প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মঞ্জুরুল আলম পান্না: আল-জাজিরার তথ্যচিত্র এবং আমাদের বিভক্ত সাংবাদিক সমাজ

মঞ্জুরুল আলম পান্না: দেশের সাংবাদিক সমাজ যে চরমভাবে দুই ভাগে বিভক্ত, তা আবারও প্রমাণিত হয়েছে আল-জাজিরার তথ্যচিত্রকে ঘিরে। এক পক্ষ তথ্যচিত্রটিকে কোনো প্রকার অনুসন্ধানী প্রতিবেদন নয় বলে উড়িয়ে দিচ্ছেন। আরেক পক্ষ এমনভাবে এটিকে তুলে ধরছেন যে, সেখানে যা যা বলা হয়েছে সবই সত্য। একমাত্র ডেইলি স্টার ছাড়া আর কেউই নির্মোহভাবে প্রতিবেদনটির বিশ্লেষণ করেনি। আল-জাজিরার তথ্যচিত্রে উথ্বাপিত অভিযোগগুলোকে উড়িয়ে দেওয়া না গেলেও অনুসন্ধানী প্রতিবেদন হিসেবে এর তথ্য-উপাত্তে (Content)  যথেষ্ঠ ঘাটতির কথা আমি এর আগের লেখাতে উল্লেখ করেছি। যারা এটিকে একবারে উড়িয়ে দেওয়ার কথা বলছেন তাদের উদ্দেশ্য যেমন প্রশ্নবিদ্ধ, আবার তথ্যচিত্রটিতে যারা যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন বলে দাবি করছেন তারা ‘অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার’ নীতি-নৈতিকতাকেও (ঊঃযরপং) প্রশ্নবিদ্ধ করছেন। দু-পক্ষই সমাজের জন্য বিপজ্জনক।

তথ্যচিত্রে একটি বিশেষ দিক আমার নজরে পড়েছে একটু দেরিতে হলেও। যার বক্তব্যকে মূল উপজীব্য করে এটি নির্মাণ করা হয়েছে সেই ব্যক্তির আসল নাম প্রকাশ না করে একটি ছদ্মনাম- ‘স্যামি’ ব্যবহার করা হয়েছে, যা প্রতিবেদনটির ধারা বর্ণনাতেই আছে। যার চেহারা খুব কাছ থেকে স্পষ্টভাবে দেখিয়ে বক্তব্য ধারণ করা হচ্ছে সরাসরি ক্যামেরায়, তার আসল নাম কেন ব্যবহার করা যাবে না, একজন সাধারণ সংবাদকর্মী হিসেবে আমার মাথায় ঢোকে না। ‘সাংবাকিতা জগতের’ সঙ্গে এটিকে  স্রেফ তামাশা হিসেবেই মনে হয়েছে আমার কাছে। বাংলাদেশের সেনাপ্রধানকে নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন উথ্বাপিত হলেও তথ্যচিত্রের নাম দেওয়া হয়েছে ‘অল দ্যা প্রাইম মিনিস্টারস মেন’। অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে কোনো বিষয় উল্লেখ না করলেও তাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করা হয়েছে।

ডেইলি স্টার বলছে, ‘প্রতিবেদনে এটা প্রমাণ করতে পারেনি যে এই গ্যাং প্রধানমন্ত্রীর লোক এবং তারা ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মাধ্যমেই সুযোগগুলো নিচ্ছে’। সেনাপ্রধানের ভাইদের জাল পাসপোর্ট, তার ছেলের বিয়েতে পুলিশের তালিকায় থাকা ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’হিসেবে পলাতক ভাইদের এদেশে এসে সেখানে উপস্থিত থাকার বিষয়গুলো আমরা একেবারেই উড়িয়ে দিতে পারি না। তাই ডেইলি স্টার একথাও বলছে যে, ‘চাঞ্চল্যকর আর দশটি বিষয়ের মতো একেও সেভাবে অস্বীকার করা হলে, জাতিকে অনেক বেশি মূল্য দিতে হতে পারে। তথ্যকে গ্রহণ ও অতিরঞ্জনকে বর্জন। এভাবেই সরকার একটা দায়িত্বশীল প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে’। সবশেষ খবর হলো-জাতিসংঘের মহাসচিবের মুখপাত্র স্তেফান দুজারিচ বলেছেন, ‘আল-জাজিরার  প্রতিবেদনে বাংলাদেশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা তদন্ত করা উচিত’। জাতিসংঘের এই মন্তব্য যে খুবই তাৎপর্যপূর্ণ, সরকার কি তা বুঝতে পারছে? ফেসবুক থেকে  মাসুদ হাসান

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত