প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

শরিফুজ্জামান শরিফ: শির দাঁড়া না বেচা একজন মানুষ

শরিফুজ্জামান শরিফ: ও আলোর পথযাত্রী গত বিশ বছরের বেশি সময় আপনাকে দেখেছি এই জনপদে সংঘটিত যে কোনো অনাচারের বিরুদ্ধে, সাহসী, নির্মোহ ও অ্যাক্টিভ চরিত্র হিসেবে। লেখক বলে কেবল খাতা-কলম নিয়ে পড়ে থাকেননি। শির দাঁড়া না বেচা একজন মানুষ আপনি। নিজে উদ্যোগ নিয়েছেন অন্যের ডাকে সাড়া দিয়ে ছুটে এসেছেন, বড় চেয়ারটায় বসার আহ্বান বিনয়ের সঙ্গে ফিরিয়ে দিয়ে মানুষের কাছে গিয়ে বসেছেন। ২০০২ সালে মোহাম্মদপুর জেনেভা ক্যাম্পের বিদ্যুৎ লাইন কেটে দেওয়ার পর গরমে ১০-১১ জন মানুষের মৃত্যুর প্রতিবাদে একমাত্র আপনি ছুটেছেন আটকে পড়া পাকিস্তানিদের নেতা নাসিম খানের ঘুপচি ঘরে, তার পর লাগাতার অনশনে। নরসিংদীতে ক্রসফায়ার এর শিকার চারটি কিশোরের বাড়িতে তাদের পরিবারের পাশে, একমাত্র আপনি। গাজীপুরের হযরত আলী। কন্যার ধর্ষণের বিচার না পেয়ে মেয়েসহ ট্রেনের নীচে ঝাঁপ

আপনি ছুটেছেন হযরত আলীর উঠানে। সেখান থেকে ডিসি অফিসের বারান্দায় ধর্না। আসামি গ্রেফতার না হলে উঠবো না। ছুটে এসে ডিসির আশ্বাস এবং একে একে আসামি গ্রেফতার। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের ভিসি গ্রুপের নিষ্ঠুর হামলার শিকার ছাত্র শিক্ষক অনশনে। কেউ যায় না, পাছে সরকার কিছু বলে। আপনি তাদের পাশে অনশনে। সঙ্গে আমি আর রোবায়েত ফেরদৌস আসার সময় কতো ঠাট্টা। আমার জীবনের শখরোবায়েত এর বিয়ে খাওয়া। ঢাকায় একটা পূর্ণাঙ্গ বার্ন ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার দাবিতে প্রবল বৃষ্টির ভেতর ছাতা মাথায় মানববন্ধনে, আপনি। ঢাকা সিটিকে বিভক্ত করা হচ্ছে জাতীয় সংসদে আইন পাশ হচ্ছে। শহিদ মিনারে আপনি বসে পড়েছেন, ঐতিহাসিক এই শহরের বিভাজনের বিরুদ্ধে। আদমজী পাটকল খুলে দেওয়ার দাবিতে একটা তালা হাতে আপনি প্রেসক্লাবের সামনে মলিন মুখে।

সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতন, মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার আগ্রাসী বোমার বিরুদ্ধে আর মিয়ানমারের গণহত্যা বন্ধের দাবিতে। কৃষকের ফসল আর শ্রমিক এর ঘামের ন্যায্য দামের দাবিতে রাজপথে আপনি। এই জনপদের অধিকার হারা মানুষের পাশে আপনি ছিলেন সব সময়। শেষ দেখা এইতো সেদিন যাদুঘরের সামনে অসুস্থ শরীর, তার পরও এলেন চিম্বুকের বুকে হোটেল নির্মানের প্রতিবাদে গ্রীন ভয়েস এর প্রোগ্রামে। রোদে দাঁড়াতে পারছিলেন না, পড়ে যাচ্ছিলেন সবাই জোর করে আপনাকে গাড়িতে তুলে দিলাম যাবার সময় সেই চিরচেনা স্নেহমাখা কণ্ঠ আইসো, তুমি বাসায় আইসো। গল্প করে জমিয়ে রাখতেন অসম্ভব রসবোধ ছিলো অভিভাবক হারানোর শোক অনুভব করছি। সৈয়দ আবুল মকসুদ অন্ধকারে আপনি আলো জ্বালাতে চাইতেন। মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হবেন আরো বহুকাল। শ্রদ্ধা। ফেসবুক থেকে শাহিন

সর্বাধিক পঠিত