প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] আগেই সিদ্ধান্ত বলে দিলে তদন্ত বাধা গ্রস্ত হয় : হাইকোর্ট

নূর মোহাম্মদ : [২] হাইকোর্ট বলেছেন, কোন ঘটনার তদন্তের পূর্বশর্ত হলো ফলাফল না বলা। আগেই কোন বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিলে তদন্ত বাধাগ্রস্ত হয়। আদালত বলেন, একটি ঘটনা শুরু হয়েছে, রাতেই টকশোতে আলোচনা করে সমাধান করে ফেললে তদন্ত কর্মকর্তার ওপর প্রভাব পড়ে। এসব কাজ থেকে সবাইকে বিরত থাকাই ভাল।

[৩] নারায়ণগঞ্জে ধর্ষণের শিকার হয়ে মারা যাওয়া কিশোরী ফেরত আসা সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে বৃহস্পতিবার আদালত এসব কথা বলেন। বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের বেঞ্চে এ বিষয়ে শুনানি হয়।

[৪] আদালত বলেন, সাংবাদিকদের দোষ কী? যদি তদন্ত কর্মকর্তা ব্রিফিং করেন, গায়ে লিখে হাজির করেন আসামির কাছে কি পাওয়া গেছে? যদি স্বাক্ষী প্রমাণে দেখা যায় আসামি নির্দোষ, তখন কি হবে? কারণ তাকে দোষী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়েছে।

[৫] শুনানিতে আবেদনকারিদের আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদ ও ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি গ্রহণের সময় আসামির আইনজীবীর উপস্থিতি নিশ্চিতের আর্জি জানান। পরে আদালত এ বিষয়ে আদেশের জন্য আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেন। এর আগে এ মামলার নথিসহ তদন্ত কর্মাদের হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন আদালত।

[৬] গত ২৪ আগস্ট “ধর্ষণের পর নদীতে লাশ ফেলে দেয়া স্কুল ছাত্রী ৪৯ দিন পর জীবিত প্রত্যাবর্তন” শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। প্রকাশিত ওই সংবাদ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির হাইকোর্টের নজরে আনেন। তখন আদালত শিশির মনিরকে লিখিতভাবে আবেদন করতে বলেন।

[৭] নির্দেশ অনুযায়ী ওই বেঞ্চে রিভিশর মামলা দায়ের করা হয়। সুপ্রিম কোর্টের পাঁচজন আইনজীবীর পক্ষে মোহাম্মদ শিশির মনির রিভিশনটি দায়ের করেন। পাঁচজন আইনজীবী হলেন – আসাদ উদ্দিন, জোবায়েদুর রহমান, আশরাফুল ইসলাম, আল রেজা আমির এবং মিসবাহ উদ্দিন।

[৮] এর আগে গত ৪ জুলাই ৫ম শ্রেণির ছাত্রী দিসা নিখোঁজ হয়। গত ৬ আগস্ট নিখোঁজ স্কুল ছাত্রীর বাবা জাহাঙ্গীর হোসেন নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় অপহরণ মামলা দায়ের করেন। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ আব্দুল্লাহ, রকিব এবং খলিল নামে ৩ জনকে গ্রেফতার করেন। তারা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে।

[৯] আসামিরা স্বীকারোক্তিতে বলে যে, তারা দিসাকে গণধর্ষণের পর হত্যা করে লাশ শীতলক্ষ্যা নদীতে ভাসিয়ে দেয়। জবানবন্দি গ্রহণের পর আসামিদেরকে জেলে পাঠানো হয়। কিন্তু ২৩ আগস্ট দিসাকে খুঁজে পাওয়া যায়। এখন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে আসামিরা কীভাবে ধর্ষণ ও হত্যা সম্পর্কিত স্বীকারোক্তি দিয়েছে। যেখানে দিসা অক্ষত অবস্থায় ফেরত এসেছে।

সর্বাধিক পঠিত