শিরোনাম
◈ বাংলাদেশি কার্গোর বাজার ধরতে সমুদ্র বন্দরের ৪৯ শতাংশ শেয়ার বিক্রি করছে আদানি ◈ হৃদয়কে অধিনায়ক, জিম্বাবু‌য়ের বিরু‌দ্ধে ১৫ জ‌নের বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি দল ঘোষণা ◈ বিশ্বকা‌পে ব্যর্থতার দায় স্বীকার ক‌রে নেদারল্যান্ডসের কোচের পদ থেকে ইস্তফা কোম্যানের, নতুন কোচ হ‌তে পা‌রেন আর্নে স্লট ◈ রাজধানী ঘিরে সড়ক ও নৌপথে নতুন পরিকল্পনা, অগ্রগতি পর্যালোচনা প্রধানমন্ত্রীর ◈ বাংলা‌দে‌শের স‌ঙ্গে চীনের লাইফলাইন কানেকশন, ভারতের চাণক্য বুমেরাং, ইস্ট লুকে আশা সাইবারে হতাশ ◈ এমবাপের বিশ্বরেকর্ড, ফ্রান্সের যত কীর্তি ◈ অভিন্ন প্রশ্নপত্রে এইচএসসি, থাকছে বডি ওর্ন ক্যামেরা ও লাইভ নজরদারি ◈ দেশে আরও নতুন ৩ উপজেলা ও ১ থানার অনুমোদন ◈ সিন্দুক বা সীমান্ত পাহারার চেয়েও এখন সাইবার নিরাপত্তা বেশি জরুরি: তথ্যমন্ত্রী ◈ ২০২৭ সালে হজে যেতে ইচ্ছুকদের জন্য সুখবর: আজ থেকে প্রাক-নিবন্ধন শুরু, শেষ সময় ২৬ সেপ্টেম্বর

প্রকাশিত : ০৫ অক্টোবর, ২০২০, ০৭:২৩ সকাল
আপডেট : ০৫ অক্টোবর, ২০২০, ০৭:২৩ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

আমিনুল ইসলাম: কতোটা নিচে নেমে গিয়েছে আমাদের সমাজের মানুষগুলো!

আমিনুল ইসলাম: কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সদ্য পাস করা এক মেয়ের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। পত্রিকা পড়ে এবং টেলিভিশন দেখে যা বুঝতে পেরেছি, তাতে ঘটনা হচ্ছে- মেয়েটার বড় বোনের বিয়ে হয়েছিলো। এরপর ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। তো, বড় বোনের সাবেক স্বামী তার দলবল নিয়ে এসে তিন্নি নামের এই মেয়েটার বড় বোনকে জোর করে উঠিয়ে নিয়ে যেতে চাইছিল। তিন্নি বাঁধা দিলে তার বোনের এই সাবেক স্বামী, ওই স্বামীর দুই ভাই, মামা, মামাত ভাই সবাই মিলে তাকে পাশের রুমে নিয়ে পাশবিক নির্যাতন চালায়। এরপর হত্যা করে ফ্যানের সাথে ঝুলিয়ে রেখে চলে যায়। অন্তত মেয়েটার পরিবার এমনটাই দাবি করেছে এবং এদের সবার নামে মামলা করেছে। আর সেখানকার পুলিশ কী বলছে, শুনবেন? ‘মেয়টা লজ্জায় আত্মহত্যা করেছে!’ মেয়েটাকে হত্যা করা হয়েছে নাকি মেয়েটা আত্মহত্যা করেছে; সেটা না হয় তদন্তের ব্যাপার। এতোটুকু মানতে পারছি। কিন্তু মেয়েটা ‘লজ্জায়’ আত্মহত্যা করেছে; পুলিশ কেন এভাবে বলছে? মেয়েটা কী কোথাও লিখে গিয়েছে- আমি ‘লজ্জায়’ আত্মহত্যা করছি? তাহলে পুলিশ কেন আগ বাড়িয়ে ‘লজ্জা’ শব্দটা ব্যাবহার করেছে? এটাই আমাদের সমাজ। এখানে যারা ধর্ষণ করে, তারা লজ্জিত হয় না। লজ্জায় নাকি মেয়েটা আত্মহত্যা করেছে। কোনো তদন্তের আগেই পুলিশ কী চমৎকার করে বলে দিয়েছে, ‘লজ্জায়’ আত্মহত্যা করেছে। ধর্ষিত হলে মেয়েটাকে ‘লজ্জিত’ হতে হবে; এমন ধ্যান-ধারণা এভাবেই তৈরি হয়।

একবার চিন্তা করে দেখুন, তিন আপন ভাই, মামা, মামাত ভাই সবাই এক সাথে মিলে ধর্ষণ করেছে। কতোটা নিচে নেমে গিয়েছে আমাদের সমাজের মানুষগুলো। আর এই যে কুষ্টিয়ার ইসলামী ইউনিভার্সিটির একটা মেয়েকে এভাবে ধর্ষণ করে মেরে ফেলা হলো- কই, ফেসবুকে তো এই ঘটনা নিয়ে তেমন কোনো আলোচনা দেখতে পাচ্ছি না। অবশ্য মেয়েটা তো আর অতো মেধাবী ছিলো না। পড়েছে কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে। ঢাকা ইউনিভার্সিটি কিংবা বুয়েটের কেউ হলে অবশ্য পুরো ফেসবুক জুড়ে প্রতিবাদের ঝড় উঠত। রাস্তায় আন্দোলন হতো। টেলিভিশনের টকশোতে ঝড় উঠত। মেধাবীদের জন্য আমাদের আবার আলাদা আবেগ আছে। পত্রিকায় বড় করে শিরোনাম করা যায়, মেধাবী ছাত্র বা ছাত্রীর রহসসজনক মৃত্যু। তখন আমরাও বলে বসি- আহা, কতো মেধাবী ছিলো। কতো সম্ভাবনা ছিলো। অকালেই ঝড়ে গেলো। অথচ এই মেয়েটারও হয়তো অনেক স্বপ্ন ছিলো; ভালোবাসার মানুষ ছিল। ফেসবুক থেকে

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়