কার, এটা কারা পেয়েছিল? নাম গুলো একটু চোখ বুলিয়ে দেখলে কিছু নাম দেখে রীতিমত ভীরমি খেতে হয় যুক্তরাষ্ট্রের হেনরি কিসিঞ্জার, বারাক ওবামা, ইসরাইলের বেগিন, সাইমন পেরেস, আইজাক রবিন, অংসান সুকি এরা প্রত্যেকেই বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠায় অবদান স্বরুপ নোবেল শান্তি পুরষ্কার পেয়েছেন। আর প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত নাম গুলো দেখলে মনে হয় নিজের করা সংগঠন থেকে নিজেই পুরস্কার নিচ্ছেন। আপনারা পুরস্কারের আশায় থাকুন, অধিকার নিয়ে চেঁচান সমস্যা নেই কিন্তু নিজের দায়িত্ব টাও একটু বুঝুন।
সাংবাদিকদের অধিকার, শিক্ষকদের অধিকার, আইনজীবীদের অধিকার, সংসদ সদস্যদের অধিকার এত শত অধিকার; অধিকার হরন তুমুল আলোচনা, টকশো, পত্রিকায় ঝাঝালো কলাম আর চায়ের দোকানের ঝড়ে হারিয়ে যায় দায়িত্ব। যদি এমন হত আপনার এক একটি অধিকার আপনি হারাবেন এক একটি দায়িত্বে অবহেলা’র কারনে নিশ্চিত ভাবেই হাইকোর্টে রীট মামলা’র আকাল পড়ে যেত। যে শিক্ষক নিয়মিত ক্লাস নেয়না কোন নৈতিক অবস্থানে থেকে সে চাকুরী সংক্রান্ত অধিকার দাবী করে, যে আইনজীবী বার কাউন্সিলে’র রুলস ভঙ্গ করে ক্লায়েন্টের জমি বাড়ি আত্মসাৎ করে সে কিভাবে মৌলিক অধিকার বলবৎকরনের কথা বলে, যে সাংবাদিক তথ্য নিয়ে রিপোর্ট গোপন করে-কোন নৈতিক অবস্থান থেকে সে নিশ্চিত হয় তাকে গুপ্তচর বলা যাবে না।
আজম খানের একটা গান ছিল “আমার এক দিকে সমুদ্র অন্যদিকে মরুভূমি, মাঝ খানে বিরাট প্রশ্ন হয়ে মুখোমুখি দাড়িয়ে তুমি” আমাদের অবস্থা অনেকটা সেরকম একদিকে “অধিকার” অন্যদিকে “চিৎকার” মাঝখানে গ্রেফতার “দায়িত্ব”।

উৎসর্গঃ এলাহাবাদ হাইকোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি এস.এস. দাভান এর আর্টিকল “Secularism in Indian Jurisprudence”
(লেখক ডেপুটি এটর্নি জেনারেল)

 

সর্বাধিক পঠিত