প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আইপিওর ৮২ কোটি টাকা ব্যয় করতে পারেনি পাঁচ কোম্পানি

বণিকবার্তা : গত দুই বছরে পুঁজিবাজার থেকে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে ১২০ কোটি টাকার মূলধন উত্তোলন করে বিভিন্ন খাতের পাঁচ কোম্পানি। চলতি বছরের মার্চ থেকে জুলাইয়ের মধ্যে কোম্পানিগুলোর আইপিও তহবিলের অর্থ ব্যয় করার সময়সীমা নির্ধারিত থাকলেও এ সময়ের মধ্যে ব্যয় হয়েছে ৩৮ কোটি ৭ লাখ টাকা। অব্যবহূত রয়েছে ৮১ কোটি ৯৩ লাখ টাকা, যা কোম্পানিগুলোর মোট উত্তোলিত অর্থের ৬৮ শতাংশ।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আইপিওর অর্থ ব্যয় করতে না পারা কোম্পানিগুলোর মধ্যে রয়েছে কুইন সাউথ টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড, ইন্ট্রাকো রিফুয়েলিং স্টেশন লিমিটেড, এমএল ডায়িং লিমিটেড, এসএস স্টিল লিমিটেড ও নিউ লাইন ক্লদিংস লিমিটেড।

কোম্পানিগুলোর কর্মকর্তারা বলছেন, কভিড-১৯-এর কারণে স্বাভাবিক কার্যক্রম বন্ধ থাকায় প্রকল্পের কাজ পিছিয়ে গেছে। তাই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আইপিওর অর্থ ব্যয় করা সম্ভব হয়নি।

বস্ত্র খাতের কোম্পানি কুইন সাউথ টেক্সটাইল মিলস ২০১৮ সালে আইপিওর মাধ্যমে পুঁজিবাজার থেকে ১৫ কোটি টাকার মূলধন সংগ্রহ করে। এ বছরের জুনের মধ্যে কোম্পানিটির আইপিওর অর্থ ব্যয় করার সময়সীমা নির্ধারিত ছিল। তবে কোম্পানিটির আইপিওর অর্থ ব্যয় প্রত্যয়নকারী নিরীক্ষক রহমান মোস্তফা আলম অ্যান্ড কোম্পানির প্রতিবেদন অনুসারে, এ বছরের জুলাই শেষে কোম্পানিটি আইপিও তহবিল থেকে ৯ কোটি ৭২ লাখ টাকা ব্যয় করেছে। অব্যবহূত রয়েছে ৫ কোটি ২৮ লাখ টাকা। এর মধ্যে স্বয়ংক্রিয় ওয়্যারহাউজ নির্মাণ খাতেই অব্যবহূত ছিল ৪ কোটি ৬৮ লাখ টাকা।

জানতে চাইলে কুইন সাউথ টেক্সটাইল মিলসের কোম্পানি সচিব মাসুম রানা বণিক বার্তাকে বলেন, কভিডের কারণে আমরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আইপিওর অর্থ ব্যয় করতে পারিনি। এ বিষয়ে আমরা আগেই নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে (বিএসইসি) অবহিত করেছি। তাছাড়া বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) আমরা এ বিষয়ে শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদন নেব। এরই মধ্যে শিপমেন্ট হয়ে গেছে। আশা করছি সামনের মাসে চীনা প্রকৌশলীরা চলে এলে কারখানার অবশিষ্ট কাজ সম্পন্ন করতে পারব।

জ্বালানি খাতের কোম্পানি ইন্ট্রাকো রিফুয়েলিং স্টেশন ২০১৮ সালের মার্চে পুঁজিবাজার থেকে আইপিওর মাধ্যমে ৩০ কোটি টাকা উত্তোলন করে। এ বছরের মার্চের মধ্যে কোম্পানিটির আইপিওর অর্থ ব্যয় করার কথা ছিল। তবে কোম্পানিটির আইপিওর অর্থ ব্যয় প্রত্যয়নকারী নিরীক্ষক সিরাজ খান বসাক অ্যান্ড কোম্পানির প্রতিবেদন অনুসারে এ বছরের জুলাই শেষে আইপিও তহবিল থেকে মোট ৭ কোটি ৩৯ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। অব্যবহূত রয়েছে ২২ কোটি ৬১ লাখ টাকা। এর মধ্যে সিলিন্ডার, রোড ট্যাঙ্কার, মুভার, ওয়েটিং ব্রিজ ও ট্রাক বাবদ অব্যবহূত ছিল ১৫ কোটি ১১ লাখ টাকা।

ইন্ট্রাকো রিফুয়েলিং স্টেশনের কোম্পানি সচিব জিএম সালাউদ্দিন বলেন, আমরা চীনা কোম্পানির মাধ্যমে প্লান্ট স্থাপনের কাজ করছি। কাজ প্রায় শেষের দিকে। তবে আমরা চাইছি চীনা প্রকৌশলীরা এসে আমাদের প্লান্টের সবকিছু বুঝিয়ে দিয়ে যাক। কভিডের কারণে এতদিন তারা আসতে পারেনি। আশা করছি, সামনের মাসে তারা এসে আমাদের সবকিছু বুঝিয়ে দিতে পারবে।

বস্ত্র খাতের কোম্পানি এমএল ডায়িং ২০১৮ সালের জুলাইয়ে পুঁজিবাজার থেকে আইপিওর মাধ্যমে ২০ কোটি টাকার মূলধন সংগ্রহ করে। এ বছরের ২২ মার্চের মধ্যে কোম্পানিটির আইপিওর অর্থ ব্যয় করার কথা ছিল। কিন্তু কোম্পানিটির আইপিওর অর্থ ব্যয় প্রত্যয়নকারী নিরীক্ষক সিরাজ খান বসাক অ্যান্ড কোম্পানির প্রতিবেদন অনুসারে এ বছরের জুলাই শেষে আইপিও তহবিলের ৭ কোটি ৬৬ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। অব্যবহূত রয়েছে ১২ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। এর মধ্যে যন্ত্রপাতি বাবদই অব্যবহূত রয়েছে ১২ কোটি টাকা।

এমএল ডায়িংয়ের কোম্পানি সচিব একেএম আতিকুর রহমান বলেন, যন্ত্রপাতি আমদানির জন্য আমরা এ মাসে এলসি করেছি। আশা করছি দ্রুতই আমাদের হাতে যন্ত্রপাতি চলে আসবে। পাশাপাশি আইপিওর অর্থ ব্যয়ের সময়সীমা বাড়ানোর জন্য এজিএমে শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদন নেয়া হবে বলে জানান তিনি।

প্রকৌশল খাতের কোম্পানি এসএস স্টিল ২০১৮ সালের নভেম্বরে আইপিওর মাধ্যমে পুঁজিবাজার থেকে ২৫ কোটি টাকার মূলধন উত্তোলন করে। এ বছরের ১৭ জুলাইয়ের মধ্যে কোম্পানিটির আইপির অর্থ ব্যয় করার সময়সীমা নির্ধারিত ছিল। কোম্পানিটির আইপিওর অর্থ ব্যয় প্রত্যয়নকারী নিরীক্ষক সিরাজ খান বসাক অ্যান্ড কোম্পানির প্রতিবেদন অনুসারে, এ বছরের জুলাই শেষে আইপিও তহবিল থেকে কোম্পানিটি ৬ কোটি ১৫ লাখ টাকা ব্যয় করেছে। অব্যবহূত রয়েছে ১৯ কোটি ৯ লাখ টাকা। এর মধ্যে প্লান্ট ও যন্ত্রপাতি বাবদ অব্যবহূত রয়েছে ১৯ কোটি ৬ লাখ টাকা।

জানতে চাইলে এসএস স্টিলের কোম্পানি সচিব মো. মোস্তাফিজুর রহমান বণিক বার্তাকে জানান, করোনার কারণে সময়মতো আইপিওর অর্থে প্রকল্পের কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি। অবশ্য বর্তমানে অধিকাংশ যন্ত্রপাতি চলে এসেছে। আর কিছু যন্ত্রপাতি বাকি আছে যেগুলো সামনের মাসে চলে আসবে। করোনার কারণে আইপিওর অর্থ ব্যয়ের সময়সীমার বিষয়টি বিবেচনা করার জন্য কমিশনে আবেদন করা হবে বলে জানান তিনি।

গত বছরের মার্চে পুঁজিবাজার থেকে আইপিওর মাধ্যমে ৩০ কোটি টাকার মূলধন উত্তোলন করে বস্ত্র খাতের কোম্পানি নিউ লাইন ক্লদিংস। এ বছরের ৪ এপ্রিলের মধ্যে কোম্পানিটির আইপিওর তহবিলের অর্থ ব্যয় করার কথা ছিল। কিন্তু কোম্পানিটির আইপিও তহবিলের অর্থ ব্যয় প্রত্যয়নকারী নিরীক্ষক ফেমস অ্যান্ড আর চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টসের প্রতিবেদন অনুসারে, এ বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত কোম্পানি আইপিও তহবিল থেকে ৭ কোটি ৩৭ লাখ টাকা ব্যয় করেছে। অবশ্য কোম্পানিটির ওয়েবসাইট এবং স্টক এক্সচেঞ্জের ওয়েবসাইটে এ বছরের জানুয়ারি-পরবর্তী সময়ের আইপিও অর্থ ব্যয়সংক্রান্ত কোনো তথ্য নেই। এ বছরের জানুয়ারি শেষে কোম্পানিটির আইপিও তহবিলের ২২ কোটি ৬৩ লাখ টাকা অব্যবহূত ছিল। এর মধ্যে ৯ কোটি টাকার ব্যাংকঋণ, ৬ কোটি ২৯ লাখ টাকায় কারখানা ভবন সম্প্রসারণ এবং ৭ কোটি ৩৪ লাখ টাকা প্লান্ট ও যন্ত্রপাতি বাবদ অব্যবহূত ছিলো।

সর্বাধিক পঠিত