প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সাত খুন মাফ! ফাঁসি আটকাতে প্রেমিক সেলিমকে চাই শবনমের

ডেস্ক রিপোর্ট : উদ্দাম প্রেম…. সেই প্রেমের খাতিরেই কতটা নৃশংস হতে পারে মানুষ, তারই একটা নমুনা দেখিয়েছিলেন স্নাতকোত্তর, পেশায় শিক্ষিকা উত্তরপ্রদেশের শবনম…যে প্রেমিকের সঙ্গ পেতে এমন কাণ্ড…. সেই এখন রক্ষাকবচ…. কীভাবে?

আটকে যেতে পারে শবনমের ফাঁসি। যে প্রেমিকের সঙ্গ পেতে নৃশংসভাবে কুপিয়ে নিজের গোটা পরিবারকে শেষ করে দিয়েছিল শবনম, সেই হতে পারে চুড়ান্ত মুহূর্তে শবনমের রক্ষাকবচ। প্রেমিক সেলিমের কারণেই আপাতত আটকে যেতে পারে সাতটি খুনে দোষী সাব্যস্ত অপরাধীর ফাঁসি।

অন্যদিকে, মায়ের ‘সাত খুন মাফ’-এর আর্জি নিয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চেয়েছেন শবনমের নাবালক পুত্র। রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ সেই আর্জির কী উত্তর দেন তা সময়ই বলবে, তবে আমরোহার শবনমের ফাঁসি আপাতত পিছিয়ে যাওয়ার অন্য একটি কারণও সামনে এসেছে। ২০০৮ সালের আমরোহা গণহত্যা মামলায় শবনম ছাড়াও অভিযুক্ত তার প্রেমিক সেলিম। সাতটি খুনে শবনমকে সাহায্য করেছিল সে। এই সেলিমের কারণেই শবনমের ফাঁসি পিছিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ, সেলিমর আইনজীবী এই তাঁর সাজা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে পুর্নবিবেচনার আপীল করেছিলেন। সেই আপীল এখনও শীর্ষ আদালতে বিচারাধীন। একই মামলার অন্য অভিযুক্তের কেসের বিচার চলাকেই নিজের ক্ষেত্রে হাতিয়ার করতে পারেন শবনম। তাঁর আইনজীবী জানিয়েছেন, শবনম ও সেলিমের ফাইল সেশন কোর্ট থেকেই একসঙ্গে চলছিল। রাষ্ট্রপতিও দুজনের মৃত্যুদণ্ডের আর্জি একইসঙ্গে খারিজ করেছিলেন কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট শুধু শবনমের আর্জিই খারিজ করেছেন। এক্ষেত্রে একই অপরাধে দুই অপরাধীর ভিন্ন বিচারের কারণ দেখিয়ে আদালতে যাওয়ার কথা ভাবছেন শবনমের আইনজীবী। সেলিমের সাজা পুর্নবিবেচনার মামলা চললেও কিভাবে শবনমের ফাঁসির সমন ইস্যু করা হল প্রশ্ন তুলেছেন আইনজীবী সমশের সেফি।

 

স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে এই প্রথমবার কোনও মহিলা অপরাধীর ফাঁসির সাজা কার্যকর হতে চলেছে। ভারতীয় সংবিধান অনুযায়ী বিরল থেকে বিরলতম নৃশংসতার ঘটনায় প্রাণদণ্ডের সাজা শোনায় আদালত। সেই বিরলতম নৃশংসতার সংজ্ঞাতেই দোষী সাব্যস্ত শবনম। কিন্তু কী করেছিল সে?

 

স্নাতকোত্তর উত্তীর্ণ পেশায় শিক্ষিকা শবনম অষ্টম পাশ কাঠের মিস্ত্রি সেলিমের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ায় তুমুল ঝড় ওঠে পরিবারে। সম্পর্ক মেনে না নেওয়ায় প্রেমের তাড়নায় প্রেমিক সেলিমের সঙ্গে মিলে গোটা পরিবারকে শেষ করে ফেলে শবনম। ২০০৮ সালে ১৪-১৫ এপ্রিল রাতে প্রেমিকের সঙ্গে মিলে কুড়ুল নিয়ে এক এক করে কুপিয়ে খুন করে নিজের বাবা, মা, দাদা, বউদি, দিদি, দিদির ছেলেকে। রেহাই পায়নি ১০ মাসের ভাইপোও। তবে অনেক ফন্দি এঁটেও পুলিশের নজরকে ফাঁকি দিতে পারেনি শবনম এবং সেলিম। তদন্ত শুরু হতেই ফাঁস হয়ে যায় সমস্ত মিথ্যে। পুলিশি জেরায় দোষ কবুল করে সে। গ্রেফতার হয় সেলিমও। ২০১০ সালে ১৪ জুলাই জেলা ও দায়রা আদালত মৃত্যুদণ্ড দেয় এই প্রেমিক যুগলকে। এই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে গেলেও তাদের আর্জি খারিজ হয়ে যায়। পরে শবনমের প্রাণভিক্ষার আবেদনও খারিজ হয়ে যায় রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের কাছে।

 

স্বাধীন ভারতে প্রথম মহিলা কয়েদি শবনমের ফাঁসির প্রস্তুতি চলছে উত্তরপ্রদেশের মথুরার জেলে। ১৫০ বছর আগে মহিলাদের ফাঁসির জন্য তৈরি ঘরেই প্রথমবার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হবে বলে জানা গিয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত অপরাধীর কোনও ফাঁসির দিন ধার্য হয়নি।

সূত্র- এইসময়

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত