প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] গোপালগঞ্জ সরকারি হাঁস-মুরগি খামারে হরিলুট, ভর্তুকির টাকা ঢুকেছে কর্মকর্তার পকেটে

সাবেত আহমেদ, গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি: [২] গোপালগঞ্জ শহরের পুরাতন লঞ্চঘাট এলাকায় অবস্থিত সরকারি হাঁস মুরগি খামারে উৎপাদিত ডিম, মুরগির বাচ্চা ও মুরগি বিক্রি করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। খামার বাবদ সরকার প্রতি বছরে প্রায় ৭০-৮০ লক্ষ টাকা ভর্তুকি দেয় মাংসের চাহিদা পূরণের জন্য। যেখান থেকে বেকার যুবক, হতদরিদ্র কৃষক ও দুঃস্থ মহিলাদের মধ্যে হাঁস-মুরগির বাচ্চা কমদামে সরবরাহের মাধ্যমে আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির কথা থাকলেও কিন্তু বাস্তবতা দেখা যায় ভিন্ন।

[৩] এই করোনাকালেও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি। খামারে বাচ্চা উৎপাদন করার কথা থাকলেও বাস্তবে উল্টো মনগড়া নিয়মে পরিচালিত হচ্ছে এই প্রতিষ্ঠানটি। মুরগির বাচ্চা, মাংস ও ডিম বিক্রয়ের কোনো তালিকা পর্যন্ত নেই এই খামারে। অবাধেই ব্যবসায়ীদের কাছে বেশি দামে উৎপাদিত দ্রব্যাদি বিক্রি করে চলেছেন ওই অফিসের কর্মকর্তা মির্জা নাজমুল ইসলাম।

[৪] নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই অফিসের একজন কর্মচারী জানান, গত ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে মুরগি বিক্রি করেছেন ৬৬৩টি, প্রতিটি মুরগি বিক্রি করেছেন ১২০ টাকা দামে কিন্তু সরকারি কোষাগারে জমা দিয়েছেন ৬০ টাকা করে। অক্টোবরে ৩৬০টি, বিক্রি করে ১২০টাকা দামে জমা করেছেন ৬০ টাকা করে। নভেম্বরে মোরগ বিক্রয় করেছেন ৭০০টি প্রতিপিচ ১৮০টাকা করে। কিন্তু সরকারি কোষাগারে জমা করেছেন ৬০ টাকা করে। এছাড়াও অফিসের ফার্ণিচার ক্রয় বাবদ ৫০ হাজার টাকা, ল্যাফটপ বাবদ ৪০ হাজার টাকা, অফিস মেরামত বাবদ ৩ লক্ষ টাকা বিল ভাউচার করে টাকা আত্মসাত করেছেন নাজমুল। প্রতিদিন ১২০ গ্রাম করে মুরগিকে খাদ্য খাওয়ানোর কথা থাকলেও খাওয়ানো হচ্ছে ৬০-৭০ গ্রাম। যারফলে প্রতিনিয়ত খাদ্যাভাবে মুরগি মারা যাচ্ছে। সেই অবশিষ্ট খাদ্যগুলো বাইরে বিক্রি করে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে ওই কর্মকর্তা । জেনারেটর মেশিন না চালিয়ে নিয়মিত তেল খরচ বাবদ ভূয়া বিল ভাউচার করে টাকা আত্মসাত। ভ্যাক্সিন, টিকা ও ওষুধ মুরগিকে না দিয়ে বাইরে বিক্রি করছেন ওই নাজমুল। এদিকে করোনা দুর্যোগের মধ্যেও থেমে থাকেন তিনি। রমজান মাসে খামারের ১৫শ মুরগি রাতের আধারে বিক্রি করে দেখিয়েছেন মুরগি মারা গেছে হিসেবে। এতে সরকারের কয়েকলক্ষ টাকা ক্ষতি দেখিয়ে তা আত্মসাত করেছেন।

[৫] এছাড়াও নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। অফিসের স্টোর রুমের জন্য দুটি কক্ষ বরাদ্দ থাকলেও ওই কক্ষ দুটি কোয়ার্টার হিসেবে ব্যবহার করছেন যার ভাড়া পর্যন্ত দেন না তিনি। সেখানেই বাইরের নারী নিয়ে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনেরও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সরেজমিনে গিয়ে তার যথাযথ প্রমাণও পাওয়া গেছে।

[৬] জেলার বেকার যুবক, দরিদ্র কৃষক ও দুঃস্থ মহিলাদের মধ্যে স্বল্পমূল্যে মুরগির বাচ্চা ও ডিম সরবরাহের মাধ্যমে আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টিসহ তাঁদের স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যেই সরকারিভাবে এ উদ্যোগ গৃহীত হয়। সে লক্ষ্য পূরণে ওই অফিসে কর্মরতরা সরকারি উদ্যোগ বাস্তবায়নতো দূরের কথা বরং নিজেদের আখের গোছাতে ব্যস্ত।

[৭] গোপালগঞ্জ হাঁস মুরগি পালন কেন্দ্রের উন্নয়ন কর্মকর্তা মির্জা নাজমুল ইসলামের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই বিষয়ে কোনো বক্তব্য আমি দেবো না। যদি পারেন ঢাকা থেকে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে সঙ্গে নিয়ে আসুন।

[৮] গোপালগঞ্জ জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ আজিজ আল মামুন বলেন, খামারটি আমার আওতাধীন নয়। ইতিপূর্বে আমার কাছে ওই হাঁস-মুরগি উন্নয়ন কর্মকর্তা মির্জা নাজমুল ইসলামের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ এসেছে। আমি মৌখিকভাবে তাকে সতর্ক করেছি।

[৯] এ বিষয়ে প্রাণি-সম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক (উৎপাদন) মোঃ নজরুল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন, এই বিষয়টি জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা আমাদের জানানোর কথা। হাঁস-মুরগি পালন কেন্দ্রের ওই উন্নয়ন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যদি কোনো অনিয়ম বিষয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয় তদন্তপূর্বক সত্যতা পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত