শিরোনাম
◈ গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যু নিশ্চিত ভেবেছিলেন, ‘মায়ের নাম্বারটা লেখেন’ বলার পর যা ঘটল ◈ শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে, জানাল ভারত সরকার ◈ ‘গো বিগ’ কৌশলে ইরানে বড় অভিযানের ছক যুক্তরাষ্ট্রের, দাবি ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের ◈ শ‌নিবার সা‌ফের ড্র, নি‌ষেধাজ্ঞা প্রত‌্যাহার হ‌লে নেপাল খেল‌বে বাংলাদেশ গ্রুপে  ◈ দেশে ধর্মের নামে বিভাজনের কোনো সুযোগ নেই: স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ◈ রাজধানীবাসীর জন্য আসছে আরও একটি মেট্রোরেল ◈ সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে কাল থেকে গণপরিবহনে বাধ্যতামূলক জিপিএস ◈ গঙ্গা পানিচুক্তি: বিলম্ব না করে বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনা শুরুর সুপারিশ ভারতের সংসদীয় কমিটির ◈ ক্যানসার ভ্যাকসিনে সফলতার দাবি রাশিয়ার, প্রথম রোগীর শরীরে কার্যকর প্রতিরোধ ◈ ভারত থেকে শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালাতে দেওয়া হবে না: সংসদীয় কমিটিকে ভারত সরকার

প্রকাশিত : ০৩ জুন, ২০২১, ০৭:৩৪ বিকাল
আপডেট : ০৩ জুন, ২০২১, ০৭:৩৭ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ইমাম খোমেইনী ছিলেন গোটা মানবজাতি ও মুসলিম বিশ্বের অমূল্য সম্পদ: ইরানি রাষ্ট্রদূত

অনলাইন রিপোর্ট: বাংলাদেশে নিযুক্ত ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মাদ রেজা নাফার বলেছেন, ইরানের ইসলামি বিপ্লবের রূপকার ইমাম খোমেইনী (রহ.)ছিলেন মুসলিম বিশ্বের এক অনন্য ব্যক্তিত্ব, যাঁর ব্যক্তিত্বের প্রভাব কেবল ইরানের ভৌগোলিক গণ্ডির মধ্যে আবদ্ধ ছিল না; বরং তিনি ছিলেন গোটা মানবজাতি এবং মুসলিম বিশ্বের অমূল্য সম্পদ।

ইরানের ইসলামি বিপ্লবের রূপকার ইমাম খোমেইনী (রহ.)-এর ৩২তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বৃহস্পতিবার বিকেলে ঢাকাস্থ ইরান সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের উদ্যোগে আয়োজিত ওয়েবিনারে তিনি এসব কথা বলেন। রাষ্ট্রদূত বলেন, ইমাম খোমেইনী (র.) ছিলেন একজন পারফেক্ট মানুষ, যিনি ধর্ম, দর্শন, নৈতিকতা, ইরফান এবং রাজনীতির সংমিশ্রণ ঘটিয়ে এমন এক রসায়ন তৈরি করেছিলেন যার স্বাদ মানুষ এর আগে কখনই পায়নি। ইমাম খোমেইনী ছিলেন তৎকালীন সময়ের অন্যতম অনন্য ব্যক্তিত্ব, যিনি বস্তুবাদ ও ধর্মবিদ্বেষের যুগে ধর্মের পুনর্জাগরণের পতাকা উড্ডয়ন করেছিলেন এবং বিশ্বব্যাপী এতটাই আলোড়ন তৈরি করেছিলেন যে, এই শতাব্দীর সাথে তাঁর পবিত্র নামটিই ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে গেছে।

অনুষ্ঠানে সাবেক নির্বাচন কমিশনার এবং নিরাপত্তা বিশ্লেষক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ইরানের বিপ্লব ছিল একটি নজিরবিহীন বিপ্লব, ইসলামের নামে এ ধরনের বিপ্লব আর দ্বিতীয়টি হয় নি। এ বিপ্লব সমগ্র বিশ্বের জন্য ছিল একটি বিস্ময়। যদিও ইরান একটি মুসলিম প্রধান দেশ ছিল, কিন্তু এর সংস্কৃতি হয়ে গিয়েছিল ইউরোপ-আমেরিকার মতো। ইমাম খোমেইনী ইসলামি বিপ্লবের মাধ্যমে এতে আমূল পরিবর্তন সাধন করেন। আর এতে জনগণের সমর্থন ও সহযোগিতাও ছিল ব্যাপক।

তিনি বলেন, ইমাম খোমেইনী অত্যন্ত জ্ঞানী ব্যক্তি ছিলেন। তিনি ছিলেন উদার দৃষ্টিভঙ্গির অধিকারী। ইসলামি বিপ্লবের পর ইরানে ইহুদি, খ্রিস্টান ও অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের স্বাধীনভাবে ধর্মপালন এর প্রমাণ বহন করে। তিনি বলেছিলেন, আমরা ইহুদিদের বিরোধী নই, তবে আমরা যায়নবাদীদের বিরোধী।

বর্তমান ইরানের কথা উল্লেখ করে জনাব সাখাওয়াত বলেন, ইরান একটি আধুনিক ও শক্তিশালী রাষ্ট্র। ইরানের অবকাঠামোগত অগ্রগতি ইউরোপের চেয়ে কোন অংশে কম নয়। ইরান একটি পরিচ্ছন্ন দেশ। একটি দেশের উন্নতির জন্য যা প্রয়োজন সকল কিছু ইরানে বিদ্যমান। ইরানে নারী নিরাপত্তার বিষয়টি লক্ষ্যণীয়। অনেক রাতেও নারীরা নিরাপদে চলাচল করতে পারে। ইরানে দুর্নীতি নেই বললেই চলে। ইরানিরা খুবই উন্নত সংস্কৃতির অধিকারী। বিপ্লবকে টিকিয়ে রাখার ক্ষেত্রে তাদের মধ্যে প্রচণ্ড চেতনা কাজ করে।

তিনি আরো বলেন, ইরানিরা তাদের অতীত ইতিহাসকে মুছে ফেলেনি। তারা সেগুলোকে সংরক্ষণ করে রেখেছে। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. কে এম সাইফুল ইসলাম খান, খুলনায় অবস্থিত ইসলামিক শিক্ষা কেন্দ্রের প্রিন্সিপাল হুজ্জাতুল ইসলাম সৈয়দ ইব্রাহীম খলিল রাজাভী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. আবু মূসা মো. আরিফ বিল্লাহ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন, বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদ হুজ্জাতুল ইসলাম সাইয়্যেদ আফতাব হোসাইন নাকাভী এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোঃ নূরে আলম। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশে অবস্থিত ইরান দূতাবাসের সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের কালচারাল কাউন্সেলর ড. সাইয়্যেদ হাসান সেহাত। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন ড. আব্দুল কুদ্দুস বাদশা।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়