প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

পাকিস্তানে জঙ্গি হামলায় নিহত শিয়া মুসলমানদের দাফন অনুষ্ঠানে ইমরান খান

রাশিদ রিয়াজ : আফগানিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ এক বিবৃতিতে পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশে হাজারা শিয়া মুসলিম হত্যাকাণ্ডের ঘটনা তদন্ত ও এর সঙ্গে জড়িতদের বিচারের সম্মুখীন করার জন্য উদ্যোগ নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। এ ব্যাপারে সরকারকে সহযোগিতা করতে আফগান জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ প্রস্তুত রয়েছে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে। হতভাগা নিহতরা ছিল বেলুচিস্তানের খনি শ্রমিক এবং শুধু শিয়া হওয়ার কারণে তাদেরকে হত্যা করা হয়।

গতকাল পাকিস্তানের কোয়েটা শহরে নিহতদের দাফন অনুষ্ঠানে পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান এবং সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল কামার বাজওয়া উপস্থিত ছিলেন। পাকিস্তানে তৎপর উগ্র তাকফিরি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী দায়েশ বা আইএস সন্ত্রাসীরা আজ ওই হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে বলেছে তারা ১১ জন হাজারা শিয়া মুসলমানকে হত্যা করেছে।

আইএস সন্ত্রাসীরা বেলুচিস্তানের মাচে কয়লা খনিতে হাজারা শিয়া মুসলমানদের হত্যার পর কোয়েটায় হাজার হাজার শিয়া মুসলমান বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে এবং তারা সংখ্যালঘু শিয়া মুসলমানদের রক্ষায় পদক্ষেপ নেয়ার জন্য স্থানীয় সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

পাকিস্তানের হাজারা শিয়া মুসলমানরা প্রায়ই উগ্র ধর্মান্ধ জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর হামলার শিকার হয়। গত এক দশকে পাকিস্তানের বিভিন্ন স্কুল, বাজার কিংবা রাস্তায় পেতে রাখা বোমা বিস্ফোরণে এ পর্যন্ত বহু পাকিস্তানি নিহত হয়েছে। শিয়া মুসলমানরাই এসব হামলার মূল লক্ষ্য থাকে। সর্বশেষ কয়লা খনিতে ১১জন শিয়া মুসলমানকে হত্যার ঘটনা এতো বেশি আলোড়ন সৃষ্টি করেছে যে, স্বয়ং দেশটির প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান নিহতদের দাফন ও জানাজা অনুষ্ঠানে অংশ নেয়ার জন্য কোয়েটায় ছুটে গেছেন। তিনি নিহতদের পরিবারবর্গের সঙ্গে দেখা করে তাদের সহমর্মিতা জানান। জানাজা অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ও সেনা প্রধান উপস্থিতি হওয়ায় আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের জনমনে এবং দুদেশের গণমাধ্যমগুলোতে ওই হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে আরো বেশি স্পর্শকাতরতা ও প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে।

পাকিস্তানে টার্গেট করে শিয়া মুসলমানদের ওপর হত্যাকাণ্ড ঘটেই চলেছে। সে কারণে ওই দেশটির শিয়া মুসলমানরা এ ধরণের হত্যাকাণ্ড বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার জন্য দেশের সরকার ও নিরাপত্তা বাহিনীর কাছে আবেদন জানিয়েছে।

পাকিস্তানের সরকার, নিরাপত্তা বাহিনী ও অন্যান্য রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এ পর্যন্ত যদিও বহুবার উগ্র জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোকে মোকাবেলার কথা বলেছে। কিন্তু এ ধরনের হত্যাকাণ্ড বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে তারা ব্যর্থ হয়েছে। পাকিস্তানের জনগণ মনে করে, জঙ্গিগোষ্ঠীগুলোকে শুধু কালো তালিকাভুক্ত করাই যথেষ্ট নয় বরং তাদের নেতাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।

বাস্তবতা হচ্ছে, জঙ্গি নেতাদের স্বল্প মেয়াদে জেলখানায় পাঠানোসহ বিচার বিভাগের দুর্বল অবস্থানের কারণে এ ধরণের হত্যাকাণ্ড থামছে না এবং সংখ্যালঘু মুসলমানরা অনবরত উগ্রপন্থীদের হাতে হামলার শিকার হচ্ছে। পারসটুডে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত