প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মাসুদ রানা: নিউ-বাকশালিজম ও ইসলামো-লেফটিজম

মাসুদ রানা: বাংলাদেশ শাসন করছে ফ্যাশিবাদের বাংলাদেশী সংস্করণ ‘নিউ বাকশালিজম’ বা ‘নয়া বাকশাল’। কিন্তু ইসলামো-লেফটিস্ট বা ইসলামীবামেরা আদর্শগতভাবে এর বিরুদ্ধে কথা না বলে, আক্রমণ করছেন সেক্যুলারিজমকে। অথচ, নিউ-বাকশালিজম ইসলাম-বান্ধব ও ইসলাম-প্রোমৌটার। ইসলামীবামেরা হচ্ছেন সোভিয়েত-উত্তরকালে শক্তিহীন ও তেজহীন মার্ক্সবাদ থেকে কিছু ছেড়ে কিছু ধরে ইসলামে আশ্রয়প্রার্থী মার্ক্সবাদীদের কাফেলা। বাংলাদেশে এই কাফেলা বড়ো হচ্ছে, যদিও তা মূল ধারার রাজনীতির তুলনায় অতি তুচ্ছ। ইসলামীবামদের প্রতি বলছি, ইসলাম ধর্মের যদি এতোই আবেদন থাকে জনগণের রাজনৈতিক জীবনে যে ইসলামের কথা না বলে সমাজতন্ত্রের কথা বলা যায় না কিংবা মানুষ কথা শুনে না, তাহলে খামাকা ছদ্মবেশ ধরার দরকার কী? সরাসরি ইসলামী বিপ্লব তথা জিহাদের মাধ্যমে ইসলামী সাম্যবাদ কায়েমের কথা বলে রাজনীতি শুরু করুন!

সেক্যুলারিজমের কথা বলে তো বাংলাদেশে কোনো দলই রাজনীতি করে না। কেউ-কেউ হয়তো তথাকথিত অসাম্প্রদায়িকতার কথা বলেন, কিন্তু সেক্যুলারিজম বা ধর্মনিরপেক্ষতার কথা কারও মুখে আসে না। তো, সেক্যুলারিজমের পেছনে আপনাদের লাগার দরকার কী? নিজেদের হীনমন্যতা দূর করতে সেক্যুলারিজমের বিরুদ্ধে মনের মাধুরী মিশিয়ে কল্পগল্প করে আপনাদের নতুন অবস্থানের ন্যায্যতা দিতে চান? আপনাদের কাছেতো কেউ কফিয়ত চায়নি। আসলে সমগ্র জাতিরই চলছে আত্মপরিচয়ের সঙ্কট। কারণ, এ-জাতির একদিকে আছে ১৯৪৭-ভিত্তিক ধর্মীয় আত্মপরিচয় এবং ১৯৭১ সাল-ভিত্তিক বাঙালী আত্মপরিচয়, যা একটি ঐতিহাসিক কনফ্লিক্ট সৃষ্টি করে সঙ্কটের জন্ম দিয়েছে। আমার ধারণা, ইসলামীবামেরা বুঝে হোক না বুঝে হোক, ১৯৪৭ শিবিরে সমাবেশিত হচ্ছে। এই শিবির ধর্মনিরপেক্ষ বাঙালী আত্মপরিচয়ের বিরুদ্ধবাদী। কিন্তু এদের সমস্ত প্রচেষ্টা শক্তি যোগাবে একদিকে ইসলামী মৌলবাদীদের এবং অন্যদিকে হিন্দু মৌলবাদীদের।

০৪/০৬/২০২১। লণ্ডন, ইংল্যাণ্ড

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত