প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা : ট্রাম্প ভালো চিঠি লিখে গেছেন কিন্তু ভালো আমেরিকা কি রেখে গেছেন?

সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা : হোয়াইট হাউস ছেড়ে চলে যাওয়ার আগে পরবর্তী প্রেসিডেন্টের জন্য আগের প্রেসিডেন্টের চিঠি লিখে যাওয়ার প্রথা আমেরিকার প্রথম প্রেসিডেন্ট জর্জ ওয়াশিংটনের সময় থেকেই চালু হয়। সাধারণত এই চিঠি সৌজন্যে পরিপূর্ণ থাকে। কিন্তু ট্রাম্প কী চিঠি লিখে গেলেন তা নিয়ে আগ্রহ সবার। মানুষ যতো সন্দেহই করুক নতুন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলছেন, তার জন্য খুবই মানবিক একটি চিঠি রেখে গেছেন পূর্বতন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই চিঠি তার ভালো লেগেছে। ভালো চিঠি লেখে গেছেন, কিন্তু ভালো আমেরিকা রেখে গেছেন কিনা সেটি এক বড় প্রশ্ন। গত ৬ জানুয়ারি আমেরিকার কংগ্রেসের ক্যাপিটল বিল্ডিংয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থকরা যে তাণ্ডব করেছে তার রেশ দেশটিতে থাকবে অনেকদিন। কয়েক হাজার উগ্র মানুষ ট্রাম্পের সমর্থনে স্লোগান তুলে ক্যাপিটল বিল্ডিংয়ে জোর করে ঢুকে পড়ে, ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। নিহত হয় কয়েকজন।

মানুষ যতো সন্দেহই করুক নতুন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলছেন, তার জন্য খুবই মানবিক একটি চিঠি রেখে গেছেন পূর্বতন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই চিঠি তার ভালো লেগেছে। ভালো চিঠি লেখে গেছেন, কিন্তু ভালো আমেরিকা রেখে গেছেন কিনা সেটি এক বড় প্রশ্ন। বাইডেন যখন বলেন, এই দেশের আত্মাকে আবার প্রতিষ্ঠা করতে হবে, তখন সেই আত্মায় ট্রাম্প প্রেতাত্মা কতোটুকু আছে ৬ জানুয়ারির ঘটনা সেটা মনে করিয়ে দেয়। এই ঘটনা বিশ্বের কাছে মার্কিন অবয়বটা বদলে দিয়েছে। কিন্তু একই সঙ্গে এটি আমেরিকানদের কাছেও নতুন এক চেহারা। ঘটনা যখন ঘটছিলো তখন মার্কিন টিভি চ্যানেলগুলোয় কমেন্টেটররা বলছিলেন এ রকম ঘটনা শুধু ঘটতে পারে বাগদাদ, সিরিয়া কিংবা বেনগাজিতে, আমেরিকাতে নয়। এ কারণেই অনেকে বলছেন, বাইডেনের যাত্রা শুরু হলেও, ট্রাম্প ক্ষমতা ছেড়ে গেলেও ট্রাম্পিজমের অবসান হয়নি। দেশের অর্ধেক ভোটারের ভোট পাওয়া ট্রাম্প আমেরিকান রাজনীতির ময়দানে বড় সাংস্কৃতিক পরিবর্তন নিয়ে এসেছেন। ২০১৬ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে নাম লেখানোর সময় থেকে এখনও অজস্রবার বিতর্কে জড়িয়েছেন ট্রাম্প। যৌন নিগ্রহ, ধর্ষণ, কর ফাঁকি, রুশ-সংযোগ, ভুয়া খবর ছড়ানো, বর্ণবাদ উসকে দেওয়াসহ একের পর এক অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। আর এতে নয়া সংযোজন ছিলো ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটল হিলের ঘটনা, যেখানে জনগণের রায় অস্বীকার করে, উন্মত্ত জনতাকে ক্যাপিটলে ঢুকে তাণ্ডব চালানোয় উসকানি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। যে কারণে মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগে ইমপিচমেন্টও হয়েছে তার বিরুদ্ধে।

পূর্বসূরীর থেকে তিনি যে সম্পূর্ণ ভিন্নভাবে প্রশাসন চালাবেন, শপথ নেওয়ার পরই স্পষ্ট করে দিলেন ৪৬তম প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। গত চার বছরে জাতি-সম্প্রদায়ের বিভেদ দেখেছে দেশটি। ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসকে পাশে বসিয়ে তার ভাষায় ‘আনসিভিল ওয়ার’ নিরসনের ডাক দিয়েছেন বাইডেন। শুরুতেই ট্রাম্প আমলে জারি করা ১৭টি নির্দেশিকা বাতিলের জন্য এক্সিকিউটিভ অর্ডারে সই করেছেন তিনি। এরমধ্যে রয়েছে বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থায় পুনঃপ্রবেশ, প্যারিস জলবায়ু চুক্তি কার্যকর করা এবং মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের নাগরিকদের আমেরিকায় প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার। অনেকেই বলছেন ট্রাম্প জমানা এখন অতীত। কিন্তু সাত কোটিরও বেশি ভোটারের সমর্থন পাওয়া ট্রাম্প মার্কিন সমাজের গভীরে যে শে^ত অহংকার, যে বিদ্বেষ আর বিভাজনের ক্ষত রেখে গেছেন সেটিও আরেক নবযুগের সূচনা করতে পারে। যাওয়ার আগে আমেরিকাবাসীর উদ্দেশে ট্রাম্প বলে গেলেন, ‘অভূতপূর্ব চার বছর কেটেছে। আমি সারাজীবন আপনাদের জন্য যুদ্ধ করে যাব। অন্যভাবে ফিরব।’ এই অন্যভাবেটা কী, সেটাই এখন ভাবনা আমেরিকায়। যে আমেরিকা সারা পৃথিবীতে সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধ করে, দেশে দেশে সৈন্য পাঠায়, সেই আমেরিকায় এমন ভয়ংকর সন্ত্রাসী আছে তার প্রমাণ দেখল বিশ^বাসী ৬ জানুয়ারি। শ্বেতাঙ্গ জঙ্গি জাতীয়তাবাদীদের বিরুদ্ধে বাইডেন প্রশাসন কী ধরনের ‘অ্যান্টি- রেডিক্যালিজম’ ব্যবস্থা নেন সেটি এখন আলোচ্য বিষয়।

বাইডেন তার প্রশাসন চালাতে যে টিম গঠন করেছেন তারা জানেন মার্কিন জনগণ দম আটকে আসা এক পরিবেশ থেকে মুক্তবাতাসে নিঃশ্বাস নিতে চায়। তাই প্রথম নির্বাহী আদেশেই বেশ কিছু ট্রাম্পীয় সিদ্ধান্ত বাতিল হয়েছে। জো বাইডেনের চিফ অব স্টাফ বলেছেন, প্রেসিডেন্ট (বাইডেন) শুধু ট্রাম্প প্রশাসন যেসব খারাপ সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন সেগুলো বাতিলই করবেন না, আমেরিকার প্রগতির পথও ঠিক করবেন। আমেরিকায় করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন চার লাখ মানুষ। এখনও রোজ সংক্রামিত হয়ে চলেছেন হাজার হাজার জন। তাই এই বিষয়টিকে মোটেই হালকাভাবে নিতে চাইছেন না বাইডেন। এই নিয়ে কড়া পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছেন। তবে ধীরে ধীরে বিদেশনীতি, দেশের অভ্যন্তরের নানা রাজনৈতিক ও আর্থসামাজিক ইস্যু নিয়ে এগুতে হবে তাকে। এর আগে আর কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টকে এমন বিদ্বেষ আর বিভাজনে পূর্ণ মার্কিন সমাজের শাসনভার হাতে নিতে হয়নি। তবে প্রাথমিক কাজকর্ম আভাস দিচ্ছে যে, আমেরিকা একটি উদারপন্থী দেশ হিসেবে আবারও বিশ্বব্যবস্থার নেতৃত্বের স্থানে ফিরে যাবে। শ্বেতাঙ্গ জাতীয়তাবাদী ও নয়া নাৎসিপন্থীরা ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটল ভবনে তাণ্ডব চালিয়ে একটা নতুন সুযোগ সৃষ্টি করেছে বাইডেনের জন্য। ট্রাম্প যেমন বর্ণবাদী ও বিদেশবিদ্বেষীদের ভোট পেয়েছেন, তেমনি পেয়েছেন উদারপন্থীদের ভোটও। তারা এই হামলার পর অনেকটাই ট্রাম্পের ওপর অসন্তুষ্ট বাইডেন প্রশাসনের লক্ষ্য আসলে দুটো – যুক্তরাষ্ট্র বৈশ্বিক নেতৃত্ব ধরে রাখা এবং নিজের দেশকেও গণতান্ত্রিক পথে চলতে দেওয়া। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত