প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

লুৎফর রহমান রিটন: হোয়াইট হাউজ পরিদর্শন এবং হোয়াইট সুপ্রিমেসি অবলোকন

লুৎফর রহমান রিটন : কানাডায় আসার আগে, ২০০২ সালের মার্চে, মাসখানেক সময় আমি নিউইয়র্কে ছিলাম। থাকতাম উডসাইড এলাকায়। শিল্পী নামের এক ছোটবোনের বাড়িতে। এক দুপুরে আমরা গিয়েছিলাম ওয়াশিংটনে। উদ্দেশ্য হোয়াইট হাউজসহ গুরুত্বপূর্ণ কিছু জায়গা ও স্থাপনা পরিদর্শন। এদিক সেদিক ঘুরে শেষ বিকেলের দিকে গিয়েছিলাম প্রেসিডেন্ট ভবন অর্থাৎ হোয়াইট হাউজের দিকে। বিখ্যাত সাদা বাড়িটার সমুখ ভাগের বিশাল একটা অংশ সবুজ ঘাস, ফুল, বৃক্ষ আর পত্র-পল্লবে ঠাঁসা। এই অংশটা লোহার কালো লম্বা শিকের সীমানা প্রাচীর দিয়ে ঘিরে রাখা, যাতে করে আমার মতো উটকো কোনো অতি উৎসাহী জনতা সুরক্ষিত সেই সাদা বাড়িতে ‘মান ইয়া নাই মান, ম্যায় তেরা মেহমান’ বলে ঢুকে পড়তে না পারে।

সুতরাং আমরাও ঢুকতে পারলাম না। আমাদের মতো কিছু বিনা দাওয়াতের অতিথি দূর থেকেই উঁকি-ঝুঁকি মেরে হোয়াইট হাউজ দর্শন করে ‘মানব জন্ম এবং জীবন যৌবন সার্থক’ করছেন। হাইলি সিকিউর্ড বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ এবং সংরক্ষিত এলাকা বলে পাগলা টুরিস্টরাও এখানে সুশীল টুরিস্টের মতো ভদ্র-নম্র-বিনয়ী আর উচ্চবাচ্য শব্দ রহিত। নাইন ইলেভেনের পর বদলে যাওয়া পৃথিবীর বিশাল ধাক্কাটা এখানে যে লেগেছে তার প্রমাণ টুরিস্টদের জন্যে উন্মুক্ত হোয়াইট হাউজের সমুখভাগের অতীতের বিশাল বিস্তীর্ণ অঞ্চলটা সীমিত হয়ে গেছে। লোহার কালো লম্বা শিকের সীমানা প্রাচীরটা বহুদূর এগিয়ে এসেছে রাস্তার দিকে। টুরিস্টদের হাঁটা-চলার জন্যে জায়গা রাখা হয়েছে খুব সামান্যই।

সেই সীমাবদ্ধ জলে আর সীমিত সবুজেই আমরা আমাদের তৃষিত নয়নকে ‘বরিষ ধারার মাঝে শান্তির বারি’তে প্রশান্ত করে তুললাম। শুধু একজন পঞ্চাশোর্ধ্ব ব্যক্তিতে দেখলাম কিছু একটা দাবি উৎকীর্ণ একটা প্ল্যাকার্ড নিয়ে নিরবে একবার ডানদিকের শেষ মাথায় যাচ্ছেন আবার ফিরে আসছেন বাম দিকের শেষ প্রান্তে। প্ল্যাকার্ডে মোটা তুলিতে লেখা বাণীর সাইডটা সারাক্ষণ তিনি ধরে রাখছেন হোয়াইট হাউজের দিকে। তাঁর ধারণা হোয়াইট হাউজ থেকে দায়িত্বশীল কেউ না কেউ একজন নিশ্চয়ই লক্ষ্য করবেন প্রবীণের দাবিটাকে। আর মিডিয়া তো রইলোই। নিশ্চয়ই কেউ ছবি তুলে সেটা প্রচার করবেন পত্রিকা বা টেলিভিশনে। কিন্তু তিনি কোনো স্লোগান দিচ্ছেন না। মাত্র একজন লোকের প্রতিবাদ মিছিল দেখলাম জীবনে প্রথম।

হোয়াইট হাউজের সামনের ব্যারিকেড-রাস্তা পেরিয়ে সড়ক লাগোয়া পার্কে ঢুকে অস্থায়ী একটা রস্ট্রাম মতো জিনিস পাওয়া গেলো। পাকা রস্ট্রাম। ইট-বালু-সিমেন্টের তৈরি। ক্ষুব্ধ পাবলিক এইখানে দাঁড়িয়ে বক্তৃতা করেন। ক্ষোভ মেটান। আমিও কপট রাগের একটা বক্তৃতা ঝাড়লাম কাল্পনিক সমবেত জনতার উদ্দেশ্যে। অভিনেতা হিসেবে দক্ষ নই বলে বক্তৃতার অভিনয়কালে আমার ছবি তোলার সময় ক্যামেরার দিকে ফলস্লুকের মতো হেসে ফেললাম। ফলে প্রতিবাদী বক্তৃতার ভঙ্গিটা মাঠে মারা গেলো। ঈষৎ সংক্ষেপিত।

সর্বাধিক পঠিত