প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] শিগগিরই কোস্ট গার্ডে যুক্ত হবে অত্যাধুনিক উচ্চ প্রযুক্তি সম্পন্ন জলযান: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সুজন কৈরী: [২] মুজিববর্ষের চেতনায় এবং গৌরবোজ্জ্বল স্বাধীনতার সূবর্ণ জয়ন্তীর দ্বারপ্রান্তে বিপুল উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের ২৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়েছে। রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাহিনীর সদর দপ্তরে দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান। কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার এডমিরাল এম আশরাফুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মোস্তাফা কামাল উদ্দীন উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া আমন্ত্রিত সামরিক ও অসামরিক অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

[৩] অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালকসহ ৪০ জন কর্মকর্তা, নাবিক, অসামরিক কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বীরত্বপূর্ণ ও সাহসী কার্যক্রমের জন্য পদক বিতরণ করেন। বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড পদক, প্রেসিডেন্ট কোস্ট গার্ড পদক, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড (সেবা) পদক ও প্রেসিডেন্ট কোস্ট গার্ড (সেবা) পদক এই চার ক্যাটাগরিতে পদক তুলে দেন মন্ত্রী।

[৪] এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড দুই যুগেরও অধিক সময় ধরে সমুদ্র বানিজ্য ও উপকূলীয় জনগনের নিরাপত্তা বিধানে নিরলস চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তাই এ বাহিনীকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে সরকার বদ্ধপরিকর। এই বাহিনীতে খুব শিগগিরই যুক্ত হবে অত্যাধুনিক অফশোর প্যাট্রল ভেসেল (ওপিভি), হোভারক্রাফ্ট ও অন্যান্য উচ্চ প্রযুক্তি সম্পন্ন জলযান। এ সকল জলযান দিয়ে এই বাহিনী অর্পিত দ্বায়িত্ব পালন করে দেশ ও জাতির কল্যাণ সাধনে তাদের কর্মকান্ড অব্যাহত রাখবে বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি। তিনি আরও বলেন, উপকূলীয় এলাকায় অবস্থিত কোস্ট গার্ডের বিভিন্ন বেইজ, স্টেশান ও আউটপোস্টে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে এ বাহিনীর পরিপূর্ণ বিকাশ সুনিশ্চিত করা হবে।

[৫] কোস্টগার্ডের আধুনিকায়নে প্রয়োজনীয় সকল উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠার পর থেকে কোস্ট গার্ডের সদস্যরা আন্তরিক ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। তারা সমুদ্রের অভিভাবক। কোস্টগার্ড সত্যিকার অর্থেই একদিন ‘গার্ডিয়ান অব সি’ হয়ে উঠবে।

[৬] তিনি বলেন, কোস্ট গার্ডে চারটি অস্ত্র ভ্যাসেল সংযুক্ত করা হয়েছে। আরও চারটি অস্ত্র ভ্যাসেল যুক্ত করা হচ্ছে। প্রয়োজনে বাহিনীতে এয়ার উইং সংযোজন করা হবে। সব ধরনের লজিস্টিক সাপোর্ট দিয়ে আধুনিকায়ন করা হবে।

[৭] স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কোস্ট গার্ডে নিজস্ব জনবল নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। এটি শুরু হলে কোস্ট গার্ডের নিজস্ব সদস্য থাকবে যারা স্থায়ীভাবে বাহিনীতে থেকে সেবা দিয়ে যেতে পারবেন।

[৮] অনুষ্ঠানে কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার এডমিরাল এম আশরাফুল হক বলেন, প্রধানমন্ত্রীর পৃষ্ঠপোষকতা ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের সুযোগ্য ও যুগপোযোগী দিক নির্দেশনার ফলে এ বাহিনীর আধুনিকায়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। সেই সঙ্গে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের সদস্যরা দেশ প্রেমর চেতনা সমুন্নত রেখে তাদের অটুট মনবল, নিরলস কর্মস্পৃহা ও কঠোর প্ররিশ্রমের মাধ্যমে সরকার ঘোষিত রূপকল্প ২০৩০ ও ২০৪১ বাস্তবায়নে সর্বদা সচেষ্ট থাকবে বলে অঙ্গিকার ব্যক্ত করছি।

[৯] তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুদূর প্রসারী ভাবনার ফলেই আমাদের নিজস্ব সমুদ্র এলাকা দাবী সম্বলিত ‘The Territorial Waters and Maritime Zones Act, 1974’ প্রণীত হয়। পরে তারই সুযোগ্য কন্যা প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড প্রতিষ্ঠার সোপান রচনা করেন। ১৯৯৪ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ বিরোধী দলে থাকা অবস্থায় জাতীয় সংসদে ‘বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড বিল’ উত্থাপন করে। যার প্রেক্ষিতে এই বাহিনীর যাত্রা শুরু হয়। শুরুতে বাংলাদেশ নৌবাহিনী থেকে ২টি জাহাজ ও ২টি বোট এবং প্রেষণে আগত ২২০ জন নৌ সদস্য নিয়ে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড তার পথ চলা শুরু করে। এরপর কালের পরিক্রমায় প্রধানমন্ত্রীর দিক নির্দেশনায় বাহিনীতে নতুন নতুন প্লাটফর্ম ও অবকাঠামো সংযোজিত হয়েছে। ফলে বাহিনীর অপারেশনাল কর্মকান্ডে ব্যাপক গতি সঞ্চার হয়েছে এবং অর্জিত হয়েছে নানা সাফল্য। কোস্ট গার্ডের নিরলস প্রচেষ্টায় চট্টগ্রাম বন্দর ঝুঁকিপূর্ণ বন্দরের তালিকা থেকে মুক্ত হয়ে একটি নিরাপদ বন্দরে পরিনত হয়েছে।

[১০] জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী তথা মুজিববর্ষ উদযাপনের লক্ষ্যে কোস্ট গার্ড ব্যাপক কার্যক্রম গ্রহণ করে। যার মধ্যে চর ও দ্বীপাঞ্চলের স্থানীয় জনগণের মাঝে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করা, উপকূলীয় জেলেদের লাইফ জ্যাকেট ও রেইনকোট বিতরণ, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত গরীব ও দুস্থদের মাঝে ত্রাণ সহায়তা দেয়া ইত্যাদি রয়েছে। এছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে বিশ্বব্যাপী চলমান কোভিড মহামারির দুঃসহ দিনগুলোয় উপকূলীয় অঞ্চলের প্রায় তিন কোটি মানুষের মাঝে সাহস আর ভরসা জুগিয়েছেন কোস্ট গার্ডের সদস্যরা। করোনাকালীন ভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে লকডাউন ব্যবস্থাপনা ও জননিরাপত্তার দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি খাদ্যসামগ্রী নিয়ে অসহায়, দুঃস্থ, কর্মহীন এবং শ্রমজীবী মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে কোস্ট গার্ড। ভবিষ্যতেও দেশের জন্য নিবেদিত প্রাণে সততা, পেশাদারিত্ব এবং দেশপ্রেমের চেতনাকে বুকে ধারণ করে দেশের উন্নয়নে কাজ করে যেতে বদ্ধ পরিকর কোস্ট গার্ড। সর্বোপরি জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার দৃঢ় প্রত্যয়ে জাতির প্রত্যাশা পূরণে নিরলস কাজ করে যাবে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড।

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত