প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

করোনাকালেও মন্ত্রীদের বিদেশ ভ্রমণ ভাতা বৃদ্ধি

ডেইলি স্টার: করোনা মহামারিতে নাজেহাল অবস্থা সারা পৃথিবীর অর্থনীতির। প্রতিটি দেশের সরকার এই ধাক্কা সামলে উঠতে ব্যয় সাশ্রয়ী পথ খুঁজছে। তবে ব্যতিক্রম বাংলাদেশ। খরচ কমানোর বদলে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং উপমন্ত্রীদের ভ্রমণ ব্যয় গত বছরের চেয়ে ৯৩ লাখ টাকা বাড়িয়েছে সরকার।

২৫ আগস্ট প্রতিটি মন্ত্রণালয় এবং বিভাগে দেওয়া মন্ত্রীপরিষদ বিভাগের এক চিঠিতে চলতি অর্থবছরের জন্য ভ্রমণ ব্যয়ের এই বরাদ্দের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

মন্ত্রীপরিষদ বিভাগের উপসচিব মো. সাইদুর রহমানের সই করা চিঠিতে বলা হয়েছে, মন্ত্রীদের জন্য ভ্রমণ ভাতা হিসেবে মোট ছয় কোটি ৯০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের জন্য বরাদ্দের পরিমাণ সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে।

২০১৯-২০২০ অর্থ বছরে এই বরাদ্দ ছিল প্রায় পাঁচ কোটি ৯৭ লাখ টাকা।

অর্থের পরিমাণের হিসাবে এই বৃদ্ধি খুব বেশি তাৎপর্যপূর্ণ মনে নাও হতে পারে। তবে, বিশেষজ্ঞরা মনে করেন যে করোনার ধাক্কা সামলে দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের পথে ফিরতে শুরু করেছে। এই সময়ে রাষ্ট্রীয় তহবিল ব্যয়ের বিষয়ে সরকারের আরও সতর্ক হওয়া উচিত।

প্রতিবেশী দেশ ভারত গত সপ্তাহে এমপিদের বেতন এক বছরের জন্য ৩০ শতাংশ কমিয়ে দেওয়ার বিল পাস করেছে। এমপিদের বেতন থেকে কেটে নেওয়া এই অর্থ ব্যয় হবে মহামারি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় আর্থিক সংস্থানের পরিপূরক হিসেবে।

একইভাবে, মহামারি কারণে উদ্ভূত সংকট পূরণের জন্য বাংলাদেশের সম্পদ পুনর্বাসন ও আর্থিক নীতিমালা পুনরায় বিবেচনা করা উচিত বলেই মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী যখন বর্তমান পরিস্থিতিকে জাতীয় সংকট বলে অভিহিত করেছেন এবং মহামারির কারণে উদ্ভূত অবস্থা মোকাবিলা করে রাজস্ব সংগ্রহ যেখানে সরকারের জন্য চ্যালেঞ্জ, তখন এ ধরনের খরচ বৃদ্ধি আর্থিক ও নৈতিক ভিত্তিতে অনুপযুক্ত।’

দ্য ডেইলি স্টারকে তিনি বলেন, ভ্রমণ ভাতাকে আয়ের উত্স হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।

তিনি আরও বলেন, ‘দেশের এমন পরিস্থিতিতে জনপ্রতিনিধিদের উচিত সামর্থ্য থাকলে নিজেদের এসব খরচ নিজেরাই বহন করে উদাহরণ তৈরি করা। কিংবা অপরিহার্য ভ্রমণের ক্ষেত্রে প্রকৃত খরচ সরকার বহন করতে পারে।’

চিঠিতে বলা হয়েছে, বরাদ্দকৃত অর্থ ভ্রমণ ব্যতীত অন্য কোনো উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা যাবে না। বরাদ্দের বাইরে আরও অর্থের প্রয়োজন হলে তার প্রস্তাব করতে হবে এবং মন্ত্রীপরিষদ বিভাগে পাঠাতে হবে।

মন্ত্রণালয় এবং বিভাগগুলোকে প্রতি তিন মাস অন্তর ভ্রমণ ব্যয়ের বিষয়ে মন্ত্রীপরিষদ বিভাগকে অবহিত করতে হবে।

কর্মকর্তারা বলছেন, মন্ত্রীদের ভ্রমণ ব্যয় সরকার বহন করলেও তারা সাধারণত বিভিন্ন আমন্ত্রণের মাধ্যমে বিদেশ ভ্রমণ করেন। সেক্ষেত্রে আমন্ত্রণদাতারাই তাদের খরচ বহন করে থাকেন।

যোগাযোগ করা হলে মন্ত্রীপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম দ্য ডেইলি স্টারকে সংশ্লিষ্ট ডেস্ক এবং চিঠিতে যিনি সই করেছেন তার সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন।

চিঠিতে সইকারি মো. সাইদুর রহমান বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারব না। সম্ভবত আমি কারও ছুটিতে বিকল্প হিসেবে সই করেছি। সংশ্লিষ্ট ডেস্কের কর্মকর্তা আপনাকে বিষয়টি সম্পর্কে বলতে পারবেন।’

যোগাযোগ করা হলে মন্ত্রীপরিষদ বিভাগের মন্ত্রীসভা সেবা শাখার এক কর্মকর্তা জানান, বাজেটে এই বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে মার্চে। তখনও মহামারি শুরু হয়নি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এই কর্মকর্তা বলেন, ‘তখন এমন মহামারি কোনো পূর্বাভাস ছিল না। জানুয়ারিতে যখন বাজেট সংশোধন করা হবে, তখন যদি টাকা খরচ না হয়ে থাকে তাহলে তা ফেরত দেওয়ার সুযোগ থাকবে।’

সর্বাধিক পঠিত