প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

শরীফুল হাসান: করোনার ভয় কেটে গেছে, সেটাই না আবার বিপদ ডেকে আনে!

শরীফুল হাসান: বিদেশগামীদের জন্য সবক্ষেত্রে এখন আর করোনার সনদ প্রয়োজন নেই। আজ থেকে নতুন এই নিয়ম করায় প্রবাসী ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে ধন্যবাদ।এই মাসের মাঝামাঝি যখন নিয়ম করা হলো, বিদেশে যাওয়ার জন্য প্রত্যেকের করোনা সনদ লাগবে, আমি তখন লিখেছিলাম, এটা ভুল সিদ্ধান্ত। বিদেশগামীদের প্রত্যেকের করোনাভাইরাস সনদ দরকার নেই। বরং কোন দেশ চাইলে সেই দেশের জন্য করোনা সনদ দেয়া বাধ্যতামূলক করা যেতে পারে। না তখন কেউ আমার কথা শোনেনি।

শুধু লিখেই থেমে থাকিনি, দুই সপ্তাহ আগে চ্যানেল আই এবং কয়েকদিন আগে এটিএন নিউজে এই কথাগুলোই বলেছি। না তখন আমার কথা কেউ শোনেনি। তবে যেই দেখা যাচ্ছে পরীক্ষা করে সবাইকে যথাসময়ে সনদ দেয়া যাচ্ছে না, অনেকেই ফ্লাইট মিস করছে, সরকার তখন নিয়ম বদলেছে।

করোনা মহামারি পরিস্থিতি ও প্রবাসী শ্রমিকদের জন্য করণীয় সম্পর্কিত আন্তঃমন্ত্রণালয়ের বৈঠকে আজ মাননীয় প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী বলেছেন, বিদেশগামীরা যে দেশে যাবেন, সেই দেশে প্রবেশের ক্ষেত্রে কোভিড-১৯ নেগেটিভ সার্টিফিকেট বাধ্যতামূলক হলে তবেই তা প্রয়োজন হবে।

আমি লিখিছেলাম, বিমানবন্দরে সকল বিদেশগামী যাত্রীদের জন্য স্বাস্থ্য স্ক্রিনিং জোরদার করতে হবে। সরকার সেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এজন্য বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

না আমি কোন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ নই। ডাক্তার নই। আমি শুধু আমার কমন সেন্স আর বাংলাদেশের বাস্তবতা থেকে করোনা নিয়ে ফেব্রুয়ারি মাস থেকে নানা বিষয় লিখেছি। কারও সময় থাকলে লেখাগুলো পড়ে নিয়ে নিয়েন। প্রায় সব বিষয়ই মিলেছে। সরকারও সিদ্ধান্ত বদলেছে। তবে দেরিতে।

এপ্রিলের শুরুতেই বলেছিলাম, এমন যেন না হয় আমরা পৃথিবী থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ি। কথাগুলো কেউ বুঝেছে কী না কে জানে। এই যে দেখেন ঈদের ছুটি শুরু হলো। গরুর হাট বলেন কিংবা ফেরিঘাট। সর্বত্র যে ভীড় তাতে কিন্তু নতুন করে করোনা বাড়বে। আগামী চার-পাঁচটা দিন যদি আমরা আমাদের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করতে না পারি আমাদের কিন্তু বিপদ বাড়বে।

আরেকটা কথা বলি, এই যে আজকেও ৪৮ জন মারা গেছে, রোজ হাজার মানুষ মারা আক্রান্ত হচ্ছে এসব নিয়ে কারও দুশ্চিন্তা আছে বলে মনে হয় না।

দেখেন, ঘর থেকে বের হলে মনে হয় সব স্বাভাবিক। সবার ভয় কেটে গেছে। এটা একদিক থেকে ভালো। তবে মাস্ক পরাসহ নিয়মগুলো মানতেই হবে। কিন্তু আমি অধিকাংশ লোককেই নিয়ম মানতে দেখছি না। আমার কী মনে হয় জানেন। এই যে করোনার ভয় কেটে গেছে সেটাই না আবার বিপদ ডেকে আনে। সবার কাছে অনুরোধ, আগামী একটা সপ্তাহ যেন আমরা যথাসম্ভব মাস্ক পরা, শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখাসহ নিয়ম কানুন মানি। আল্লাহ ভালো রাখুক এই দেশটাকে। সবাইকে ঈদ অগ্রিম মোবারক।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত