প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আরামকোর পাইপলাইনে চীন-সৌদির ১২.৪ বিলিয়ন বিনিয়োগ

রাশিদ রিয়াজ : চীনের সিল্ক রোড ফান্ড এবং সৌদি আরবের হাসানা ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানির যৌথ উদ্যোগে আরামকোর এ পাইপলাইনে বিনিয়োগ হচ্ছে। কোভিড মহামারী ও তেলের দর পড়ে যাওয়ার পর আরামকো বছরে যে ৭৫ বিলিয়ন ডলারের লভ্যাংশ প্রদান করত তা ফের অর্জনে নতুন এই বিনিয়োগ সহায়ক হবে বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা। পুরো কনসোর্টিয়ামিটির নেতৃত্ব দিচ্ছে মার্কিন ফার্ম ইআইজি গ্লোবাল এনার্জি পার্টনার্স এলএলসি। এ ধরনের যৌথ বিনিয়োগে আবুধাবি সভরেইন ওয়েলথ ফান্ড মুবাদালা ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি ও সামসাং এ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট জড়িত আছে। বিনিয়োগের মাধ্যমে আরামকো এ পাইপলাইনে ২৫ বছর ধরে অপরিশোধিত তেল সরবরাহ করবে। আরামকোর এ বিনিয়োগে ৫১ শতাংশ মালিকানা রয়েছে। ব্লুমবার্গ

ইআইজি বলছে এধরনের বিনিয়োগ ভবিষ্যতে মধ্যপ্রাচ্যে চীন, কোরিয়া, সৌদি আরব, আমিরাত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আরো বড় ধরনের যৌথ বিনিয়োগে উৎসাহ যোগাবে। এমনকি এ বিনিয়োগ উত্তর আমেরিকা, এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের বিনিয়োগকারীদের যৌথ বিনিয়োগে উৎসাহী করে তুলবে। দীর্ঘমেয়াদি এমন বিনিয়োগে আন্তর্জাতিক কনসোর্টিয়ামগুলো বরং আরো সক্রিয়া হয়ে ওঠার চেষ্টা করবে। আরামকোর প্রেসিডেন্ট ও সিইও আমিন এইচ নাসের বলেন এ বিনিয়োগ একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক যা আরামকোর সম্পদের মূল্য প্রতিফলিত করে এবং আমাদের নেতৃস্থানীয় সক্ষমতা পুঁজি করার এবং সৌদি আরবের কাছে সঠিক ধরণের বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার সুযোগগুলি অন্বেষণের পরিকল্পনা অব্যাহত রাখার পরিকল্পনায় সাহায্য করবে। মার্কিন কনসোর্টিয়াম কোম্পানি ইআইজির চেয়ারম্যান ও সিইও আর ব্লেয়ার থমাস বলেন আমরা বিশ্বাস করি যে এটি বিশ্বব্যাপী সুস্পষ্ট অবকাঠামোগত লেনদেন এবং এটি দেখে আমরা আনন্দিত যে অনেক শীর্ষস্থানীয় আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারী আমাদের সাথে একমত হয়েছেন। তবে এধরনের বিনিয়োগ আরামকোর অপরিশোধিত তেল উৎপাদনের ওপর কোনও বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারবে না কারণ তা সৌদি আরবের কিংডম কর্তৃক গৃহীত সিদ্ধান্ত সিদ্ধান্তের অধীন।

একসময় আরামকো ছিল বিশ্বের সবচেয়ে লাভজনক কোম্পানি। সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল সংস্থা আরামকো শেয়ার বিক্রির জন্য তাদের যে প্রাথমিক মূল্যায়ন করে, তাতে আইপিওর মূল্য দাঁড়ায় ১ লাখ ৭০ হাজার কোটি ডলার। সংবাদ মাধ্যমে এমন রিপোর্ট বের হয় যে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান চাইছিলেন, আরামকোর দাম ২ লাখ কোটি ডলার পর্যন্ত উঠুক। কিন্তু এরপর বিশে^ কোভিড মহামারী পরিস্থিতি সবকিছু পাল্টে দেয়। কোভিডের আগে আরামকো তাদের ১ দশমিক ৫ শতাংশ শেয়ার বিক্রি করে ২ হাজার ৫শ কোটি ডলার আয় করতে চায় এবং এই শেয়ার বিক্রির প্রাথমিক তথ্য দিয়ে একটি প্রসপেক্টাস বের করে কোম্পানিটি। এতে প্রতিটি শেয়ারের দাম ধরা হয়েছিল ৩০ থেকে ৩২ রিয়াল পর্যন্ত অর্থাৎ ৮ থেকে সাড়ে ৮ মার্কিন ডলার। কিন্তু কোভিড মহামারিতে বিশ্বজুড়ে লকডাউনে পড়ে জ্বালানি তেলের বাজার। তার ধাক্কা লেগেছে সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি সৌদি আরামকোর ব্যবসায়। গত বছর তাদের আয় ২০১৯ সালের তুলনায় প্রায় ৪৫ শতাংশ কমেছে। অথচ মন্দার বছরেও ৪ হাজার ৯০০ কোটি ডলার (৪৯ বিলিয়ন ডলার) মুনাফা করেছে আরামকো এমন রেকর্ডও রয়েছে। কোম্পানিটি গত বছর ছিল সাম্প্রতিক ইতিহাসের সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং বছরগুলোর একটি।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত