প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ক্যামেরার বাইরে মেহজাবিনের দুই মাস, বললেন সময়টা আমার জন্য অনুকূল ছিল না(ভিডিও)

বিনোদন ডেস্ক: ইন্ডাস্ট্রির শীর্ষ তারকা হয়েও দুই মাস ক্যামেরার বাইরে থাকা বিরল অভিজ্ঞতা। যে তারকা প্রতি মাসে ১০টির মতো নাটক করেন, তার এতদিন কাজের বাইরে থাকার বিষয়টি আলোচিত হওয়ার মতো ঘটনা। বলছি, এ সময়ের টিভি নাটকের শীর্ষ অভিনেত্রী মেহজাবিন চৌধুরীর কথা। তিনি সর্বশেষ কাজ করেছিলেন ‘ব্লাড’ নামের একটি নাটকে। সেটি প্রায় দু-মাস আগে। এতদিন কাজের বাইরে থাকেন না এই তারকা। তবে বিরতির পর সম্প্রতি তিনি ফিরলেন শ্যুটিংয়ে। এ সপ্তাহেই ‘চিরকাল আজ’ নামে একটি নতুন নাটকের শ্যুটিং শেষ করেছেন তিনি।

মার্চে করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ে সংক্রমণ বাড়তে শুরু করায় শ্যুটিং বন্ধ করে দেন মেহজাবিন। সে প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সময়টা আমার কাছে জটিল মনে হচ্ছিল। দিন দিন মৃত্যু ও সংক্রমণের সংখ্যা বাড়ছিল। করোনায় আক্রান্ত হয়ে সেই সময় বেশ কয়েকজন কাছের মানুষকেও হারিয়েছি আমরা। হয়তো আমার অনেক সহকর্মী তখন কাজ করেছিলেন, আমি করতে চাইনি। সময়টা আমার জন্য অনুকূল ছিল না। তা ছাড়া সরকারের নির্দেশনাও ছিল যেন সবাই যার যার ঘরে থাকে।’

সম্প্রতি করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার কিছুটা কমে এসেছে। এই সময়কে আবার কাজে ফেরার উপযুক্ত মনে করেছেন মেহজাবিন। তিনি বলেন, ‘প্রায় ৫৪ দিন পর নাটকের শ্যুটিংয়ে ফিরলাম। এখন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু ও সংক্রমণের সংখ্যা অনেকটাই কমে এসেছে। ফলে কাজ শুরু করতে পারছি। এমন পরিস্থিতি থাকলে হয়তো শ্যুটিংয়ে নিয়মিত থাকা যাবে।’

অনেক দিন পর শ্যুটিংয়ে ফিরে কেমন লাগছে? মেহজাবিন বলেন, ‘দীর্ঘ সময় শ্যুটিংয়ের বাইরে ছিলাম। তা ছাড়া করোনা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও শঙ্কা রয়েই গেছে। মোট কথা, অনেক দিন পর শ্যুটিংয়ে ফিরে কাজ খুব চ্যালেঞ্জিং মনে হচ্ছে।’ বিরতির সময়টা কীভাবে কাটালেন জানতে চাইলে এই অভিনেত্রী বলেন, ‘কোথাও বের হইনি। বাসাতেই কাটিয়েছি। নিজের ইউটিউব চ্যানেলের জন্য কিছু কাজ করেছি। অনেক আগে কাজ বন্ধ করায় ঈদে আমার কোনো নতুন নাটক ছিল না। আগের শ্যুটিং করা ছয়টি নাটক প্রচারিত হয়েছে। বাসায় বসে নিজের সব কটি নাটক দেখেছি।’

নতুন শ্যুটিং শুরু করা মেহজাবিনের ‘চিরকাল আজ’ নাটকটির রচনা ও পরিচালনা ভিকি জায়েদের। উত্তরায় টানা তিনদিন এ নাটকটির শ্যুটিং হয়েছে। নাটকটিতে মেহজাবিনের বিপরীতে অভিনয় করেছেন আফরান নিশো। জানা গেছে, আগামী ঈদুল আজহায় একটি বেসরকারি চ্যানেলে দেখা যাবে নাটকটি।

ঈদুল ফিতরে টেলিভিশনে দেখা গেছে, মেহজাবিন অভিনীত ওই নাটকগুলো ছিল ‘নামকরণ’, ‘রাজা’, ‘মেরুন’, ‘আবার ভালোবাসার স্বাদ জাগে’, ‘ব্লাড’ ও ‘ক্রেডিট শো’। এগুলোর কোনো কোনোটি এখন ইউটিউবেও পাওয়া যাবে।

মেহজাবিন চৌধুরী এক দিনে শীর্ষ নায়িকায় পরিণত হননি। বৈচিত্র্যময় চরিত্রে নিজেকে বারবার তুলে ধরেছেন। যদিও নিজেকে নায়িকার চেয়ে অভিনেত্রী ভাবতেই পছন্দ করেন তিনি। গত কয়েক বছর ধরে মেহজাবিনের নাটক দেখতেই সবচেয়ে আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করেন দর্শক। তার নানা ধরনের দর্শক আছে। আর এই স্বপ্ন নিয়েই পথচলা শুরু করেছিলেন শোবিজে। মেহজাবিন বলেন, ‘আমাকে তৈরি করেছে দর্শক। একটি সৌন্দর্য প্রতিযোগিতায় বিচারক ও দর্শকের যৌথ রায়ে সেরা নির্বাচিত হয়েছিলাম। শোবিজে কাজ করতে এসে একধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ি। সেই চ্যালেঞ্জটাকে জয় করার ইচ্ছা জন্মায়। হতে চেয়েছিলাম ফার্মাসিস্ট। কিন্তু অজান্তেই অভিনয়ের প্রেমে পড়ে যাই। যখন অভিনয় নিয়ে সিরিয়াসলি ভাবতে শুরু করি, আমাকে পরিবার থেকে কোনো বাধা দেয়নি। শুধু বলেছিলেন, আমরা তোমার স্বপ্নে কোনো হস্তক্ষেপ করব না। কিন্তু আমরা বরাবরই চেয়েছি তুমি যা-ই করো, তাতে সেরার তালিকায় থাকো। যেহেতু অভিনয়েই থিতু হতে চাচ্ছ, এখানেও সেরা হতে হবে। আমি পরিবার ও নিজের চাওয়া পূরণের জন্য অনেক পরিশ্রম করেছি। আজ সেই লক্ষ্যপূরণের খুব কাছাকাছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘বরাবরই চেয়েছি সব ধরনের দর্শক যেন আমার কাজ পছন্দ করেন। আমার কাজ নিয়ে যেন ড্রয়িংরুমে আলোচনা হয়। এ জন্য দর্শকের মানসিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে আমি নানা ধরনের গল্পে কাজ করি। রোমান্টিক গল্পের নাটকের প্রতি আগ্রহ সবারই একটু বেশি। আবার যখন কারও মন খারাপ থাকে, তখন যাতে আমার একটি হালকা গল্পের কমেডি ধাঁচের নাটক দেখে একটু হলেও কষ্ট ভুলতে পারে, সেই চেষ্টা করি। কিছু কাজ করি একেবারেই নিজের জন্য। আমি জানি এ ধরনের কাজ খুব বেশি দর্শক দেখবেন না। তারপরও যারা দেখবেন তারা যেন কিছু শিখতে পারেন, সেই কাজগুলো করি।’ সূত্র: দেশ ‍রুপান্তর

সর্বাধিক পঠিত