প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বাতেন মোহাম্মেদ: জনগণের একটা অংশ নিখোঁজ হয়ে যাচ্ছে, অথচ রাষ্ট্র নির্বিকার!

বাতেন মোহাম্মেদ: ঘটনা যেদিকে যাচ্ছে তাতে মনে হচ্ছে পরীমনির অভিযোগের ব্যাপারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর। এতে আশার কথা হচ্ছে তিনি হয়তো একধরনের বিচার পাবেন। যার বিরুদ্ধে অভিযোগ তাকে পুলিশ মাদক ও নারীসহ গ্রেফতার করেছে। একটা ব্যাপার আমার মাথায় ঢুকে না নারীসহ গ্রেফতার। নারী কি পণ্য? মাদক সহ গ্রেফতার বুঝলাম, নারী সহ গ্রেফতার মানে কি নারী অবৈধ কোনো পণ্য? যাই হোক আমাদের সাংবাদিকরা আরও প্রশিক্ষিত হোক, সেনসেটিভ হোক শব্দ প্রয়োগ ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে।

দ্বিতীয় প্রসঙ্গে আসি, আবু ত্বহা আদনান নামের ধর্মীয় বক্তার নিখোঁজ নিয়ে। এই তরুণ ধর্মীয় বক্তার নিখোঁজের ব্যাপারে কী অগ্রগতি তা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর তরফে খুব একটা জানা যায় না। এমনকি মিডিয়াও ঠিকমতো তথ্য দিতে পারছে না। যেহেতু ঘটনা গুমের, তাই স্বাভাবিক ভাবেই তথ্যের অপ্রতুলতা থাকবেই। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর দৃশ্যমান তৎপরতা থাকবে না, সেটা নাগরিক হিসাবে মেনে নেওয়া যায় না। সত্যি বলতে কি এই ধর্মীয় বক্তা সম্পর্কে আগে তেমন কিছু জানতাম না। গত কয়েকদিন তাকে নিয়ে আলোচনার প্রেক্ষিতেই তার বিভিন্ন বয়ান/বক্তৃতা ও ওয়াজ শোনার চেষ্টা করলাম। কিন্তু সরকার যেসব ব্যাপারে পলিটিক্যালি সেনসেটিভ সেসব ব্যাপারে তাকে কথা বলতে শুনিনি। এই যেমন বঙ্গবন্ধু, ভারত, মোদী। তাই সরকার তাকে গ্রেফতার করেছে কিনা সেটা আচ করা কঠিন। তার বক্তব্যে তেমন কোনো ধর্মতাত্ত্বিক ব্যাখ্যা পাইনি, যা আমাদের জানা ছিলো না। ঘুরেফিরে সেই কমন ন্যারেটিভগুলোই- দাজ্জাল, শেষ জামানা, পৃথিবী ধ্বংস, কেয়ামত সন্নিকটে। ইহুদী ও ইসরায়েল নিয়ে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের মাঝে যেসব অর্ধসত্য মিথ প্রচলিত সেগুলোই বলতে শুনলাম। মদিনার ইহুদীদের নিয়েও সেই একই অসমর্থিত ন্যারেটিভ। তবে তালেবানদের মুক্তিকামী মুজাহিদ হিসেবে উপস্থাপন করে যে ব্যাখা তিনি দেওয়ার চেষ্টা করলো, তাতে তার প্রজ্ঞার ও রাজনৈতিক জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা প্রকাশ পেলো শুধু।

তবুও তার ভালো দিক হচ্ছে সুন্দর কণ্ঠে পরিশীলিতভাবে তথ্য উপস্থাপন। কণ্ঠে উত্তেজনা না এনেও দৃঢ়ভাবে বক্তব্য উপস্থাপনের ভঙ্গি ও চিত্তাকর্ষক। তাছাড়া আধুনিক প্রজন্মকে আকৃষ্ট করতে মাঝে মাঝে ইংরেজি শব্দের ব্যবহার ও চমকপ্রদ। তাই এই ধরনের একজন ধর্মীয় বক্তা জনপ্রিয়তা পাওয়াটা স্বাভাবিক। শুধু তালেবানদের পক্ষে এই বক্তৃতা বাদ দিলে তার বাকি বক্তব্যগুলো আমার কাছে উগ্র মনে হয়নি। এটা সত্য আমার সামান্য পড়াশোনার সঙ্গে তার ব্যাখা মিলে না, কিন্তু তবুও বলবো তার এসব ব্যাখাই সমাজে প্রচলিত এবং এগুলোই ইসলামী ন্যারেটিভ হিসেবে যুগ যুগ ধরে চলে আসছে। এমন একজন উদীয়মান ধর্মীয় বক্তা তাহলে কী কারণে নিখোঁজ হলো সেটা আসলেই ভাববার বিষয়। এই বক্তার স্ত্রীর একটা বক্তব্য শুনলাম। ভদ্র মহিলা খুব মার্জিতভাবে সুন্দর করে গুছিয়ে কথা বলেন। তার স্বামীকে তিনি যেকোনো মূল্যে ফেরত চান। আমিও তার সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করছি। এটা রাষ্ট্রের দায়িত্ব, যেকোনো মূল্যে জনাব আদনান কে খুঁজে বের করা। তার কোনো বক্তব্যে যদি আইন বহির্ভূত উপাদান থাকে তাহলে প্রচলিত আইনে বিচার করতে পারে সরকার। কিন্তু একজন মানুষ গুম হয়ে যাবে, এটা আধুনিক সমাজে কোনোমতেই গ্রহণযোগ্য না। আবু ত্বহা আদনানকে যেকোনো মূল্যে সুস্থভাবে তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করুক সরকার। তাকে খুঁজে বের করুক। যেহেতু সে সুপরিচিত ধর্মীয় বক্তা তাই এমন একজন মানুষ যদি সবার সামনে নিখোঁজ হয়ে যায়, তবে সেটা সমাজ ও আইনের প্রতি আসলেই অশনিসংকেত। এর আগে বিএনপির ইলিয়াস আলী এভাবে নিখোঁজ হয়ে গেছে। তাছাড়াও অনেক বিরোধী দলের সমর্থকের গুম হওয়ার তথ্য তাদের পরিবার দাবি করে। এসবের গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা সরকার কিংবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী কখনো দিতে পারেনি। কী ভয়ংকর! একটা রাষ্ট্রের অপরিহার্য উপাদান জনগণ। আর জনগণের একটা অংশ নিখোঁজ হয়ে যাচ্ছে, কিন্তু রাষ্ট্র নির্বিকার, এর মতো চরম অসভ্যতা আর কী হতে পারে? ফেসবুক থেকে

 

সর্বাধিক পঠিত