শিরোনাম
◈ তেল-গ্যাসে মধ্যপ্রাচ্যের ওপর বাংলাদেশের নির্ভরতা কতটা ◈ যুদ্ধবিরতিতে রাজি ইরান, সামনে তিন শর্ত ◈ উত্তর ইসরায়েলে তীব্র হামলা: ইরান-হিজবুল্লাহর ১০০ রকেট নিক্ষেপের দাবি ◈ রাশিয়া থেকে জ্বালানি তেল কিনতে যুক্তরাষ্ট্রের অনুমতি চেয়েছে বাংলাদেশ ◈ স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় র‌্যাবের ওপর হামলা ◈ নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করবেন কে? নানা আলোচনা ◈ স্বাভাবিক হয়নি ভোজ্যতেলের বাজার ◈ সিঙ্গাপুর থেকে জ্বালানি নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে ‘লিয়ান হুয়ান হু’ ◈ সহ আ‌য়োজক যুক্তরা‌স্ট্রে ইরান বিশ্বকাপ খেলবে না, জানালেন ক্রীড়ামন্ত্রী ◈ বিদ্যুৎ–জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ব্যাংকের জন্য কঠোর নির্দেশনা জারি

প্রকাশিত : ০৯ জুন, ২০২১, ০৬:০৬ বিকাল
আপডেট : ০৯ জুন, ২০২১, ০৬:০৬ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

আহমেদ রফিক: আপনি কি সুন্দর ?

আহমেদ রফিক: আমি কি সুন্দর ? উঠতি বয়সে এই প্রশ্নটা মনে জেগে ওঠেনি এমন মানুষ নেই। একটু খেয়াল করলেই দেখবেন বিনোদন ও মিডিয়া জগত এবং ফ্যাশন হাউসগুলো সাধারণত টার্গেট করে থাকে উঠতি বয়সের ছেলে মেয়েদের। এই বয়সের ছেলেমেয়েরা নিজেকে প্রকাশ করতে আগ্রহী হয়ে থাকে।

পৃথিবীতে নিজের অবস্থান খুঁজে বের করতে চায়। এই বয়সের ছেলেমেয়েরা নিজেকে ক্যাটরিনা কাইফ, অ্যাঞ্জেলিনা জোলি টম ক্রুজ, কিংবা জাস্টিন বিবারের মতো ভাবতে চায়। সে বুঝতে চায় আশেপাশের সবাই নিদেনপক্ষে তার পছন্দের মানুষটি তার প্রতি মুগ্ধ কিনা। এর জন্য সে অনেক কিছুই করতে প্রস্তুত থাকে।

এই উঠতি বয়সের ছেলেমেয়েদের দুনিয়ার প্যাঁচঘোচ ও জটিলতা সম্পর্কে ভালো ধারণা থাকে না। বয়সের কারণে সবাইকে বিশ্বাস করার প্রবণতা বেশি থাকে। এই সুযোগটাই নেয় বিনোদন জগতের ছদ্দবেশী পশুগুলো। অনভিজ্ঞ হওয়ায় প্রতারিত হলেও শক্ত প্রতিবাদ করতে পারে না।

উঠতি বয়সের ছেলে মেয়েদের এই চাহিদা মেটাতে বিনোদন ও মিডিয়া জগত নানাভাবে তাদেরকে আরো সুন্দর ও আকর্ষণীয় বানিয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখায়। অথচ ফ্যাশন ম্যাগাজিন গুলিতে আমরা যে সমস্ত মডেলকে নানা রংচং মেখে নানান ভঙ্গিতে শুয়ে বসে থাকতে দেখি তা পুরোপুরি বাস্তব নয়।

কয়েক ঘণ্টার মেকআপ ও কম্পিউটারে ফটোশপ ছাড়া ওই মডেল বাস্তবে আশেপাশের আর দশটা মানুষের মতোই। এইসব কৃত্রিমতার সাহায্যে আপনার মগজে সৌন্দর্যের একটা আরোপিত সংজ্ঞা কৌশলে রোপন করে দেওয়া হয়। বাস্তবে সৌন্দর্যের সংজ্ঞা প্রতিটা মানুষেরই একান্ত ব্যক্তিগত।

সৌন্দর্যের সংজ্ঞা সাতশো কোটি মানুষের কাছে সাতশো রকম হতে পারে। ফ্যাশন ম্যাগাজিন গুলি তাদের নির্ধারিত কৃত্রিম সৌন্দর্য দেখিয়ে আপনার মনে একটা পরাবাস্তব চাহিদার সৃষ্টি করে কেন আমি ওই মডেলটির মত নই। অথচ আপনার মনেই থাকে না সমস্ত কৃত্রিমতা ছাড়া ঐ মডেলটি পুরোপুরি আপনার মতই।

কিন্তু আপনি প্রশ্ন তুলতেই পারেন তবে কি ঐশ্বরিয়া রায়ের মত সৌন্দর্যের অস্তিত্ব নেই ? সবই কি কৃত্রিম মানবী ? আপনাকে অবশ্যই ভেবে দেখতে হবে পৃথিবীতে কতজন ঐশ্বরিয়া রায় আছে আর কতজন খাটো মেয়ে আছে, কতজন একটু দাঁত উঁচু মেয়ে আছে। অধিকাংশকে আড়াল করে অল্প কিছু মডেলকে এসব ম্যাগাজিনে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয় যেন ঐশ্বরিয়া রায় বা টম ক্রুজ হতে না পারলে আপনার জীবন বৃথা।

এর ফলে সমাজে তৈরি হয়েছে এক ধরনের অস্থিরতা। "তুমি ঐশ্বরিয়ার মতো নয় মানে আচ্ছূৎ" বা "আমি টম ক্রুজের মত নই মানে আচ্ছূৎ" নামক ভয়াবহ সামাজিক ও মানসিক ব্যাধি। এই ব্যাধি আমাদেরকে এমনভাবে আচ্ছন্ন করে ফেলেছে যে আমরা ধরেই নিয়েছি বিয়ে করতে হলে সুন্দর মুখ লাগবে, চাকরি পেতে হলে সুন্দর মুখ লাগবে, রেস্টুরেন্টে বা কোন দাওয়াতে গেলে আটা ময়দা সুজি মেখে বসে থাকতে হবে।

কালো হয়ে জন্মানো অপরাধ না। নিজের কৃষ্ণবর্ণকে অভিশাপ মনে করা বা আয়নার সামনে বসে নীরবে কান্না করাটাই অপরাধ। নিজেকে শুধু প্রশ্ন করুন -- "আমি কি আমাকে ভালোবাসি ?" এর উত্তর যদি হ্যাঁ হয় তবে পৃথিবীর সকল সংজ্ঞার বিপরীতে গিয়েও আপনি সুন্দর।

সর্বাবস্থায় নিজেকে ভালবাসুন, নিজের উপর আস্থা রাখুন, হাসিখুশি উচ্ছল থাকুন। সাহস করে এটুকু করতে পারলেই দেখবেন আপনার ফ্যাশন এক্সপার্ট লাগছে না। আপনার সৌন্দর্য এমনিতেই ফুটে উঠেছে। আর সবার কাছে আপনি হয়ে উঠেছেন এক আকর্ষণীয় ঈর্ষার পাত্র-পাত্রী। (লেখকের ফেইসবুক পোষ্ট থেকে সংগৃহিত)

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়