প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

অফলাইন ক্লাসের বিকল্প কখনোই অনলাইন নয়: অধ্যাপক মেসবাহউদ্দিন সরকার

নুর হাছান নাঈম: করোনা ভাইরাসের কারণে বাংলাদেশসহ পুরো বিশ্ব এক গভীর সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় গেল বছরের পুরোটা সময় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছিলো পুরোপুরি বন্ধ। চলতি বছরের শুরুর দিকে সংক্রমণ কিছুটা কমলেও সম্প্রতি আবারো করোনার প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার ব্যাপারে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। তবে তাই বলে থেমে নেই শিক্ষার্থীদের একাডেমিক পড়াশোনা। ভার্চুয়াল মাধ্যমে প্রাথমিক থেকে শুরু করে মাধ্যমিক এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম নিয়মিত হয়ে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া টেলিভিশনেরও নিয়মিত প্রচার করা হচ্ছে বিভিন্ন শ্রেণীর অনলাইন পাঠদান। আমাদের দেশের পারিপার্শিক বাস্তবতায় একটা সময় যা কল্পনা করা যেত না, প্রযুক্তির সহজলভ্যতায় এখন তা কোনো ব্যাপারই না। তথ্য-প্রযুক্তির এসব বিভিন্ন বিষয়ে আমাদের সময়.কম এর সঙ্গে আলাপচারিতায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনষ্টিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজির পরিচালক প্রযুক্তিবিদ অধ্যাপক এম.মেসবাহউদ্দিন সরকার।

আমাদের সময় ডটকম: স্যার, করোনার মধ্যে অনলাইন প্ল্যাটফর্মের বহুমুখী ব্যাবহারকে আপনি কিভাবে মুল্যায়ন করবেন?

মেসবাহউদ্দিন সরকার: যেহেতু এর বিকল্প আপাতত কিছু নেই তাই আমাদের অনলাইনের মাধ্যমে কাজ করার সক্ষমতা বাড়াতে হবে এবং একাডেমিক ও দাপ্তরিক কাজে অনলাইনের ব্যবহার আরও বৃদ্ধি করার জন্য সে অনুযায়ী দক্ষতা ও অবকাঠামো উন্নত করা খুব গুরুত্বপূর্ণ। সারা বিশ্বে যেভাবে করোনায় আক্রান্ত ও মৃত্যুহার বেড়েছে সে বিবেচনায় এ মুহূর্তে গতিশীল থাকতে অনলাইনই সবচেয়ে যৌক্তিক মনে হচ্ছে। হয়তো করোনা একদিন শেষ হয়ে যাবে কিন্তু ভবিষ্যতে এর চেয়ে ও বড় দুর্যোগ আসতে পারে। এক্ষেত্রে ভবিষ্যতে  ক্লাসের কিছু অংশ অফলাইনে এবং কিছু অংশ ভার্চুয়ালি হবে, আমি এভাবে দেখতে চাই।

 

আমাদের সময় ডটকম: শিক্ষার্থীদের অনলাইন পাঠদান বাস্তবে কতটুকু কার্যকরী হচ্ছে?

মেসবাহউদ্দিন সরকার: সলে কার্যকরের ব্যাপারটা সম্পূর্ণ আপেক্ষিক। অফলাইন ক্লাসের বিকল্প কখনোই অনলাইন নয়। এটা আমরা স্বীকার করি। বিশেষ করে প্রাকটিক্যাল বিষয়গুলো অনলাইনে সম্ভব নয়।  যেহেতু দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থী বাড়িতে বা যার যার জায়গায় আছে সেখানে আমাদের প্রথম উদ্যোগটা ছিলো আপদকালীন সময়ে লেখাপড়ায় তাদের টাচে রাখা। আমাদের অনলাইনের মূল উদ্দেশ্য ছাত্ররা যেন নুন্যতম লেখাপড়ার সাথে থাকে, নেগেটিভ কোন কাজে যেন সম্পৃক্ত হয়ে না যায়।

 

আমাদের সময় ডটকম: এক্ষেত্রে যাদের ডিভাইস সংকট বা ইন্টারনেট সম্যসা তাদের ক্ষেত্রে সমাধান কি?

মেসবাহউদ্দিন সরকার: আমি যদি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা বলি, এখানে মোটামুটি ৭০% ষ্টুডেন্ট অত্যন্ত গরীব ঘরের, তবে তারা মেধাবী। করোনার মধ্যে সরকার যেহেতু অনেক খাতে প্রণোধনা দিয়েছে সেখানে শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে অথবা স্বল্প মূল্যে ল্যাপটপ বা এ জাতীয় ডিভাইসের উদ্যোগ সরকারের বা বিত্তবানদের নেয়া উচিত। কারণ এ শিক্ষার্থীরাই কয়েক বছর পরে দেশ চালাবে।  সুতারাং, তাদের জন্য অর্থ ব্যয় রাষ্ট্রের জন্যই কল্যাণ বয়ে আনবে।

 

আমাদের সময় ডটকম: এক্ষেত্রে ইউজিসি তো ৮ হাজার টাকা করে লোন দিয়েছে শিক্ষার্থীদেরকে ডিভাইস কেনার জন্য। এটা কি পর্যাপ্ত ?

মেসবাহউদ্দিন সরকার: না, এটা মোটেও পর্যাপ্ত না। এই টাকা দিয়ে কোনো ভালো মানের ডিভাইস কেনা সম্ভব না। তবু ও তাদের যে ক্ষমতা আছে, সে জায়গা থেকে যে ইনেশিয়েটিভ নিয়েছে ইউজিসি সেজন্য তাদের ধন্যবাদ জানানো উচিত। তবে মিনিমাম এ টাকার পরিমাণ ২০-২৫ হাজার হওয়া প্রয়োজন একটি ভালো ডিভাইস কেনার জন্য।

 

আমাদের সময় ডটকম: আমরা দেখেছি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় তাদের শিক্ষার্থীদের পাঠদানের সুবিধার্থে ইন্টারনেট সহজলভ্য করেছে। এক্ষেত্রে জাবি প্রশাসনের ভূমিকা কি?

মেসবাহউদ্দিন সরকার: এটা একটা প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ব্যাপার। তবে করোনা সম্যসা যেহেতু দেশ এবং বিশ্বব্যাপী তাই বিছিন্নভাবে না হয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য ইন্টারনেট সহজলভ্য করার ক্ষেত্রে অপারেটর কোম্পানীদের সঙ্গে আলোচনা করে সরকার থেকে একটি উদ্যোগ নিলে সবচেয়ে ভালো হয়।

 

আমাদের সময় ডটকম: টেলিটক থেকে ও তো এ সুবিধা দেয়া যেতে পারে ?

মেসবাহউদ্দিন সরকার: আসলে টেলিটক একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান। সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে আমরা যে পরিমাণ সেবা আশা করি এক্ষেত্রে তেমনটি নেই। যেখানে তুলনামূলক অন্য অপারেটরগুলো সরকারের নিয়ন্ত্রণে থেকেই ভালো সুবিধা দিচ্ছে। সরকার ১০০ টাকায় ডেটা দেয়ার একটা প্রজ্ঞাপন ও জারি করেছে। তবে এখানে যেটা সম্যসা হয়েছে সেটা হচ্ছে টেলিটকের অ্যাবেইলএবল নেটওয়ার্ক সবজায়গায় নেই। তাই আগে টেলিটকের নেটওয়ার্ক কাভারেজ বাড়াতে হবে। আমাদের পলিসি নির্ধারকদের উচিত টেলিটককে প্রমোট করা।

 

আমাদের সময় ডটকম: আপনার বিভাগে শিক্ষার্থী সংশ্লিষ্ট কাজগুলো কিভাবে করছেন?

মেসবাহউদ্দিন সরকার: এখানে আইআইটির হিসেবটা একটু আলাদা। আমাদের বিভাগের শিক্ষার্থীরা একটু ভালো না খেয়ে, ভালো শার্ট-প্যান্ট না কিনে ও একটা ভালো ডিভাইস কেনার চেষ্টা করে। সে কারণে অন্যান্য বিভাগের তুলনায় আইআইটির শিক্ষার্থীদের ডিভাইস আমরা ১০০% পেয়েছি। তারপরও আমরা প্রথমদিকে বিভাগ থেকে কিছু সাহায্য-সহযোগীতা করেছি। আমার মনে হয়েছে আমরা ৬০-৭০% শিক্ষাথীদের অনলাইনে পাই। বাকি যারা আছে তাদের ইন্টারনেট কানেকটিভিটিতে প্রবলেম থাকতে পারে।

 

আমাদের সময় ডটকম: আমরা দেখেছি অনলাইনে সম্প্রতি ৪র্থ বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষা এবং দ্রুত সময়ে ফলাফল প্রকাশ হয়েছে। অফলাইনের ক্ষেত্রে এ গতিশীলতা সম্ভব কিনা?

মেসবাহউদ্দিন সরকার: একেবারে এ রকম গতিময় করা সম্ভব নয়। তবে যেহেতু মনে করা হয় অফলাইনে ক্লাস স্লো হয় সেখান থেকে কিছুটা গতি বাড়ানো যাবে ইচ্ছা করলে এবং সে ইচ্ছে আছেও। একটা বিসিএসকে কেন্দ্র করে অনলাইনে যেভাবে ফাইনাল পরীক্ষা নেয়া হয়েছে, সে কারণে আমরা সমস্ত কাজকে বাদ দিয়ে এ ৪৫ ব্যাচকে বের করার জন্য একটি বিশেষ পোগ্রাম হাতে নিয়েছি। সে কারণে গতি বেশি ছিলো।

আমাদের সময় ডটকম: আমরা শুনেছি আপনাদের বিভাগে একটি বিশেষায়িত কম্পিউটার ল্যাব রয়েছে। এ ল্যাবের কার্যক্রম সম্পর্কে কিছু বলেন?

মেসবাহউদ্দিন সরকার: বিশেষায়িত ল্যাবটি হচ্ছে আসলে সফটওয়্যার টেষ্টিং এন্ড কোয়ালিটি এ্যাসসুরেন্স ল্যাব। এটা যখন আমরা শুরু করি তখন ম্যানটেইন করার মতো এক্সপার্ট আমাদের ছিলো না। আমি দায়িত্বে আসার পরে আমাদের তিনজন শিক্ষককে নিয়ে একটি কমিটি করেছি। এই কমিটির নেতৃত্বে এখন আছেন সহযোগী অধ্যাপক ড. শামীম আল মামুন। তিনি দায়িত্ব নেয়ার পরপরই করোনা শুরু হয়ে গেছে। যার জন্য আমরা একটু সমস্যায় পড়ে গেছি। কোর্স শুরু করার জন্য একটি সিলেবাস ও প্রণয়ণ করা হয়েছে তবে করোনার জন্য আমরা তেমন শিক্ষার্থী পাচ্ছি না।

 

আমাদের সময় ডটকম: আপনার এলাকা চাঁদপুরে সম্প্রতি একটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ ব্যাপারে আপনার প্রত্যাশা যদি বলেন?

মেসবাহউদ্দিন সরকার: আমাদের শিক্ষামন্ত্রী অতন্ত পরিশ্রম করে স্বল্প সময়ের মধ্যে একটি ভালো উপহার দিয়েছেন। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান দায়িত্বে যিনি আছেন তাকে আমরা সর্বাত্মক সহযোগীতা করব।  কিন্তু চাঁদপুর ছাড়া দেশে আরও অনেক বিশ্ববিদ্যালয় আছে এবং সেক্ষেত্রে যদি হয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং সেখানে যদি আমার কাজ করার সুযোগ হয় তাহলে আমি অত্যন্ত গর্বিত হবো। এক্ষেত্রে আমার যতোটুকু অভিজ্ঞতা আছে সর্বোচ্চটা কাজে লাগানোর চেষ্টা করবো। সম্পাদনা: হ্যাপি

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত