প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মামুনুলকে ‘হেনস্থাকারীদের’ বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে আন্দোলন: হেফাজত

ডেস্ক রিপোর্ট : নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের ‘র‍য়্যাল রিসোর্ট’-এ মামুনুল হককে হেনস্থাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম। শনিবার (৩ এপ্রিল) সন্ধ্যায় সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর ও নারায়ণগঞ্জ জেলা সভাপতি মাওলানা আব্দুল আউয়াল এ দাবি জানান।

তিনি একটি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, কিছুক্ষনের মধ্যে এ বিষয়ে তাঁরা বৈঠকে বসবেন। বৈঠকে পরবর্তী করণীয় নিয়ে সিদ্ধান্ত হবে।

মামুনুল হকের সংগে থাকা নারীর বিষয়ে জানতে চাইলে মাওলানা আব্দুল আউয়াল বলেন, তিনি তাঁর স্ত্রী। হোটেলে তাঁদের হেনস্থা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ছাত্রলীগ-যুবলীগের কর্মীরা তাঁকে হেনস্তা করেছে। তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের কাছে আবেদন জানানো হবে। যদি ব্যবস্থা নেওয়া না হয় তাহলে কঠোর আন্দোলনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

এসব বিষয়ে বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

এদিকে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের ‘র‍য়্যাল রিসোর্ট’-এ অবরুদ্ধ কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগরের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মামুনুল হককে নিয়ে গেছেন হেফাজতের নেতাকর্মীরা।

শনিবার (৩ এপ্রিল) বিকেলে নারীসহ তাঁর অবরুদ্ধ হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সন্ধ্যায় সেখানে হামলা চালান হেফাজতকর্মীরা। এসময় হোটেলে ভাংচুরও চালান তাঁরা। একপর্যায়ে সন্ধ্যা সাতটার পর মামুনুল হককে হোটেল থেকে বের করে নিয়ে যান।

এর আগে মামুনুল হক হোটেলে আটক হয়েছেন বলে কিছু সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়। তবে পুলিশ বলছে, তাঁকে আটক করা হয়নি।

নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার টি এম মোশাররফ হোসেন বলেন, মামুনুল হককে আটক কিংবা গ্রেফতার করা হয়নি। একটা অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ওই হোটেলে গিয়েছিলো। পরে হেফাজতের নেতাকর্মীরা এসে তাঁকে সেখান থেকে নিয়ে গেছে।

হোটেলে ভাংচুরের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি আরও বলেন, হোটেলে কিছু ভাংচুর হয়েছে। তবে অগ্নি সংযোগের কোনো ঘটনা ঘটেনি। অন্য কোথাও এমন কিছু ঘটেছে কিনা আমাদের জানা নেই।

এর আগে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ‘রয়্যাল রিসোর্ট’ নামের একটি হোটেলের পঞ্চম তলার ৫০১ নম্বর কক্ষে ওই নারীসহ মামুনুল হককে অবরুদ্ধ করে স্থানীয়রা। এসময় নারীর পরিচয় জানতে চান তাঁরা। মামুনুল হক তাঁদের জানান, তিনি তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী। এই সময় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁদের বিয়ের প্রমাণ চাওয়া হয়। তাৎক্ষনিকভাবে প্রমাণ দেখাতে পারেননি মামুনুল হক।

ওই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন লোক মামুনুল হককে জেরা করছেন। তাঁরা ওই নারীর পরিচয় জানতে চাইলে মামুনুল হক দাবি করেন, সংগে থাকা নারীর নাম আমিনা তৈয়বা। তিনি তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী। আমিনাকে সংগে নিয়ে রিসোর্টে ঘুরতে গিয়েছিলেন তিনি।

নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জায়েদুল আলম সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, মামুনুল হক নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও থানাধীন রয়্যাল রিসোর্ট-এর একটি কক্ষে এক নারীসহ অবস্থান করছেন- এমন খবরে স্থানীয় লোকজন রিসোর্ট ঘেরাও করেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে যায়। মামুনুল হক পুলিশকে জানিয়েছেন সঙ্গে থাকা নারী তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী। পরে পুলিশ তাকে নিরাপত্তা দিয়ে সেখান থেকে উদ্ধার করে।
সূত্র- বাংলাভিশন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত