প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] মেজর (অব.) সিনহার মৃত্যু, পরিকল্পিত হত্যাকান্ডের বিষয়টি উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না: মেজর জেনারেল (অব.) আব্দুর রশিদ

সুজন কৈরী : [২] এ নিরাপত্তা বিশ্লেষক বলেন, ঘটনাটি অনভিপ্রেত। এমন ঘটনা ঘটা উচিৎ ছিলা না। আরেকটি হচ্ছে যে, মিডিয়ার মাধ্যমে যতযটুকু তথ্য আমরা পেয়েছি, সিনহাকে গুলি করার জন্য এসআই লিয়াকতসহ অন্যরা যেভাবে কনডাক্ট করেছে, সেটি হচ্ছে জননিরাপত্তার ক্ষেত্রে জনমানুষের মনে শঙ্কা তৈরি করেছে। এখন হচ্ছে যে, এই যে গুলি করার রাইট, সে আইনসঙ্গভাবে করেছে কিনা সেটি প্রশ্নসাপেক্ষ। এরপর দেখা গেছে, ঘটনাস্থলে স্থানীয় গোয়েন্দা সংস্থার লোকরা কাজ করতে গেলে, বাধা দেয়া হয়েছে, পরিচয়পত্র ও মোবাইল ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে। লিয়াকত পুলিশ বলে সরকারী কর্তব্যে নিয়োজিত এমনটি নয়, গোয়েন্দা বাহিনীর লোকটিও সরকারী কর্তব্যে নিয়োজিত। তাকেই যখন বাধা দেয়া হয়, তখন মনে হয় এই ঘটনার সঙ্গে অন্য কোনো কিছু জড়িত আছে কি না। কারণ হচ্ছে, এই ঘটনা ঘটার পর আমি যেটি দেখছি যে, দেশের মধ্যে অস্থির অবস্থা, মানুষের মধ্যে শঙ্কা, বাহিনীর মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এটি একটি দেশের স্থিতিশীলতার পরিপন্থি। স্পর্শকাতরভাবে সে এটি তৈরি করলো, কেন করলো তা বের করাটাই গুরুত্বপূর্ণ।

[৩] সিনহাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার বিষয়টি উড়িয়ে দিতে পারছি না, এ কথা উল্লেখ করে মেজর জেনারেল (অব) আব্দুর রশিদ বলেন, ঘটনার তদন্ত চলছে। এখনো সুস্পষ্ট তথ্য আসেনি। যতটুকু তথ্য এসেছে, তার মধ্যে পরিকল্পিত হত্যাকান্ডের গন্ধ পাওয়া যায়। তবে পুরো তথ্য লাইমলাইটে না আসায় সুস্পষ্টভাবে এটি বলা যাচ্ছে না। কিন্তু লিয়াকত যা করেছেন, তা থেকে বোঝা যায় যে, এই ঘটনার মধ্যে লুকায়িত কোনো অপউদ্দেশ্য আছে বা কারো দ্বারা প্রভাবিত হয়ে এটি করা হয়েছে কি না তা খুঁজে বের করা আমাদের নিরাপত্তার স্বার্থে দরকার।

[৪] লিয়াকত যদি হত্যা করে থাকেন, তাহলে জননিরাপত্তা বা মানুষের আস্থার স্বার্থে তার বিচার অবশ্যই হতে হবে। সেরকম জায়গায় আমরা এখন আছি। তবে সবাই নিরপেক্ষ কমিটির তদন্ত রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করছি। এর আগে সুস্পষ্টভাবে মন্তব্য বা বিশ্লেষণ করা সম্ভব হচ্ছেনা।

[৫] প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আধার কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়ক এখন হয়ে উঠেছে আতঙ্কের অপর নাম। এই সড়কে একের পর এক কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত মানুষের তালিকায় এবার যুক্ত হয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান (৩৬)। গত শুক্রবার রাতে টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের শাপলাপুর চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন তিনি। সশস্ত্র বাহিনীর এক সাবেক কর্মকর্তা পুলিশের গুলিতে নিহত হওয়ার ঘটনায় গঠন করা হয়েছে উচ্চপর্যায়ের সরকারি তদন্ত কমিটি। ইতোমধ্যে কমিটি কাজ শুরু করেছে। জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে পুলিশ কর্মকর্তা থেকে শুরু করে সিনহার সঙ্গী এবং স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের।

[৬] ৫১ বিএমএ লং কোর্সের কর্মকর্তা সিনহা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কমিশন লাভ করেন। ২০১৮ সালে সৈয়দপুর সেনানিবাস থেকে তিনি স্বেচ্ছায় অবসর নেন। প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তায় নিয়োজিত স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সেও (এসএসএফ) দায়িত্ব পালন করা সিনহার বাড়ি যশোরের বীর হেমায়েত সড়কে। তার বাবা অর্থ মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপসচিব মুক্তিযোদ্ধা মরহুম এরশাদ খান।

[৭] সিনহার পরিবার ও ঘনিষ্ঠ এক বন্ধু জানান, মূলত বিশ^ ভ্রমণের প্রবল স্পৃহার কারণে সেনাবাহিনী থেকে স্বেচ্ছায় অবসর নেন সিনহা। এজন্য নিজেকে প্রস্তুত করছিলেন। তার প্রথম গন্তব্য ছিল চীন। এ জন্য ব্যাগপত্রও গুছিয়েছিলেন। তবে চলমান করোনা ভাইরাস মহামারীর কারণে আপাতত তার সেই ইচ্ছা পরিকল্পনাতেই থেকে যায়। তাই বাসায় বসে না থেকে কক্সবাজারে যান ‘জাস্ট গো’ নামে একটি ভিডিওচিত্রের কাজ করতে। তার সঙ্গে ছিলেন স্টামফোর্ড বিশ^বিদ্যালয়ের ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের তিন শিক্ষার্থী। তারা কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভ সড়কের নীলিমা রিসোর্টে ওঠেন।

[৮] ঘটনার পর পর কক্সবাজারের এসপি এবিএম মাসুদ হোসেন সাংবাদিকদের বলেছিলেন, শামলাপুরের লোকজন ওই গাড়ির আরোহীদের ডাকাত সন্দেহ করে পুলিশকে খবর দেন। এ সময় তল্লাশি চেকপোস্টে গাড়িটি থামানোর চেষ্টা করে পুলিশ। কিন্তু গাড়ির আরোহী সিনহা তল্লাশিতে বাধা দেন। এ নিয়ে তর্কবিতর্কের এক পর্যায়ে সিনহা তার পিস্তল বের করে পুলিশকে গুলি করার চেষ্টা করেন। আত্মরক্ষার্থে পুলিশও গুলি চালালে ওই ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। পরে সিনহার গাড়ি ও নীলিমা রিসোর্ট তল্লাশি করে একটি পিস্তল, ৯ রাউন্ড গুলি, ৫০ পিস ইয়াবা, দুই বোতল বিদেশি মদ ও গাঁজা উদ্ধারের দাবি করে পুলিশ।

[৯] পরিবারের দাবি হত্যাকাÐ : সিনহার মা নাছিমা আক্তারের আবেগঘন বক্তব্য ভাইরাল হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। সিনহার বড় বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস বলেন, এটা স্পষ্ট একটা হত্যাকাÐ। আমার ভাইকে হত্যা করা হয়েছে। আমরা তো ভাইকে আর বাস্তবে পাব না। আমরা চাই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হোক। যারা জড়িত, তাদের বিচার হোক। আমার বাবা দেশের জন্য যুদ্ধ করেছিলেন। ভাইও দেশের জন্য কাজ করেছেন। তাকে এভাবে মারা যেতে হবে, তা তারা কখনই ভাবেননি। এটা মেনে নেয়া যায় না।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত