প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

পরিচয় তাদের ফুটবলার, এখন শ্রমিক!

ডেস্ক রিপোর্ট : পরিচয় তাদের ফুটবলার। ঢাকার লিগে তারা পরিচিত। নিজ এলাকা এবং খ্যাপের মাঠেও ফুটবলার হিসেবে দারুন সুনাম তাদের। অর্থকড়িও ভালোই উপার্জন হয়েছে তাদের । অথচ করোনা মাহামারী আজ তাদের বসিয়ে দিয়েছে পথে। পাল্টে দিয়েছে পরিচয় এবং পেশাও। ক্ষুদার জ্বালায় এদের কেউ চালাচ্ছেন অটো রিক্সা। কেউ রাজমিস্ত্রীর যোগালী। বস্তুা টানার শ্রমিক বা মুটের কাজ করেও এখন জীবন চালাতে হচ্ছে কোনো ফুটবলারকে। চায়ের দোকান দিয়ে, রিক্সা মেরামতের শ্রমিকের কাজও করতে হচ্ছে মাঠ মাতানো ফুটবলারদের। যাদের দুই চোখে ছিল লালসবুজ জার্সী গায়ে দেশের সম্মান উজ্জ্বল করার স্বপ্ন ছিল আজ তাদের অনিশ্চিত ভবিষ্যত।

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ চলমান অবস্থাতেই ১৫ মার্চের পর বন্ধ হয়ে যায় করোনার কারনে। জুনে হওয়ার কথা ছিল পেশাদার লিগের সেকেন্ড টায়ার বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নশিপ লিগ। ঢাকা মহানগরী সিনিয়র ডিভিশন লিগ, দ্বিতীয় বিভাগ এবং তৃতীয় বিভাগ লিগও করোনা মহামারী মাঠে গড়াতে দেয়নি। এই লিগ গুলোর সাথে বন্ধ হয়ে গেছে চট্টগ্রাম লিগও। লিগ ম্যাচের পাশাপাশি ফুটবলারদের আরেকটি বাড়তি আয়ের মাধ্যম ছিল বিভিন্ন জেলায় নানা ধরনের টুর্নামেন্টে খ্যাপ খেলে। করোনা সেটাও বন্ধ । তাই বাধ্য হয়েই অন্য পেশায় ফুটবলাররা।

প্রথম বিভাগের দল বাসাবো তরুন সংঘ। এই ক্লাবে খেলতেন আসিফ শেখ। খুলনার এই ফুটবলার এখন রুপসা নদীর তীরে বস্তা টানার কাজ বা মুটের কাজ করেন। আসিফ তথ্য দেন, ‘বস্তা প্রতি ৫ টাকা করে দিনে ৭০/৭৫ কেজির ৭০টি বস্তা ট্রাক থেকে গোডাউনে নিয়ে যাই। এ থেকে দিনে ৩০০/৪০০ টাকা পাই। তা দিয়েই চালাতে হচ্ছে ভরন পোষন পর্ব।’ বগুড়ার ছেলে মিডফিল্ডার আল আমিন গত বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নশিপ লিগে ( বিসিএল) খেলেছেন টি অ্যান্ড টি ক্লাব মতিঝিলের হয়ে। এই ফুটবলারের এখন দিন কাটছে সড়কে অটো রিক্সা চালিয়ে।

জানান, ‘ভাড়ায় চালিত এই বাহনে যাত্রী টেনে দিনে ৩ শত টাকার মতো পাই।’ এই জেলার আরেক ফুটবলার স্ট্রাইকার রাজীব আহমেদ। এবারের চ্যাম্পিয়নশিপ লিগে তার খেলার কথা ছিল ফর্টিস অ্যাকাডেমীর হয়ে। করোনায় এই লিগের দলবদল না হওয়ায় এখন পেটের দায়ে তিনি রাজ মিস্ত্রীর যোগালী। এই কাজ থাকলে দিনে জোটে ৩/৪ শত টাকা। গত বিসিএল এ ইয়ংমেন্স ক্লাব ফকিরেরপুলে খেলা নরসিংদীর মাসুম মিয়া এবার খেলার কথা ছিল অগ্রনী ব্যাংকে। বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনায় এখন তিনি রাজমিস্ত্রীর কাজ করছেন। এতে দিনে তার পকেটে আসে ৫ শত টাকা। আর আধা বেলা করলে ২৫০ টাকা। তথ্য দেন তিনি। করোনায় ফর্টিসের হয়ে খেলতে না পারা বগুড়ার আরেক ফুটবলার মিডফিল্ডার মিজানুর রহমান এখন রিক্সা তৈরীর কাজ করছেন।

তৃতীয় বিভাগের দল খিলগাঁও ফুটবল অ্যাকাডেমীর গোলরক্ষক টিপু এখন বরগুনায় চায়ের দোকান দিয়ে দু বেলা খাবার যোগানোর চেষ্টা করছেন। প্রথম বিভাগের দল বাংলাদেশ বয়েজের স্ট্রাইকার মফিউল্লাহ এখন যশোরে রাজমিস্ত্রীর যোগালী। দিনে পান চার-সাড়ে চার শত টাকার মতো। লজ্জ্বায় তিনি এই যোগালীর ছবি দিতে চাইলেন না। জানান, একজন ফুটবলার বিল্ডিং নির্মানের শ্রমিক হিসেবে কাজ করবে এই ছবি কি প্রকাশ করা যায়। এরপরও এই কাজ করছি আর কোনো উপায় নেই বলে।নয়া দিগন্ত

 

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত