প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আতিকুজ্জামান ফিলিপ: ১৯৭১ সালে আমরাই জিতেছিলাম, ২০২১ সালেও জিতবো আমরাই, ইনশা আল্লাহ

আতিকুজ্জামান ফিলিপ: সমাগত ২০২১ সাল। অনেকেই হয়তো ইতোমধ্যেই জেনে গেছেন যে দিন ও তারিখ হিসেবে ২০২১ সালের সঙ্গে ১৯৭১ সালের হুবহু মিল আছে। শুধু দিন ও তারিখের মিল না, পঁঞ্চাশ বছর পরে এসেও আমরা এই দু’টি সালের মধ্যে আরো কিছু প্রায় একইরকম মিল খুঁজে পাচ্ছি। সেই মিলগুলো নেতিবাচক হলেও মনে আশা রেখে বলতে চাই- উনিশশো একাত্তর আমাদের ছিলো, দু’হাজার একুশও আমাদের হবে ইনশাল্লাহ্। একাত্তরে আমরাই জিতেছিলাম, একুশেও আমরাই জিতবো ইনশাল্লাহ্। আমরা দেখেছিলাম, একাত্তরেও ইসলামের নামে ধর্মান্ধ মোল্লারা এদেশের ধর্মভীরু মানুষকে ধর্মান্ধতার আফিম গিলিয়ে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধটাকে ধর্মযুদ্ধে রুপ দিতে চেয়েছিলো! তারা সফল হয়নি, তারা পারেনি। আমরা মুক্তিযুদ্ধকে ‘মুক্তিযুদ্ধ’ হিসেবেই জয় করেছিলাম। দু’হাজার একুশ আসতে না আসতেই আবার সেই একই খেলা শুরু হয়েছে। পরাজিত পাকিস্তানি প্রেতাত্মা, তাদের এদেশিয় দোসর ও ধর্মান্ধ আলেমরুপী জালেমরা আবার এদেশের ধর্মভীরু নিরীহ মানুষগুলোর ঘাড়ে সওয়ার হয়ে তাদের ব্যক্তিগত বৈতরণী পার করতে চাচ্ছে, তাদের ব্যক্তিগত ও কায়েমী গোষ্ঠী স্বার্থ সিদ্ধি করতে চাচ্ছে, আমার প্রিয় বাংলাদেশে তালেবানি মোল্লাতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে চাচ্ছে। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধটা কোনো বিচারেই ইসলামের বিরুদ্ধে ছিলো না ঠিকই তবে সেসময় মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে এই ইসলামকেই অপব্যাবহারের অপচেষ্টা করা হয়েছিলো সর্বোতভাবে, এ সত্য তো আজ সর্বজনবিদিত। পর্দার সামনে থেকে চরমোনাই, হেফাজত ও কওমী এবং পর্দার পেছন থেকে জামায়াতের ( সেদিন জামায়াতে ইসলামী পর্দার সামনে থেকে ন্যঙটো হয়ে নেমেছিলো আজ তারা পর্দার আড়ালে ঘোমটা পরে নেমেছে, পার্থক্য শুধু এটুকুই) যেসব আলেমরুপী জালেমরা বিভিন্ন ওয়াজ ও সভাসমাবেশে ধর্মীয় জিগির তুলে, গলার শির ফুলিয়ে উন্মাদ সারমেয়র মতো বিভীষিকাময়ী ও বিভৎস গগণবিদারী চিৎকারে আকাশবাতাস গরম করছে, আজ থেকে পঁঞ্চাশ বছর আগে তাদের পূর্বপুরুষেরাও এমন চিৎকার তুলে ম্যাৎকার করেছিলো।

একাত্তরে তারা পারেনি, চরমভাবে পর্যুদস্ত হয়েছিলো। একুশেও তারা পারবে না, চরমভাবে পরাজিত হয়ে আস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হবে ইনশাল্লাহ্। ‘মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠের দেশ’ বিধায় এই দেশ শরীয়া আইন অনুযায়ী চলবে – এমনই উদ্ভট চিন্তা আর অপদর্শন নিয়ে সেদিন তারা মাঠে নেমেছিলো। সেদিন তারা সফল হয়নি। ১৯৭০’র নির্বাচনে এদেশের সাতকোটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ জনতাই রায় দিয়ে জানিয়ে দিয়েছিলো এইদেশ কোনো শরীয়া আইন অনুযায়ী চলবে না।

মহান মুক্তিযুদ্ধে ত্রিশ লক্ষ প্রাণ আর দু’লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে এদেশের সাতকোটি জনগণ সেদিন জানিয়ে দিয়েছিলো এদেশ তার নিজের রচিত দর্শন ও সংবিধান অনুযায়ীই চলবে, শরীয়া আইন অনুযায়ী নয়। যে প্রশ্নের সমাধান একাত্তরেই হয়ে গিয়েছিলো মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠের দোহাই দিয়ে সেই একই প্রশ্ন সামনে এনে সেই পুরোনো শকুনীরা আবারো এইদেশের পবিত্র লাল-সবুজ পতাকাকে খামছে ধরতে চাচ্ছে, আবারো তারা বলতে চাচ্ছে সংবিধান নয়, শরীয়া আইন অনুযায়ীই এই দেশ চলবে! আমরা দৃঢ় প্রত্যয়ে দ্ব্যর্থহীন কন্ঠে বলতে চাই-সেদিন তারা পরাজিত হয়েছিলো, আজও তারা পরাজিত হবে ইনশাল্লাহ্। এদেশ তার সংবিধান ও জাতীয় চার মূলনীতি সামনে রেখেই চলবে ইনশাল্লাহ্। সেদিনও ‘জয় বাংলা’ জিতেছিলো, আজও ‘জয় বাংলা’ই জিতবে ইনশাল্লাহ্।

পুনশ্চঃ আমরা বিশ্বাস করতে চাই- ‘ইসলাম’ আর ভণ্ড আলেম এক জিনিস নয়। আমরা বিশ্বাস করতে চাই-‘ইসলাম’ আর বলাৎকারকারী হুজুর এক জিনিস নয়। আমরা বিশ্বাস করতে চাই- সভাসমাবেশ কিংবা ওয়াজে অনর্গল মিথ্যা বয়ান বর্ষনকারী আলেমরুপী জালেম আর ‘ইসলাম’ এক জিনিস নয়। তাই এসব ভণ্ড আলেমরুপী জালেম আর বলাৎকারকারীদের বিরোধীতা করা মানে ‘ইসলামে’র বিরোধীতা করা নয়। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত