প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

চেয়ারম্যানকে তালাক দিয়ে প্রেমিককেই ‘বিয়ে’ করল সেই কিশোরী

ডেস্ক রিপোর্ট: বিয়ের এক দিন না যেতেই পটুয়াখালীর বাউফলের কনকদিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা শাহীন হাওলাদারকে (৬০) তালাক দিয়েছে নাজনিন আক্তার (১৪)। গত শনিবার সন্ধ্যায় তাকে তালাক দেয় নাজনিন। এরপর গতকাল রবিবার সকালে প্রেমিক রমজানকে (২৫) বিয়ে করে।

এ বিষয়ে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন হাওলাদার বলেন, ‘নাজনিন তার প্রেমিকের কাছে ফিরে গিয়ে সুখে থাকতে চায়। আমি জোর করে কারও সঙ্গে সংসার করতে চাই না। বিয়ের পর আমার ঘরেই ছিল। শনিবার কাজী ডেকে নাজনিনের কাছ থেকে তালাকনামা নিয়েছি।’ সূত্র : দেশ রূপান্তর

চেয়ারম্যানের ঘনিষ্ঠজনরা জানান, অসম বিয়ে নিয়ে এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়। সামাজিক ও পারিবারিক চাপে পড়ে তিনি বিয়ে ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

নাজনিন জানায়, আজ (গতকাল) সকালে রমজানের সঙ্গে তার বিয়ে হয়েছে। এখন দুজন কুম্ভখালী গ্রামে রমজানের মামা বাড়িতে অবস্থান করছে। সে বলে, ‘আমি নিজের সিদ্ধান্তে চেয়ারম্যানকে বিয়ে করেছি। আমিই তাকে তালাক দিয়েছি। রমজান আমার জন্য আত্মহত্যা করতে চেয়েছিল। তাকেই আমি বিয়ে করেছি। এখন তাকে নিয়েই সংসার করতে চাই।’

বাউফলের উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাকির হোসেন জানান, খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। বাল্যবিয়ের ঘটনা হলে চেয়ারম্যানকে শাস্তি পেতে হবে।

জানা গেছে, চলতি বছরের মে মাসে নাজনিনের সঙ্গে তার অমতে উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের তাঁতেরকাঠি গ্রামের গার্মেন্টকর্মী সোহেলের বিয়ে হয়। নাজনিনের সঙ্গে তার গৃহশিক্ষক রমজানের প্রেম ছিল। এ নিয়ে সোহেল, নাজনিন ও রমজানের পরিবারে দ্বন্দ্ব চলছিল। গত শুক্রবার তিন পরিবার চেয়ারম্যান শাহীন হাওলাদারের কাছে মীমাংসার জন্য যান। সালিশ বৈঠকে সোহেল ও নাজনিনের বিয়ে বিচ্ছেদ করান চেয়ারম্যান। এরপর নাজনিন রমজানের সঙ্গে সংসার করতে চায়। কিন্তু নাজনিনকে পছন্দ হওয়ায় চেয়ারম্যান নিজেই তাকে বিয়ে করেন। আর সালিশে এমন বিচার পেয়ে প্রেমিক রমজান আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।

শাহিন হাওলাদার গত ২১ জুন অনুষ্ঠিত ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তার প্রথম স্ত্রী আছেন। সেই সংসারে তাদের এক ছেলে ও এক মেয়ে আছে। ছেলে বিবাহিত।

সর্বাধিক পঠিত