প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] করোনায় অসহায় পুঠিয়ার শ্রমজীবীরা

আবু হাসাদ:[২] গত এক বছরেরও বেশি সময় থেকে দেশে করোনাভাইরাসের প্রভাবের কারণে রাজশাহীর পুঠিয়ায় শ্রমিকরা বেকার হয়ে পড়েছেন। দীর্ঘ সময় তাদের কাজ বন্ধ বা ছাটাই হওয়ার কারণে শ্রমজীবি পরিবার গুলো অসহায় হয়ে পড়েছেন। গত বছর লকডাউনের সময় সরকারী-বেসরকারী ভাবে অধিকাংশ শ্রমজীবিদের বিভিন্ন খাদ্য ও নগদ অর্থ সহয়তা দেয়া হয়।

[৩] কিন্তু এ বছর এখনো পর্যন্ত কোনো প্রকার সাহায্য সহযোগিতা পায়নি বলে ওই শ্রমজীবিরা অভিযোগ তুলেছেন। যার কারণে কাজ বন্ধ থাকায় ওই পরিবারগুলো মানবেতর জীবন যাপন করছেন।সংশ্লিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার শ্রমিক সংগঠন গুলোর মধ্যে মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের তালিকাভূক্ত রয়েছেন ১ হাজার ৬শ’জন। ইমারত নির্মাণ শ্রমিক রয়েছেন ১ হাজার ২শ’জন।

[৪] রিক্সা-ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের তালিকা ভূক্ত ১ হাজার ২শ’জন। এছাড়া ওই সংগঠন গুলোর তালিকার বাহিরেও শ্রমিক আছেন আরো প্রায় এক হাজারের মত। উপজেলায় মোট ১৪টি ইটভাটায় কাজে রয়েছেন যুক্ত আছেন প্রায় ৯শ’জন শ্রমিক। মৎস্য জীবি ও ক্ষেত-খামারের কাজে যুক্ত রয়েছেন আরো দু’হাজারের অধিক শ্রমজীবি। এছাড়া দেশের বিভিন্ন শিল্প-কারখানা ও বে-সরকারি চাকুরি হারিয়ে বেকার হয়ে আছেন অসংখ্য শ্রমিক।

[৫] আব্দুস সালাম নামের সাবেক একজন বেসরকারি চাকুরিজীবী বলেন, ঢাকার একটি শিল্প প্রতিষ্ঠানে ১১ বছর থেকে কাজ আসছিলাম। গত বছর করোনার প্রভাবের কারণে ওই প্রতিষ্ঠানের অনেক শ্রমিকদের চাকুরি থেকে বাদ দিয়েছেন। এর মধ্যে আমিও আছি। এরপর থেকে গ্রামের বাড়িতে আছি। এক দিকে চাকুরির বাজার মন্দা যাচ্ছে। আবার বয়স বেশী হওয়ায় অনেক প্রতিষ্ঠান এখন কাজ দিতে চাচ্ছেন না।

[৬] সামনে ঈদ আসছে অথচ পরিবার নিয়ে টেনেকষে দিনপাত করতে হচ্ছে।উপজেলার বিভিন্ন ক্ষুদ্র শিল্প কারখানার মালিকরা বলছেন, করোনার প্রভাবের কারণে আগের চেয়ে এখন কাজ অর্ধেকেরও কম হচ্ছে। যার কারণে কারখানা টিকিয়ে রাখতে বেশীর ভাগ শ্রমিকদের ছাটাই করতে হয়েছে। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবারো শ্রমিকের সংখ্যা বাড়ানো হবে বলে জানান তারা।
রাজশাহী জেলা সড়ক ও পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান পটল বলেন, বিভিন্ন যানবাহন কাজে নিয়োজিত শ্রমিকরা কেউ প্রভাবশালী নয়।

[৭] তারা প্রতিদিন যা আয় করেন তা দিয়ে পরিবার নিয়ে কোনো মতে দিন যাপন করেন। করোনার প্রভাবের কারণে গত বছর শ্রমিকরা কয়েকমাস কর্মহীন হয়ে পড়ে ছিলেন। সে সময় থেকে শ্রমিক পরিবার গুলো অসহায় হয়ে পড়েছেন। অনেকই ঋণ করে পরিবারের খরচ চালিয়েছেন। যার জের শ্রমিকরা এখনো বয়ে চলছেন। এর মধ্যে এবার প্রায় একমাস থেকে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় শ্রমিক পরিকার গুলো খুবই কষ্টের মধ্যে রয়েছেন।

[৮] তবে গতকাল থেকে সীমিত পরিসরে যানবাহন চলাচলের অনুমতি দেয়ায় শ্রমিকরা কিছুটা সস্তির নিশ্বাস ফেলছেন। তবে গত বছর উপজেলা প্রশাসন থেকে শ্রমিকদের কিছু সহয়তা দেয়া হলেও এবার তারা কিছুই পায়নি।উপজেলা ইমারত নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক জালাল উদ্দীন ও রিক্্রা-ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক শামীম হোসেন বলেন, কর্মহীন শ্রমিক পরিবারগুলো এক রকম মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

[৯] বিষয়টি আমরা মৌখিক ভাবে বিভিন্ন দপ্তরে অবহিত করেছি। কিন্তু এখনো পর্যন্ত সরকারী বা বেসরকারী প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো অনুদান আমরা পাইনি।এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুরুল হাই মোহাম্মদ আনাছ বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে সরাসরি সকলকে দেয়া হচ্ছে না। তবে ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যমে নিন্ম আয়ের লোকজন বা পরিবারগুলোতে সার্বক্ষনিক সাহায্যে-সহযোগিতা অব্যহত রয়েছে।

[১০] এছাড়া সরকার মোবাইল ব্যাংকের মাধ্যমে সরাসরি ভূক্তভোগিদের নিকট নগদ অর্থ দিচ্ছেন। তবে কেউ যদি ত্রাণ না পেয়ে থাকেন তারা আমাদের অবহিত করলে আমরা সার্বিক সহযেগিতা করবো। এছাড়া মোটর শ্রমিকদের একটি তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। ওই তালিকা অনুসারে সকলকে বিশেষ বরাদ্দ দেয়া হবে।

[১১] তবে উপজেলা চেয়ারম্যান জিএম হীরা বাচ্চু বলেন, পুরো উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কর্মহীন ও দরিদ্র পরিবারগুলোতে আমরা সহযোগিতা করছি। বর্তমানে পর্যাপ্ত ত্রাণ না থাকায় কিছু অসহায় লোকজন এখনো বাকি রয়েছেন। তবে অল্প দিনের মধ্যে বিভিন্ন ত্রাণ সহযোগিতার সকল সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে বলে জানান তিনি।সম্পাদনা:অনন্যা আফরিন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত