প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

প্রভাষ আমিন: ফারহানা আফরোজরা এগিয়ে যাবে, সমাজকে এগিয়ে নেবে

প্রভাষ আমিন: ফারহানাকে মোটরসাইকেল চালাতে দেখে আপনার চোখ টাটাচ্ছে, কিন্তু কতো নারী পেটের দায়ে রিকশা চালাচ্ছে, টমটম চালাচ্ছে, নসিমন চালাচ্ছের, ঢাকায় পাঠাওয়ের মোটরসাইকেল চালাচ্ছে, গাড়ি চালাচ্ছে; আপনি জানেন, আপনি দেখেছেন? নারীরা নিজের যোগ্যতায় ট্রেন চালাচ্ছে, বিমান চালাচ্ছে, বিমান থেকে লাফ দিচ্ছে, দেশ চালাচ্ছে; আপনার অশ্লীল চিৎকার কিন্তু আপনার অযোগ্যতাকেই আরও বেশি করে তুলে ধরছে। ঠুনকো সমাজ আর ধর্মের দোহাই দিয়ে নারী-পুরুষ কাউকেই আপনারা আর আটকে রাখতে পারবেন না। ফারহানারা এগিয়ে যাবে এই অচলায়তন ভেঙে। আমি বলছি না কাল থেকে সব নারী সিগারেট খাবে, মদ খাবে, মোটরসাইকেল নিয়ে গায়ে হলুদে যাবে। আমার পয়েন্ট ক্লিয়ার- যার যেটা ভালো লাগবে, প্রচলিত আইন মেনে, অন্যের ক্ষতি না করে; তার সেটা করার পূর্ণ অধিকার আছে। তিনি ছেলে না মেয়ে সেটা বিবেচ্য নয়। ফারহানার কথাবার্তা শুনে মনে হয়নি তিনি তাত্ত্বিক নারীবাদী।

তিনি শুধু স্বাধীনভাবে মনের আনন্দে নিজের কাজটা করতে চেয়েছেন। তিনি টেরও পাননি, নিজের অজান্তে তিনি বাংলাদেশের নারীদের তিনি কতোটা এগিয়ে দিয়েছেন, তাদের সামনে থেকে কতো বড় বাধা সরিয়ে দিয়েছেন। ইদানীং কিছু আল্ট্রা নারীবাদী দেখি, যাদের কাছে নারীবাদ মানে হলো পুরুষবিদ্বেষ, তারা পুরুষশূন্য সমাজে বাস করে নারীবাদ কায়েম করতে চান। তারা জগতের সবকিছুর ওপর বিরক্ত, পায়ে পা বাঁধিয়ে ঝগড়া করতে একপায়ে খাড়া থাকেন। হাতে মদ আর সিগারেট নিয়ে স্বল্প পোশাকের ছবি ফেসবুকে দেওয়াকে তারা স্বাধীনতা মনে করেন, নারীবাদ মনে করেন। কিন্তু আমার কেন জানি মনে হয়, এই উগ্র ড্রয়িংরুম নারীবাদীরা মাঠে কাজ করা নারীদের প্রতিদিনের লড়াইটাকে আরও কঠিন করে দিচ্ছেন। আমার বিবেচনায় মাঠে-ঘাটে রিকশা চালানো, ইটভাঙা নারীরাই সত্যিকারের নারীবাদী, সৌখিন হলেও ফারহানারাই আসল নারীবাদী। আমি নারীবাদী নই, আমি মানবতাবাদী। আমি কখনোই নারীদের বা কারো সমান অধিকারে বিশ্বাসী নই।

আমাদের সমাজের পদে পদে বৈষম্য। সমান অধিকার দিয়ে বৈষম্য দূর হবে না। বৈষম্য দূর করতে চাই, ন্যায্য অধিকার। বছরের পর বছর নির্যাতন করে, ঠকিয়ে, কম দিয়ে নারীদের পিছিয়ে রাখা হয়েছে। তাই এখন সমান অধিকার দিলেও নারীরা পেছনেই থাকবে। আগে ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করে তাদের এগিয়ে আনতে, বৈষম্য দূর করতে হবে। তারপর সমান অধিকারের প্রশ্ন। আর নারী-পুরুষের পারস্পরিক সম্পর্কটা হতে হবে, আস্থা-বিশ্বাস-ভালোবাসার; কোনোভাবেই বিদ্বেষের নয়। ফিরে যাই ফারহানার মোটরসাইকেল বহর নিয়ে কনের হলুদযাত্রায়। সেখানে দুইটা পয়েন্ট- কারো মাথায় হেলমেট এবং মুখে মাস্ক নেই। তবে এ ব্যাপারে ফারহানার বক্তব্যকেই সমর্থন করে বেনিফিট অব ডাউটটা আমি তাকেই দিতে চাই। পুরো ব্যাপারটা ভিডিও করা হয়েছে। হেলমেট বা মাস্ক পরলে কাউকেই চেনা যেতো না। আর বধূ বেশের ফারহানা হেলমেট পরলে তার সাজ নষ্ট হয়ে যেত। আর পুরো ব্যাপারটি অতি অল্পসময়ের। নিজের অজান্তে ফারহানা যতো বড় বিপ্লব করেছে, এইটুকু বিচ্যুতি সেখানে মার্জনীয়। ফারহানারাই এগিয়ে যাবে, সমাজকে এগিয়ে নেবে। যারা বসে বসে ফারহানাদের টেনে ধরতে চাইবে, তারা পেছনেই থাকবে। ফেসবুক থেকে

সর্বাধিক পঠিত