প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সেই রিকশাচালক এখন উদ্যোক্তা

ডেস্ক রিপোর্ট: ফজলুর রহমানের এই কান্না ছিল সঙ্কটকালের একমাত্র অবলম্বন রিকশাটি হারানোর জন্য। সোমবার জিগাতলায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ব্যাটারিচালিত রিকশা উচ্ছেদ অভিযানে তার রিকশাটিও তুলে নেয়া হয়।
হাজারীবাগ এলাকার বাসিন্দা ফজলুর জানান, করোনার মধ্যে দোকানের কাজ হারিয়ে ১৫ দিন আগে ৮০ হাজার টাকা ধার-দেনা করে ব্যাটারিচালিত রিকশাটি কিনেছিলেন তিনি।

সর্বস্ব দিয়ে কেনা জীবিকার বাহনটি হারিয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন চালক। এরপর যোগাযোগমাধ্যম তো বটেই, জাতীয় গণমাধ্যমেও তার কান্নার বিষয়টি সাড়া ফেলে। ব্যাথিত হন অনেকেই।

এক পর্যায়ে তার কান্নার ছবি চোখে পড়ে সুপারশপ ‘স্বপ্ন’র নির্বাহী পরিচালক সাব্বির হাসান নাসিরের। সঙ্গে সঙ্গে তিনি যোগাযোগ করতে বলার পর ফজলুর রহমানের সঙ্গে দেখা করেন প্রতিষ্ঠানটির হেড অব মার্কেটিং তানিম করিম, মানবসম্পদ বিভাগের প্রধান শাহ মো. রিজভী রনী এবং মিডিয়া-পাবলিক রিলেশন ম্যানেজার কামরুজ্জামান মিলু।

এরপর বুধবার সন্ধ্যায় তেজগাঁওয়ে একটি রেস্তোরাঁয় ‘স্বপ্ন’র উদ্যোক্তা হওয়ার অফার লেটার তার হাতে তুলে দেয়া হয়। আর এভাবেই স্বপ্নের উদ্যোগে উদ্যোক্তা হচ্ছেন রিকশাচালক ফজলুর রহমান।

‘স্বপ্ন’র উদ্যোগে উদ্যোক্তা হওয়ার বিষয়টা জানার পর ফজলুর রহমান বেশ উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। কারণ তিনি এখন দুটি রিকশার মালিক। আরো একজন তাকে একটি রিকশা কিনে দেবেন বলেও জানান তিনি। এই রিকশাগুলো ‘স্বপ্ন’র হোম ডেলিভারি সার্ভিসে কাজে লাগাতে চান তিনি, হতে চান একজন উদ্যোক্তা।

উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে ফজলুর রহমান বলেন, আমার দেশের বাড়ি কুমিল্লা। একটা সময় সিনজির গ্যারেজে কাজ শিখতাম। তারপর টুকটাক করে টাকা জমিয়ে ধার করে রিকশাটা কিনেছিলাম। সেই রিকশা হারানোর পর কী কষ্ট হচ্ছিল বোঝাতে পারব না। কিন্তু আজ আমার খুব ভালো লাগছে। ভেতরের আনন্দটা এখন আর বোঝাতে পারব না। ভালো একজন উদ্যোক্তা হয়ে ব্যবসটা ভালোভাবে চালিয়ে যেতে চাই। স্বপ্নকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

ডেইলি বাংলাদেশ

 

সর্বাধিক পঠিত