প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ডিএসসিসির ৬ হাজার ১২০ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা
[১] উন্নয়নে ‘ছেলেখেলা’ করতে দেয়া হবে না: মেয়র তাপস

সুজিৎ নন্দী: [২] শেখ ফজলে নূর তাপস বলেছেন, মহা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আমরা ঢাকাকে সচল সুন্দর ঢাকা হিসেবে, সর্বোপরি উন্নত ঢাকা হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। যে সকল সংস্থা ঢাকায় কাজ করে, তাদেরকে অনুরোধ করব, ঢাকাকেন্দ্রিক যে কোনো কার্যক্রম ঢাকা দক্ষিণ সিটির সঙ্গে সমন্বয় করে করতে হবে। আমরা সেটা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করব। যে কোনো প্রকল্প হাতে নিলে আগে ডিএসসিসির সঙ্গে সমন্বয় করে নেবেন। যত্রতত্র অন্য কোনো সংস্থাকেৃ ঢাকাকে নিয়ে ছেলেখেলা করার সুযোগ দেওয়া হবে না।

[৩] ঢাকার উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নিতে দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ‘মহা পরিকল্পনা’ হাতে নিয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এই উন্নয়ন হবে সব সংস্থার মধ্যে সমন্বয় করে।

[৪] নতুন অর্থবছরের জন্য ৬ হাজার ১১৯ কোটি ৫৯ লাখ টাকার বাজেট ঘোষণা করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, যা গত অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের ১৩৬ শতাংশ বেশি। গত অর্থবছরে দক্ষিণ সিটির সংশোধিত বাজেটের আকার ছিল ২৫৮৫ কোটি ৩১ লাখ টাকা।

[৫] বৃহস্পতিবার ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নগর ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা করেন ডিএসসিসি মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস।

[৭] গত অর্থবছরে (২০১৯-২০) ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ৩ হাজার ৬৩১ কোটি ৪০ লাখ টাকার বাজেট ঘোষণা করেছিল। পরে সংশোধিত বাজেট দাঁড়ায় প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা। গত বছরের প্রস্তাবিত বাজেটের তুলনায় এবারের প্রস্তাবিত বাজেটের আকার অনেক বেশি। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর প্রথম বাজেট ঘোষণা করলেন শেখ ফজলে ন‚র তাপস।

[৮] ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটে মোট রাজস্ব আয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৯ কোটি ২ লাখ টাকা, অন্যান্য আয় ৭ কোটি ৭০ লাখ টাকা, সরকারি ও বৈদেশিক উৎস থেকে আয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ৯১৬ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। প্রারম্ভিক স্থিতি ধরা হয়েছে ১৮৬ কোটি ৩০ লাখ টাকা।

[৯] অন্যদিকে ২০২০-২১ সালের বাজেটে পরিচালনা ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৫৭ কোটি ২৩ লাখ টাকা, অন্যান্য ব্যয় ধরা হয়েছে ২ কোটি, মোট উন্নয়ন ব্যয় ধরা হয়েছে ৫ হাজার ৫০৫ কোটি ৮৪ লাখ টাকা এবং সমাপনী স্থিতি ধরা হয়েছে ১৫৪ কোটি ৫২ লাখ টাকা। বাজেট ঘোষণা অনুষ্ঠানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ ইমদাদুল হক সহ ডিএসসিসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

[৯] মেয়র তাপস তার বাজেট বক্তৃতায় বলেন, এবারের বাজেটে ‘বটম-আপ পলিসিকে’ গুরুত্ব দিয়ে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত কাউন্সিলর ও সংসদ সদস্যদের উন্নয়ন ব্যয় বাড়ানো হয়েছে। নগরবাসীর জীবনমান উন্নয়ন ও নাগরিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে ১৯টি নতুন প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বাজেটে মহা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে কামরাঙ্গীরচরে একটি সেন্টাল বিজনেস ডিস্ট্রিক্ট’ করার কথাও তিনি বলেন।

[১০] তিনি বলেন, একটি শহরের চারদিকে নদী বেষ্টিত, এমন শহর পৃথিবীতে বিরল। কিন্তু বুড়িগঙ্গার সন্তান, আমাদের সকলের প্রাণের এই ঢাকা শহরের জনগণকে নাগরিক সুবিধা দেওয়ার প্রচেষ্টা থাকলেও তা সবসময় প্রদান করা সম্ভব হয়নি। তাই সহজতর ও কার্যকর উপায়ে নাগরিক সেবা প্রদানের লক্ষ্যে আমরা মহাপরিকল্পনার আওতায় কামরাঙ্গীর চরে একটি সেন্টাল বিজনেস ডিস্ট্রিক্ট করতে চাই।

[১১] উন্নয়নের নামে অপরিকল্পিত কর্মযজ্ঞ বন্ধের ওপর জোর দিয়ে শেখ ফজলে ন‚র তাপস বলেন, বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার সমন্বয়হীনতায় শিল্পায়নের নামে অপরিকল্পিত কর্মযজ্ঞ বাস্তবায়নের মাধ্যমে এই নগরকে আমরা দিনে দিনে এক রুগ্ন স্বত্ত¡ায় পরিণত করে চলেছি। এটা সত্যি যে, দেশের অর্থনৈতিক এবং সামগ্রিক উন্নয়নে শিল্পায়ন অতীব গুরুত্বপ‚র্ণ অনুষঙ্গ। সম্পাদনা : খালিদ আহমেদ

সর্বাধিক পঠিত