শিরোনাম
◈ বাংলাদেশি হিন্দু-শিখ-জৈন শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেওয়ার আশ্বাস অমিত শাহের ◈ ফিফার শা‌স্তির পর আর্জেন্টিনাকে নি‌য়ে স্পেনের গণমাধ্যমে উসকানিমূলক সংবাদ প্রচার ◈ জাতীয় স্বার্থ নিশ্চিত করেই প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ◈ চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় না আনলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ◈ কলকাতায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত পাঁচ বাংলাদেশির মরদেহ পেট্রাপোলে ◈ মন্ত্রিত্ব ছাড়লেন জহির উদ্দিন স্বপন, হলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ◈ সিলেটে তেলবাহী ট্যাংক লরি-অটোরিকশা সংঘর্ষে নিহত ৪ ◈ ভোলাকে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করতে মহাসড়ক নির্মাণের সিদ্ধান্ত, প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন ◈ সমুদ্রের পাশে ২০০ হেক্টরের মেগা পার্ক, বদলে যাচ্ছে এথেন্সের পুরোনো বিমানবন্দর ◈ দিল্লিকে ঢাকার কঠিন শর্ত: নেপথ্যে ‘অবিশ্বাস’, নাকি সম্পর্কের ‘রিসেট’ চায় ঢাকা?

প্রকাশিত : ০২ অক্টোবর, ২০২০, ০৬:২২ সকাল
আপডেট : ০২ অক্টোবর, ২০২০, ০৬:২২ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

কে পাচ্ছেন বিএনপির টিকিট?

ডেস্ক রিপোর্ট: ঢাকা-১৮ উপনির্বাচনের তফসিল হয়ে গেছে; কিন্তু এই আসনে বিএনপির প্রার্থী কে তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। দলের চূড়ান্ত টিকিটপ্রত্যাশী ৯ জনের মধ্যে তিনজন প্রার্থী রয়েছেন শর্ট লিস্টে। এরা হলেনÑ মহানগর উত্তর বিএনপির নেতা এম কফিল উদ্দিন আহম্মেদ, উত্তর বিএনপির রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত তরুণ ব্যবসায়ী বাহাউদ্দিন সাদী ও যুবদল উত্তরের সভাপতি এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যদের নিয়ে গঠিত মনোনয়ন বোর্ড উত্তরের এই আসনে পদপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নেয়ার পর ইতোমধ্যে দুই সপ্তাহের বেশি সময় পেরিয়ে গেছে; কিন্তু কাউকেই এখন পর্যন্ত সবুজ সঙ্কেত দেয়া হয়নি। গত ১২ সেপ্টেম্বর ওই সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠানের দিনে প্রত্যাশী প্রার্থীদের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ-ই এর মূল কারণ হিসেবে জানা গেছে। ওই সংঘর্ষের সূত্রপাত এস এম জাহাঙ্গীরের নেতাকর্মীরা ঘটিয়েছেন বলে মনোনয়নপ্রত্যাশী সাতজন লিখিতভাবে দলের হাইকমান্ডকে জানিয়েছেন। তারা লিখিত চিঠিতে এ-ও বলেছেন, ‘জাহাঙ্গীরকে মনোনয়ন দিলে তারা কেউই মেনে নেবেন না।’

এস এম জাহাঙ্গীরকে শুরু থেকেই তার অনুসারীরা মনোনয়ন পাওয়ার দৌড়ে সামনের সারির গুরুত্বপূর্ণ একজন হিসেবে ভেবে আসছেন। তবে ওই সংঘর্ষের পর কিছুটা হলেও বেকাদায় রয়েছেন এই যুবদল নেতা। যদিও জাহাঙ্গীর ওই ঘটনায় তার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই বলে দাবি করেছেন।

জানা গেছে, বিএনপির হাইকমান্ড অঘোষিতভাবে ওই ঘটনার তদন্ত করছে। ভিডিও ফুটেজ দেখে সংঘর্ষের ঘটনায় জড়িতদের তারা খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন, জড়িতরা কোন নেতার সমর্থক তা-ও দেখা হচ্ছে। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে একটি ভিডিও ফুটেজ পাঠিয়েছেন জাহাঙ্গীরের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা। ওই ফুটেজে দেখা যাচ্ছে- সংঘর্ষে মাথা ফেটে যার রক্ত বের হচ্ছে, তার নাম নাজিমুদ্দিন। সে কফিল উদ্দিনের সমর্থক। এরপর আরো বেশ কয়েকজন মারাত্মক আহতের ছবি রয়েছে, এরাও নিজেদের কফিলের লোক হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে এ সময় কয়েকজন নেতা-সমর্থক অভিযোগ করেন, এস এম জাহাঙ্গীরের লোকজন তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। ফুটেজে লালবৃত্ত করে হামলায় কে কে জড়িত তা দেখানো হয়েছে।

এদের মধ্যে লাাঠি হাতে কিংবা হামলার নির্দেশদাতা হিসেবে কয়েকজনকে চিহ্নিহ্নত করা হয়েছে। এরা হলেন- এস এম জাহাঙ্গীরের শ্যালক ছাত্রলীগ নেতা দিপু সিকদার, তুরাগ থানা যুবদল সেক্রেটারি মামুন পারভেজ তন্ময়, দক্ষিণখান ছাত্রদল নেতা আল আমীন সরকার, উত্তরা পূর্ব থানা যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক আলামিন শেখ রুবেল, উত্তরা প্্ূর্ব থানা যুবদলের সভাপতি আমিনুল হক, দক্ষিণখান থানা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মাসুদ আলম মিঠু, উত্তরা পশ্চিম থানা যুবদল সদস্যসচিব ফেরদৌস মজুমদার মাসুম, কর্মী আল আমিন সরকার, ৫৩ নম্বর ওয়ার্ড য্বুদল সেক্রেটারি জুয়েল রাজ ও উত্তরা পূর্ব থানা য্বুদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদ জামান সোহান। ফুটেজে হামলা শেষে তিনজনকে বক্তব্য দিতে দেখা যায়, এদের পরিচয় উল্লেখ করা হয়েছে- এস এম জাহাঙ্গীরের উত্তরা পূর্ব থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি কুতুবউদ্দিনের ভাতিজা এস আই টুটুল ও কর্মী আল আমিন সরকার। হামলাকারীদের কয়েকজন গুলশান কার্যালয়ের ভেতরে ঢুকে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের শাসাতে দেখা যায়। ভিডিওতে ২০১৭ সালের ৩১ মে জিয়াউর রহমানের শাহাদতবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ফুটেজও সংযুক্ত করা হয়েছে। এই ঘটনায়ও এস এম জাহাঙ্গীরকে দায়ী করা হয়েছে।

বিএনপির নীতিনির্ধারক পর্যায়ে কথা বলে জানা গেছে, পুরো ঘটনা দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান জেনেছেন। ওই ঘটনা কি কর্মী-সমর্থকদের তাৎক্ষণিক উত্তেজনার ফল, নাকি এতে কোনো নেতার পরিকল্পিত মদদ ছিল তা খুঁজে দেখা হচ্ছে। আগামী শনিবার দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এর চূড়ান্ত ফায়সালা হতে পারে। এই আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী রয়েছেন মোট ৯ জন। অন্যরা হলেনÑ ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, মোস্তাফিজুর রহমান সেগুন, ইসমাইল হোসেন, মোস্তফা জামান, মো: আখতার হোসেন ও আব্বাস উদ্দিন।

নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী, ঢাকা আসনে ভোট গ্রহণ হবে আগামী ১২ নভেম্বর। মনোনয়পত্র জমা দেয়ার শেষ তারিখ ১৩ অক্টোবর।

সূত্র : নয়া দিগন্ত

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়