প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] কোভিড-১৯ : ফুসফুস ভালো রাখবেন যে ৯টি উপায়ে

লাইজুল ইসলাম : [২] বিশ্বব্যাপী যে কোভিড-১৯ ভাইরাস ছড়িয়ে পরেছে তাতে সবচেয়ে বড় সমস্যা শ্বাস কষ্ট। তাই ফুসফুসের কার্যক্ষমতা বাড়াতে বেশ কিছু নিয়ম মানতে হবে। নিজেকে সুস্থ্য রাখার জন্য এগুলো অবশ্যই নিয়ম করে পালন করতে হবে। জীবন যাপনে সাধারণ কিছু পরিবর্তন করলেই সুস্থ্য থাকা সম্ভব।

[৩] প্রথমত সিগারেট বা ধুমপান ছেড়ে দিতে হবে। কারণ নিকোটিন, টার ও কার্বন মনোক্সাইড মতো হাজার হাজার আমাদের ফুসফুসে প্রবেশ করে বিশাক্ত করে তুলে। এগুলো জমতে জমতে এক সময় ফুসফুসের বাতাস চলাচলের পথ সংকুচিত হয়ে যায়। ফলে শ্বাস কষ্ট ও কেন্সার হতে পারে। শুধু তাই নয় ধুমপায়ীদের থেকে দূরে থাকতে হবে।

[৪] ফুসফুস সুস্থ্য রাখতে পর্যাপ্ত পানি খাওয়ার কোনো বিকল্প নাই। এই পানি ফুসফুসের ফিল্টার হিসেবে কাজ করে। এজন্য দিনে অন্তত ৬-৮ গ্লাস পানি খেতে হবে।

[৫] খাদ্য তালিকায় সবুজ শাক-সবজি রাখতে হবে। গাজর, টমেটু, লেবু বিভিন্ন মৌসুমি ফল আঙ্গুর, আনারশ, আমলকি, পেয়ারা সেসঙ্গে সামুদ্রিক মাছ রাখতে হবে। কেনোনা এসব খাবারে রয়েছে প্রচুর পরিমানে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট, ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড, ভিটামিন ও মিনারেলস।

[৬] চিনি যুক্ত এবং ক্যাফেন যুক্ত খাবার যেমন, কোমল পানিও, চা-কফি এড়িয়ে যেতে। শিশুর ফুসফুসের বিকাশে তাকে অবশ্যই অবশ্যই বুকের দুধ খাওয়াতে হবে।

[৭] সপ্তাহে তিন থেকে ৫ দিন ৩০ মিনিটের জন্য হলেও ব্যায়ম করুন। কারণ এতে শ্বাস যন্ত্রের পেশি গুলো সুগঠতি হবে এবং ওজনও নিয়ন্ত্রণে থাকবে। তবে সবচেয়ে ভালো শ্বাস প্রশ্বাসের ব্যায়ম করা। এ ব্যায়ামের সময় জোরে জোরে শ্বাস নিতে হয় এতে ফুসফুসসহ আমাদের শরীরের প্রতিটি কোষে প্রচুর পরিমানে অক্সিজেন প্রবেশ করে। যা আমাদের দিনভর কর্মউদ্যেম রাখে। তাই শিশুদের খেলাধুলার প্রতি উৎসাহ দিতে হবে। বাড়িতে বসে ফুসফুসের ব্যায়ম করার জন্য পিঠ সোজা করে বসতে হবে। এরপর নাক দিয়ে ধিরে ধিরে শ্বাস নিতে হবে। যেনো মনে হয় পেট পর্যন্ত পৌছে যাচ্ছে। এ বাতাস টানা ১০ সেকেন্ড ধরে রাখুন। এবং মুখ দিয়ে ধিরে ধিরে ছাড়–ন। এভাবে ফুসফুস পরিস্কার হয় কার্যক্ষমতা বেড়ে যাবে কয়েকগুন। তবে দম ধরে রাখার সময় কাশি বা বুকে চাপ দিয়ে ব্যথা হয় তবে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

[৮] বাড়ির ভিতরের বাতাস অনেক সময় বাইরের বাতাসের চাইতে দূষিত হয়। যার প্রভাব ফুসফুসের ওপর পরে। তাই ঘর পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখা ও সকালে দরজা জানালা খুলে দিতে হবে। ঘরের ভেতরে কাপড় শুকানো এড়িয়ে যেতে হবে।

[৯] ফুসফুস সুস্থ্য রাখার আরেকটি দিক হলো পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেয়। যদি আপনার শ্বাসকষ্ট হয় তবে ঘুমের পরিমান বাড়িয়ে দিতে হবে। এতে ফুসফুস রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করার সুযোগ পায় ও নিজস্ব প্রতিরোধ ক্ষমতায় সুস্থ্য হয়ে উঠবে।

[১০] হাত পরিস্কার করা জরুর। বার বার অন্তত ২০ সেকেন্ড ধরে হাত ধুতে হবে। হাতের মাধ্যমেই মূলত ভাইরাস সংক্রমণের সুযোগ রয়েছে।

[১১] যদি দির্ঘদিন ধরে কাশি ও শ্বাসকষ্ট থাকে, কায়িক পরিশ্রম করলে অনেক বেশি ক্লান্ত লাগে, লম্বা শ্বাস নিতে গেলে বুকে ব্যথা হয় বা এমন মনে হয় পর্যাপ্ত বাতাস পাচ্ছেন না। তবে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ সেবন করবেন না।

সর্বাধিক পঠিত