প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

যায়নুদ্দিন সানী: ‘জান জবান’  নিয়ে হাঁটু ব্যাথা

যায়নুদ্দিন সানী: ‘জান জবান’নিয়ে বেশ ভালো রকমের ক্যাচাল লেগেছে। ফেসবুক সরগরম। পক্ষে-বিপক্ষে স্ট্যাটাস প্রসব চলছে। ব্যাপারটায় নারীবাদীরা ইনভলভড, সো পাবলিসিটি ইনেভিটবল। তাবদ নামিদামি সেলিব্রিটিরা নেমে পড়েছেন। ফলাফল? মুশতাক সাহেব এখন আউট অফ পিকচার। আসল আলোচ্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে, শব্দ দুটোতে ইসলামি ফ্লেভার আছে কি না। থাকলে এই স্লোগান পরিত্যাজ্য কিনা।

এনিওয়ে, বামদের বুদ্ধি এমনিতেই হাঁটুতে। সো, এই গবেটদের দিয়ে যে আন্দোলন হবে না, এনিয়ে আমার তেমন কোন সন্দেহ নাই। দেখার ব্যাপার একটাই, ক্যাচাল কতদূর গড়ায়। আর কত নোংরা রূপ নেয়।

আমি অবশ্য লিখতে বসেছি অন্য কারণে। ফেসবুকের কল্যাণে বাংলা ভাষায় বেশ কিছুটা সময় ধরেই বিভিন্ন শব্দের অনুপ্রবেশ ঘটে চলেছে। ব্যাপারটায় সেকুলার আর ধর্মীয় ব্যাপার যেমন আছে, স্যাটেলাইট টিভির কল্যাণে হিন্দি আর ইংরেজি প্রভাবও আছে। ফেসবুক সেলিব্রিটিদের তোয়াক্কা না করে বেশ অনায়াসেই এসব অনুপ্রবেশ ঘটছে। কিংবা বলা যায়, মহা সমারোহে এন্ট্রি নিচ্ছে।

কিছুদিন আগে এক স্ট্যাটাসে দেখেছিলাম ‘ইন্নানিল্লাহ’র ইউজ। কোন এক ছেলে সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে এক মেয়ে বলেছিল, ‘জানি না বেঁচে আছে না ইন্নানিল্লাহ হয়ে গেছে।’ব্যাপারটা নিয়ে খুবে একটা বিতর্ক হয়নি বিধায় খুব হিট করেনি। তবে আমার বেশ মজা লেগেছে।

‘লাইকানো’ কিংবা ‘পোস্টানো’ শব্দগুলো বাজারে আসোবার পরে বেশ ভালোই ব্যবহার হয়েছিল। এরপরে কেমন যেন মিইয়ে গেছে। শব্দগুলোর সেই ফ্রেস নেশ আর ফিল করা যায় না। ব্যাবহারও খুব চোখে পড়ে না। ফেসবুকের সমার্থক শব্দ হিসেবে ‘জুকা মামা’ ইউজ করতে দেখেছিলাম একজনকে। ইনোভেটিভ লেগেছিল। ব্যাপারটা বোধহয় কেবল বাংলায় সীমাবদ্ধ নেই। হিন্দি এক সিরিয়ালে দেখেছিলাম ঘাবড়ে গিয়েছিলাম বোঝাতে ‘নার্ভাসিয়া গ্যায়ে’ ব্যাবহার করতে। বিহারী টোনে বলা। ব্যাপারটায় নতুনত্ব যেমন ছিল, হিউমারও তেমন ছিল। অ্যানাদার গুড ইম্প্রোভাইজেশান।

এনিওয়ে, লেটস ডাইসেক্ট, ‘জান জবান’। আলাদা আলাদা করে দেখলে, জান নিয়ে মনে হয় না তেমন আপত্তি আছে। মিলেনিয়াল টিন এজাররা হর হামেশা ইউজ করছে। বিশেষ করে প্রেমিক প্রেমিকাদের সম্বোধন, ‘জান’দিয়ে শুরু আর ‘বাবু’ দিয়ে শেষ হয়। বাংলা নাটকগুলোতে দেদারসে ইউজ হচ্ছে ‘জান’। ভালো বাজার পেয়েছিল শব্দটা। আর ব্যাপারটা নিয়ে তেমন বড় কোন আপত্তিও কাউকে করতে দেখা যায়নি।

এদেশে আরেকটা ট্রেন্ড চালু আছে। আধুনিক টিন এজাররা কিছু অ্যাডপ্ট করলে, ব্যাপারটাকে কেউই কনফ্রন্ট করে না। এক বইমেলায়, ‘বান্ধবী’ নামের একটা বই হটকেক হওয়ায় কিংবা মতান্তরে নিজের বই বিক্রি না হওয়ায়, ‘বান্ধবী’ টাইপ বই লেখার বিপক্ষে লেখালেখি করেছিল কিছু আঁতেল সাহিত্যিক। ভাষার শুদ্ধতা নিয়ে নাকি কান্না। বারণ করার উপায় নাই। ‘ফ্রিডম অফ স্পিচ’ ইউ নো। তা করুক, ঈর্ষা করার অধিকার সবারই আছে।   তো যা বলছিলাম, ইয়াং জেনারেশান খুব প্যাশনেটলি ‘জান’ শব্দটিকে কাছে টেনে নেয়ায়, এর বিপক্ষে সেভাবে কেউ অবস্থান নেয়নি। অ্যাটলিস্ট, আনটিল টুডে।

এবার আসি, ‘জবান’ প্রসঙ্গে। এটাও বিদেশি শব্দ। তবে ‘জান’ এর তুলনায় ‘জবান’ আন্ডারইউটিলাইজড। ‘জবান’ ছিঁড়ে ফেলব’-এর চেয়ে জিব ছিঁড়ে ফেলব বেশি চলে। আর ল্যাঙ্গুয়েজ বোঝাতে ‘ভাষা’ সেই তুলনায় অনেক বেশি ইউজ হয়। অনেক বেশি দ্যোতনাময়। ‘জবান’ বরং হিন্দি সিরিয়ালে বেশি ইউজ হয়। শব্দটা মধ্য প্রাচ্যের বেশি, না হিন্দি সিরিয়ালের বেশি, এনিয়ে গবেষণা করা যেতে পারে। আই থিংক, আগামী কিছুদিন, এনিয়ে পক্ষে বিপক্ষে স্ট্যাটাস প্রসব হবে।

যাই হোক, ফেসবুকীয় এন্টারটেইনমেন্ট আগামী কয়েকদিন কতোটা উচ্চতায় উঠবে, তা দেখার অপেক্ষায় থাকলাম। আন্দোলন যে শিকায় উঠে গেছে, সে নিয়ে মনে হয়না কারো সন্দেহ আছে। আন্দোলনের এগারোটা বাজা ই ছিল। এখন শুধু বারোটা বাজল, এই আর কি।

শেষ করছি, মজার একটা জোক দিয়ে। সেদিন শুনলাম। বেকুব ফ্রেন্ডদের সম্পর্কে একটা এক্সপ্রেশান প্রায়ই ইউজ করতাম, ‘ঐ শালার ব্রেইন তো হাঁটুতে’ সেটারই নতুন সংস্করণ হিসেবে শুনলাম এই জোক। এক বেকুবের উদ্দেশ্যে আরেকজন বলছে, ‘বেশি চিন্তা করিস না, হাঁটু ব্যাথা করবে।’

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত