প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] করোনা সংক্রমিত এলাকায় জনসম্পৃক্ততা বাড়িয়ে লকডাউন কার্যকর করতে হবে: অধ্যাপক কামরুল হাসান খান

আব্দুল্লাহ মামুন: [২] বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক কামরুল হাসান খান বলেন, সীমান্তবর্তী এলাকা গুলোতে যে লকডাউন দেওয়া হচ্ছে সেটি কঠোরভাবে পালন করা হচ্ছে। লকডাউন বলতে আমরা যেটি জানি যেমন- নিউইয়র্কে কারফিউ জারি করা হয়েছিলো, কারফিউ জারি বলতে যে মানুষ যোগাযোগ বা ঘর থেকে বের হতে পারবে না তা নয়, স্বাস্থ্যবিধি মেনে সবকিছু করতে পারবে।

[৩] তিনি আরও বলেন, যেখানেই লকডাউন দেওয়া হয়েছে সেখানে যে মানুষকে ঘরবন্ধি করা হয়েছে তা নয়, একরকমের স্বাস্থ্যবিধিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এবং মানুষকে ঘর থেকে বের না হতে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে।

[৪] ডা.কামরুল হাসান খান বলেন, করোনা মহামারি প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা লকডাউন স্থায়ি কোনো ব্যবস্থা নয়। তবে লকডাউন মানার ক্ষেত্রে অব্যবস্থাপনা সকল দেশেই আছে, অর্থাৎ কোনো দেশের জনগণ লকডাউন মানে না, মানাতে হয়। কার্যকর লকডাউনে প্রধান কার্যকরী ব্যবস্থা হলো জনসম্পৃক্ততা, মানুষ যখন নিজে থেকে এগিয়ে আসবে তখনই কার্যকর লকডাউন বাস্তবায়ন সম্ভব।

[৫] তিনি আরও বলেন, অনেক দেশে লকডাউন না দিয়েও সঠিক ভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধ করেছে। করোনা নিয়ন্ত্রণে আমাদের দুর্বলতা ও নিয়ন্ত্রণে আমাদের নেতৃত্বের দুর্বলতা রয়েছে। আমরা সত্যিকার অর্থে কার্যকর লকডাউন করতে চাইলে শুধু আইন করে বা প্রয়োগের মাধ্যমে হবে না।

[৬] ডা. কামরুল হাসান খান বলেন, মানুষকে সম্পৃক্ত করতে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের জানাতে হবে, আলোচনা করতে হবে, জনপ্রতিনিধীদের ধাপে ধাপে জেলা, মহানগর, ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা চেয়ারম্যানসহ সকল প্রতিনীধিদের সম্পৃক্ত করতে হলে জনপ্রতিনীধিদেরই এগিয়ে আসতে হবে। এছাড়া বিভিন্ন সামাজিক, সেচ্ছাসেবক সংগঠন আছে তাদরেও সম্পৃক্ত করে সমন্বয় বাড়াতে হবে। সমন্বিত প্রচেষ্টা ছাড়া কোনো কার্যকর লকডাউন কোনো দেশই সম্ভব না, মানুষকে উৎসাহ করতে হবে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে।

[৭] তিনি আরও বলেন, এখন করোনা পরীক্ষাও খুব বেশি হচ্ছে না, কিন্তু পরীক্ষার সুযোগ আগের তুলনায় আনেক বেড়েছে। কোভিড পরীক্ষায় ৫১২টি কেন্দ্রে করা হয় কিন্তু মানুষ সেই তুলনায় রোগ নির্ণয় করতে আসছে না। এছাড়া চিকিৎসা, আইসোলেশন, ভ্যাকসিন সবকিছু সম্মিলিত ভাবে সমন্বয় করে করতে হবে।

[৮] ডা.কামরুল হাসান বলেন, লকডাউনের সময় বৃদ্ধি বৈজ্ঞানিক ভাবে নির্দেশনার মাধ্যমে করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসলে লকডাউন বৃদ্ধি করতে হবে। অন্যথায়, পর পর দুই সপ্তাহ সংক্রমণ ৫ শতাংশের নিচে থাকলেও তা স্বাভাবিক বলে বিবেচনা করা হয়। ইতোমধ্যে ভারত নিয়ন্ত্রণে এনেছে কিছুটা, আজ ৯দিনে ধরে ৫ শতাংশের নিচে করোনা সংক্রমণের হার। সম্পাদনা: মেহেদী হাসান