প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] বাড়ির পাশ দিয়ে রাস্তা নিয়ে যাওয়ার জন্য বেশি সড়ক নির্মাণ করা যাবে না: প্রধানমন্ত্রী

সাইদ রিপন: [২] মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ নির্দেশনা দিয়েছেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন একনেক চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী। সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান সংবাদ সম্মেলন করে সাংবাদিকদের বিস্তারিত জানান। একনেক সভায় ৫টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পগুলোর মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ২৬৬ কোটি টাকা। গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী ও পরিকল্পনামন্ত্রী যুক্ত হোন। অন্যদিকে শেরেবাংলা নগর এনইসি সম্মেলন কক্ষে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী-সচিবরা উপস্থিত ছিলেন।

[৩] পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়ে বলেছেন, কারোর বাড়ির সামনে অপ্রয়োজনীয়ভাবে রাস্তা নির্মাণ বা প্রশস্তকরণ করার মানসিকতা বাদ দিতে হবে। এছাড়া কৃষি জমি রক্ষায় নতুন রাস্তার চেয়ে বিদ্যমান রাস্তা সংস্কারে জোর দিতে হবে। সড়ক নির্মাণে কম জমি অধিগ্রহণের দিকে নজর দিতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। দেশে এমন অনেক পরিবার আছে যাদের বাড়ির কয়েক শতক জমি ছাড়া কিছুই নেই।
একনেক সভায় ‘ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় হবে ২৪৬ কোটি ২৮ লাখ টাকা। চলতি বছর থেকে ২০২৪ সালের জুন মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে মৎস অধিদপ্তর। প্রকল্পটি অনুমোদনের সময় প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন দিয়ে বলেছেন, ইলিশের উৎপাদন বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে খাঁচায় অন্যান্য মাছ চাষের জন্য প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নিতে হবে। প্রকল্পের আওতায় মা ইলিশ ও জাটকা সংরক্ষণে মৎস্য সংরক্ষণ আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হবে। ৩০ হাজার জেলে পরিবারের জন্য সৃষ্টি করা হবে বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ। জেলেদের ১০ হাজার বৈধ জাল বিতরণ ও প্রচার-প্রচারণার মাধ্যমে জনসচেতনতা সৃষ্টি করা হবে।

[৪] প্রকল্পের আওতায় ইলিশের ছয়টি অভয়াশ্রমে সুরক্ষা দেওয়া হবে। নিম্ন মেঘনা নদী, তেঁতুলিয়া নদী, আন্ধারমানিক নদী, নিম্ন পদ্মা নদীতে নির্দিষ্ট সময়ে মা ইলিশ আহরণ বন্ধ করা হবে। ইলিশ মাছ বাংলাদেশের প্রায় সব প্রধান নদ-নদী, মোহনা এবং উপকূলে ডিম ছাড়ে। তবে বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে ইলিশের চারটি প্রজননক্ষেত্র চিহ্নিত করা হয়েছে। সেগুলোতে পাহারা দেওয়া হবে। প্রকল্পের আওতায় ইলিশের ছয়টি অভয়াশ্রম পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা করা হবে। ইলিশ অভয়াশ্রম সংলগ্ন ১৫৪টি ইউনিয়নের জেলেদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে ১ হাজার ২৩২টি সভা, ৬০টি নানা ধরনের কর্মশালা, অভিযান পরিচালনার জন্য ১৯টি বোট কেনাসহ মা ইলিশ সংরক্ষণে ১৩ হাজার ৪০০টি মোবাইল কোর্ট ও জেলে পরিবারে বিকল্প কর্মসংস্থানের জন্য ১৮ হাজার জেলেকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। বর্তমানে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, রপ্তানি আয় ও আমিষ সরবরাহে ইলিশের গুরুত্ব অনেক। দেশের মোট মাছ উৎপাদনে ইলিশের অবদান সর্বোচ্চ ১৯ শতাংশ। ইলিশ জিডিপির ১ শতাংশে অবদান রাখে। উপকূলীয় মৎস্যজীবীদের আয়ের প্রধান উৎস ইলিশ আহরণ। প্রায় ৫ লাখ মানুষ ইলিশ আহরণে সরাসরি নিয়োজিত এবং ২০ থেকে ২৫ লাখ লোক প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষাভাবে জড়িত।

[৫] পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, এর আগে প্রত্যেক উপজেলায় একটি করে টেকনিক্যাল স্কুল নির্মাণের প্রতিশ্রুতি রয়েছে সরকারের। এ লক্ষ্যেই ৪০টি উপজেলায় কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ প্রকল্পের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, যারা বিদেশ থেকে ফেরত আসছেন তাদেরও প্রশিক্ষণ এবং অর্থ প্রণোদনা দেওয়া হবে। যাতে তারা আবারও বিদেশ গিয়ে বেশি আয় করতে পারবেন। এছাড়া দেশের অর্থনীতি বড় হচ্ছে, এজন্য দেশেই দক্ষ শ্রমিকের দরকার হবে।

[৬] সীমান্ত এলাকায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) জন্য ৭৩টি আধুনিক বর্ডার অবজারভেশন পোস্ট (বিওপি) নির্মাণ করবে সরকার। সীমান্তে অপারেশন ও প্রয়োজনীয় কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সীমান্তে বিজিবি সদস্যদের সুরক্ষিত অবস্থান নিশ্চিত করা হবে। প্রকল্পটি অনুমোদনের সময় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বিজিরি নিরাপত্তা বাড়াতে পর্যায়ক্রমে আরও বিওপিগুলো নির্মাণ করা হবে। প্রকল্পের মাধ্যমে বিদ্যমান ৪৯টি বিওপি পুনঃনির্মাণ ও নতুন ২৪টি বিওপি নির্মাণসহ মোট ৭৩টি বিওপি নির্মাণের প্রস্তাব করা হবে। এটি বস্তবায়নে মোট ব্যয় হবে ২৩৩ কোটি ৫২ লাখ ছয় হাজার টাকা। চলতি বছর থেকে থেকে ২০২৩ সালের জুনে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে বিজিবি।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত