প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

অহিদুল ইসলাম: সুর্বণজয়ন্তীতে কেনো শুধু বঙ্গবন্ধুর জয়গান!

অহিদুল ইসলাম: একটা বিষয় খুব অালোচনা হয়, স্বাধীনতার সুর্বণজয়ন্তীতে কেনো শুধু বঙ্গবন্ধুর জয়গান হলো? অার কেউ কোনো জায়গা পেয়েছে কিনা? কিংবা কেনো পেলো না?

বিপ্লব বা যুদ্ধে লক্ষ লক্ষ মানুষের অবদান থাকতে হয়। যে ভাত রান্না করে খাইয়েছে, যে পথ দেখিয়ে দিয়েছে, যে এক রাতের জন্য আশ্রয় দিয়েছে, এক বেলা খাবার দিয়েছে তাঁর অবদানকেও ছোট করে দেখা যাবে না। আমি বিষয়টাকে ভিন্নভাবে দেখি;
পৃথিবীর কোথাও…কোনো বিপ্লব বা সংগ্রামে দ্বিতৃীয়, তৃতীয় বা চতুর্থদের নাম ইতিহাস খুব একটা মনে রাখেনি। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও সেটাই হয়েছে, সেটাই হবে। এটা প্রকৃতির নিয়ম। ইতিহাসের অমোঘ সত্য।

রাশিয়ান বিপ্লবের কথা বলেন, ভ ই লেনিনের নাম আমরা জানি… তাঁর সাথে নিশ্চয়ই অনেকে ছিলো, জারদের হাতে প্রাণ দিয়েছে তাদের কথা ইতিহাসে সেভাবে লিখা হয়নি বলেই অামরা জানি না৷

ক্ষমতার কোনো কেন্দ্রে ছিলেন না,৷ তবুও ভারত স্বাধীনতার আন্দোলনের নেতা হিসেবে গান্ধীজিকে চেনে সবাই। পৃথিবীর বহু দেশে তাঁর ভাস্কর্য অাছে। তাঁর কাছাকাছি জায়গা অার কেউ পায়নি, সুভাস বোস, জওহর লাল নেহেরু, বল্লভ ভাই প্যাটেল কেউ না। পাকিস্তান স্বাধীনতা অান্দোলনের নেতা হিসেবে মোহাম্মদ অালী জিন্নাহকে সে দেশের মানুষ মাথায় তুলে নিয়েছে; সংগ্রাম নিশ্চয়ই তিনি একা করেন নি! সেখানে এ কে ফললুল হক, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর কোনো জায়গা হয়নি।
কিউবান বিপ্লবী নেতা বলে চে গুয়েভারাকেই সবাই চেনে, যদিও অল্প কয়েক বছরই তিনি বেঁচে ছিলেন; বিপ্লবে বিজয়ী হবার পরে। একই সময় পাহাড়ে পাহাড়ে যুদ্ধ করা ফিদেল কেস্ত্রো বা রাউল কেস্ত্রো, দীর্ঘদিন ক্ষমতায় ছিলেন, ক্ষমতা ছেড়ে যাবার পর তাদের নিয়ে অালোচনা একটা গন্ডিতে সীমাবদ্ধ হয়ে গেছে। একদিন সেটাও থেমে যাবে।বিপ্লবী নেতা শুধু চেগুয়েভরা ই থাকবেন। বিপ্লবীদের অনুপ্রেরণা হিসেবে।

সাদা কালো অাধিকারের লড়াই এ নেলসন মেন্ডেলা একা জেল খাটেনি। অামরাতো অাফ্রিকার নেতা বলে নেলসন ম্যান্ডেলাকেই চিনি। তাঁর জনগণ তাকে ডাকে মাদিবা বলে।

নয়া চিনের নেতা তো শুধুই মাও সে তুং। কত নেতা সে দেশে যুদ্ধ করেছে, প্রাণ দিয়েছে; এরপর বহু নেতাই চিনকে নেতৃত্ব দিয়েছে তাদের কথা অামরা মনেই রাখিনি। এমনকি অাধুনিকালে চিন যে ভিন্নধারার অর্থ ব্যবস্থা চালু করেছে পুঁজিবাদ অার সমাজতন্ত্রের মাঝ পথ ধরে, যেটাকে পৃথিবীর ইতিহাস বদলের অন্যতম ঘটনা বলে ধরা হয়, সেই নেতার নামও তো মনে করতে পারছি না। সেখানেও মাও সে তুং ই চিনের নেতা। বিপ্লবী নেতা।

সর্বশেষ যদি ইরানের ইসলামী বিপ্লবের কথাও বলেন, সেখানেও অায়তুল্লাহ রুহুল্লুাহ খোমিনীই নেতা। অন্য কারো নাম অামরা কয় জন জানি? কিন্তু বিপ্লবের সময় তিনি ছিলেন ফ্রান্সে! তবুও তিনিই নেতা!

বাংলাদেশের ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানই একক নেতা। তাঁর জায়গা সে ভাবেই ঠিক হবে ভবিষ্যত বাংলাদেশে। পৃথিবীর ইতিহাসের পাতায়। সেখানে দ্বিতৃয়, তৃতীয়, চতুর্থ বলে কেউ থাকবে না। পৃথিবীর কোনো দেশের ক্ষেত্রেই থাকেনি। ২য়, ৩য় বা চতুর্থদের উত্তরাধীকারীদের খারাপ লাগতে পারে; ভিন্ন চিন্তায় বিশ্বাসীরা মেনে নিতে পারে না, তাই নানা ভাবে একটা বির্তক উঠানোর চেষ্টা করে; কিন্তু সেটা চেষ্টাই থেকে যাবে।

কেনো একজনই নেতা হয় বুঝার জন্য অরেকটা তথ্য দেই; সিরাজুল অালম খান, অা স ম রবসহ অারো অনেকেই বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে অনেক বড় নেতা ছিলেন। তাদের ভূমিকা অনেক। কিন্তু তাঁরা বঙ্গবন্ধুর অালোয় অালোকিত ছিলেন। তাঁরা যখন বঙ্গবন্ধুকে ছেড়ে গেলেন, তার অার কিছুই করতে পারেনি। যে যেখানে হাত দিয়েছেন ব্যর্থ হয়েছেন। যদি তাদেরও সমান নেতৃত্বগুন থাকতো তাঁরা তাদের চিন্তাধারা মানুষের মাঝে প্রতিষ্ঠা করতে পারতেন।

একদল মানুষ একজনকে মিথ্যা মুকুট পড়িয়ে জোর করে নায়ক বানানো চেষ্টাও বৃথা হবে। সেজন্য অারো কিছু দশক অপেক্ষা করতে হবে; ততদিন পর্যন্ত; যখন ভোটের মাঠে এসব মিথ্যা বড়াই অার মুকুট কাজে অাসবে না, ততদিন পর্যন্ত। কারণ তখন তাঁরা অার মিথ্যা প্রচারটা চালাবে না। দপ্তরীর ঘন্টা বাজাতেই পারে, অন্য সিনিয়র ছাত্রও বাজাতে পারে, তাই বলে কখনোই হেড মাস্টারের জায়গা পায় না দপ্তরী। ফেসবুক থেকে

সর্বাধিক পঠিত