প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] কালকিনিতে দুর্ভোগ থেকে বাঁচতে রাস্তায় ধান লাগিয়ে এলাকাবাসীর প্রতিবাদ

এইচ এম মিলন: [২] প্রচন্ড কাঁদা-পানির কারনে চলাচলে চরম দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার কয়ারিয়া এলাকার পুর্ব কয়ারিয়া গ্রামের যুবকরা রাস্তায় ধান রোপন করে অভিনব পন্তায় প্রতিবাদ জানিয়েছেন। ওই গ্রামের একমাত্র ভরসা প্রধান এ রাস্তাটি কাঁচাই রয়ে গেছে। কিন্তু আধুনিকতার ছোয়াই আজ পর্যন্ত এই অবহেলিত গ্রামের কোন রাস্তাঘাট স্পর্শ করেনি। সরকার যেখানে গ্রামকে শহরের সুবিধা প্রদান করার অঙ্গিকার করেছেন, কিন্তু সেখানে এই গ্রামের সকল কিছুতে এখনও পর্যন্ত উন্নয়নের কোন বালাই নেই।

[৩] স্থানীয় ও সরেজমিন সুত্রে জানাগেছে, ৫নং ওয়ার্ডের পূর্বকয়ারিয়া গ্রামের চৌধুরীহাট থেকে শিরাজ সরদারের বাড়ি পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার রাস্তাটি দীর্ঘদিন থেকেই নেই কোন সংস্কার। আর বর্ষাকালে এ রাস্তার হাটু কাদাঁয় চলাচল খুবই কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। এলাকাবাসি দীর্ঘদিন ধরে এ রাস্তার সংস্কারের দাবি জানালেও কোন কাজ না হওয়ায় এবার তারা রাস্তায় ধানের চারা রোপন করে নিরব প্রতিবাদ জানিয়েছেন। মনের কষ্টে ও দুর্ভোগ থেকে রক্ষার উপায় হিসেবে বুধবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে গ্রামবাসীরা কাঁচা রাস্তায় ধান রোপন করে এই মৌন প্রতিবাদ জানান।

[৪] অভিনব এই প্রতিবাদে অংশ নেন ওই এলাকার বিভিন্ন শ্রেনী পেশার শতাধিক মানুষ। এই হাটু কাঁদার রাস্তা দিয়েই গ্রামের শিক্ষার্থীদেরকে স্কুল-কলেজ যেতে হয়। জীবিকার তাগিদে জীবনের ঝুকি নিয়ে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার হাজার-হাজার মানুষকে প্রতিনিয়ত চলাচল করতে হয় এই রাস্তাটি দিয়ে। যুগের পর যুগ এই গ্রামের মানুষ কষ্ট আর প্রচন্ড দুর্ভোগের মধ্যে দিয়েই জীবন পার করে আসছেন।

[৫] এ ছাড়া কৃষকরা তাদের কৃষি পন্যের নায্যমুল্য থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছে। কারন বর্ষাকালে কৃষিপন্যসহ অন্যান্য পন্য পরিবহন করা যেন অসম্ভব এক বিষয়। এ গ্রামের কোন জরুরি অসুস্থ্য রোগীকে গ্রামের এই মেঠোপথ দিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় আরো বেশি অসুস্থ্য হয়ে পড়ে।

[৬] গ্রামের বাসিন্দা শিরাজ সরদার ও মো. ছিদ্দিকুর রহমানসহ অনেকেই আক্ষেপ করে বলেন, দেশের সব জায়গায় সবকিছু উন্নয়ন হলেও আমাদের অবহেলিত গ্রামের একমাত্র প্রধান রাস্তাটির উন্নয়ন হয়না। আর যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নত নয় বলে আমাদের জীবন মান উন্নয়ন হচ্ছেন না। আমাদের গ্রামের মেয়দের সহজে কেউ বিয়ে করতে চায়না কারণ রাস্তাঘাটের অবস্থা খুবই নাজুক।

[৭] কয়ারিয়া ইউপি পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুল হাসান নূরমোহাম্মদ মোল্লা বলেন, রাস্তাটি করার জন্য আমি সকল চেষ্টা অব্যহত রেখেছি।

[৮] এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকৌশলী মো. রেজাউল করিম বলেন, রাস্তাটি সংস্কার কাজ করার জন্য সকল চেষ্টা করছি। এবং হয়ে যাবে। সম্পাদনা: সাদেক আলী

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত