প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আহসান হাবিব: বেগম রোকেয়ার সঙ্গে কলাম্বিয়ান শিল্পী শাকিরার মিল খুঁজে পাই

আহসান হাবিব: কলাম্বিয়ান শিল্পী শাকিরার সঙ্গে বেগম রোকেয়ার মিল খুঁজে পাই। তারা দুজনই গড়ে তুলেছেন প্রতিষ্ঠান। কাদের জন্য? একজন শিক্ষাবঞ্চিত দারিদ্রপীড়িত শিশুদের জন্য আর একজন পিছিয়ে পড়া পুরুষতন্ত্রের জাতাকলে পিষ্ট মেয়েদের জন্য। দুজনের স্থান এবং কাল আলাদা, কিন্তু সমস্যা একই বঞ্চনা। এই বঞ্চনার বিরুদ্ধে তারা অন্যদের মতো শুধু কথা বলে থেমে থাকেননি, প্রতিষ্ঠা করেছেন প্রতিষ্ঠান। দুজনেই গড়ে তুলেছেন স্কুল, অন্য কিছু নয়। কারণ তারা দুজনেই শনাক্ত করেছিলেন শিক্ষা ছাড়া নিজেদের মুক্তির কোনো উপায় নেই। ১৪১ বছর আগে রোকেয়া জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ভাবতে অবাক লাগে সেই যুগে কী করে একজন নারী এমন দিব্যদৃষ্টি সম্পন্ন মানুষ হয়ে উঠেছিলেন। তিনি সমাজকে নিরীক্ষণ করেছিলেন অসাধারণ যুক্তি এবং বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে। তিনি একজন সমাজতাত্ত্বিক হিসেবে অতীতের সব কিছুকে প্রশ্ন করে যে সিদ্ধান্ত টেনেছিলেন তা বিস্ময়কর। তার ‘অবরোধবাসিনী’ পড়লে বোঝা যায় তিনি কত সুক্ষ্মভাবে সমাজে ঘটে চলা ঘটনাগুলিকে পর্যবেক্ষণ করেছিলেন।

শুধু পর্যবেক্ষণ করেই ক্ষান্ত হননি, এর কারণগুলো শনাক্ত করেছেন এবং এর বিরুদ্ধে লিখেছেন। তিনি ধর্মগ্রন্থগুলোকে পুরুষের বানানো নারী বিরোধী বলে মন্তব্য করছেন একদিকে এবং অন্যদিকে পুরুষতন্ত্রকে নারীদের প্রধান শত্রু বলে চিহ্নিত করেন। এসব শক্তিশালী পুরুষ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তিনি লড়াই শুরু করেন এবং মেয়েদের শিক্ষা ছাড়া কোনোমুক্তি নেই এই লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠা করেন মেয়েদের স্কুল মাত্র ৮ জন ছাত্রী নিয়ে এই স্কুল শুরু করেন। আজ সেই প্রতিষ্ঠান এক বিরাট মহীরুহে পরিণত হয়েছে। শাকিরাও একই কাজ করেছেন, তিনি সবচেয়ে সুবিধা বঞ্চিত প্রত্যন্ত অঞ্চলে নির্মাণ করেছেন অন্যকিছু নয়,স্কুল, সেখান থেকেই ছড়িয়ে পড়েছে অসংখ্য জায়গায়। তাদের আরও একটি জায়গায় দারুণ মিল আছে তারা বৈষম্যের জন্য দায়ী ধর্ম,

সামন্তবাদ,পুরুষতন্ত্র এবং পুঁজিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে এসে কোনো গালিগালাজের আশ্রয় নেননি। প্রখর যুক্তি এবং উপযুক্ত লক্ষ্যভেদী ভাষায় আক্রমণ করে গেছেন এবং নিজেদের মুক্তির জন্য কাজ করে গেছেন। বেগম রোকেয়ার একটি কথা দিয়ে শেষ করছি রোকেয়ার প্রতি আমার শ্রদ্ধা। শুভ জন্মদিন। ‘আমরা ঈশ্বর ও মাতার নিকট ভ্রাতাদের ‘অর্ধেক’ নহি। তাহা হইলে এইরুপ স্বাভাবিক বন্দ্যোবস্ত হতো পুত্র যেখানে (মাতৃগর্ভে) দশমাস স্থান পাবে, দুহিতা সেখানে পাঁচ মাস। পুত্রের জন্য যতোখানি দুগ্ধ (মাতৃদুগ্ধ) আমদানি হয়, কন্যার জন্য তাহার অর্ধেক। সেরূপ তো নিয়ম নেই’। ফেসবুক থেকে

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত