শিরোনাম
◈ পাবনা ১ ও ২ আসনের নির্বাচন স্থগিত, কারণ যা জানাগেল ◈ আতলেতিকো মা‌দ্রিদ‌কে হারিয়ে স্প‌্যা‌নিশ সুপার কা‌পের ফাইনালে রিয়াল মাদ্রিদ ◈ বিক্ষোভ দমনে ইরানজুড়ে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন, নিহত অন্তত ২১ ◈ বসুন্ধরায় ভেজাল মদের কারখানা, ওয়ারীতে দূরনিয়ন্ত্রিত ‘কুশ’ ল্যাবের সন্ধান, গ্রেপ্তার ৪ ◈ যুক্তরাষ্ট্রের পর এবার ভারতের ওপর শুল্ক আরোপের কথা ভাবছে বাংলাদেশ: ক্ষতির মুখে দিল্লির সুতা শিল্প ◈ বড় সুখবর! সৌদি আরবে এক খাতেই প্রবাসী কর্মী লাগবে ১৬ লাখের বেশি ◈ মনোনয়ন বাতিল হয়নি দাবি হাসনাতের প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সির (ভিডিও) ◈ পাইপলাইনের ওপর ঘর তুলে অভিনব কায়দায় বিপিসির তেল চুরি (ভিডিও) ◈ ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন: পোলিং ও নির্বাচনি এজেন্ট সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি ◈ নীতিগত ব্যর্থতা ও দুর্নীতির চিত্র: টেলিযোগাযোগ খাতের ৩,২৭২ পৃষ্ঠার শ্বেতপত্র প্রকাশ

প্রকাশিত : ০৬ মে, ২০২১, ০৪:৩২ সকাল
আপডেট : ০৬ মে, ২০২১, ০৪:৩২ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

সুমন্ত আসলাম: বিল স্যার, মেলিন্ডা ম্যাডাম, আপনারা কি আমার বাবা-মাকে চেনেন!

সুমন্ত আসলাম: বাবা ঠিক এইসব দিনে, রোজার এই কয়দিনে, মাকে কাছে ডেকে বলতেন, ‘এবারের ঈদে কাউকে কিছু দিতে পারবো না।’ আমার সনাতনী মা তার ঘোমটাটা আরও একটু টেনে নিতেন, ‘সমস্যা নেই। ওদের বুঝায়া বলমু আমি।’ মা আমাদের কিছু বলতো না, কিন্তু আমরা ছোট পাঁচ ভাই বোন একে একে জেনে যেতাম সবকিছু। বিরহ-বদনে আমরা সারা বাড়ি হাঁটতাম, যেন আমরা হাঁটছি না, আমাদের ছায়া হাঁটছে। সংসারে অভাব ছিলো আমাদের। খাবার আর লেখাপড়ার পর কিছু কিছু জমাতেন বাবা, খুবই সামান্য। সেই জমানো টাকা থেকে ঈদের দুদিন আগে কিছু কিনতে দিতেন আমাদের, সবার জন্য। বাবা কখনো মায়ের হাত ধরেছেন কিনা চোখে পড়েনি আমাদের; ভালোবাসাময় কোনো কথোপকথন হয়েছে কিনা, সেটাও অকস্মাৎ কানে আসেনি আমাদের।

মা ভয় করত বাবাকে, আমরা তার ছায়া দেখলে পালাতাম। কিন্তু একটা জিনিস চোখ এড়াতো না আমাদের। দুপুরের পর মা যখন সংসারের সব কাজ সেরে, গোসল করে, ঈদের তাতের নতুন শাড়িটি পরতো, তারপর বাবার সামনে যেতো, বাবা একপলক মাকে দেখতেন, আমরা দূর থেকে তাদের দেখতাম। স্পষ্ট দূরের আমার ফর্সা মাকে তখন কেমন লাল দেখাতো, মুখে দ্যুতি, ঠোঁটে লাজুকতা। বাবা কি নতুন শাড়ীতে মাকে কিছু বলতেন- তোমাকে সুন্দর দেখাচ্ছে কিংবা আই লাভ ইউ জাতীয় কিছু? আমি এবং আমার ভাই-বোনেরা নিশ্চিত ছিলাম- বাবা এরকম কিছু বলেননি। সংসারের নিত্য অভাবের আধিক্যতায় কেবল একখণ্ড তাকিয়েছিলেন বাবা, আর বাবার চোখে মা দেখেছিলেন মিহিদানার প্রশ্রয়, নরম জ্যোতি,  অথবা অন্তর্গত ভালোবাসার বিনিময় হয়েছিলো চোখ আর চোখে।

তারপর বাকী দিন মার কী প্রফুল্লতা,  হাঁটায় হরিণের চঞ্চলতা, ময়ুরের পেখম মেলানো ছন্দ। সাঁইত্রিশ বছর সংসার করেছেন তারা- অভাব আর দুখের প্রতিনিয়ত সংঘর্ষে যে ফুলকি বেরুতো প্রতিদিন, সেই আলোতে সুখ ছিলো,  শ্রদ্ধা ছিলো, পরস্পরের প্রতি সম্মান ছিলো, ছিলো অব্যক্ত এক ভালোবাসা। সব মাখামাখিতে বাবা হয়েছিলেন গর্বিত, মা হয়েছিলো নিবেদিত। বিল স্যার, মেলিন্ডা ম্যাডাম, আপনারা কি আমার বাবা-মাকে চেনেন? ওপারের পৃথিবীতে একদিন পরিচয় করিয়ে দেবো আপনাদের। দেখবেন আলোর মতো সরল পথে চলা মানুষগুলোও কতো সরল, আলোময়। জগতের ধন-সম্পদ সেখানে তুচ্ছ, নিতান্তই অপাংক্তেয়! ফেসবুক থেকে

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়