প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] সাদ অনুসারীদের কালকের মধ্যেই কাকরাইল মারকাজ ছাড়ার নির্দেশ

ডেস্ক রিপোর্ট : [২] তাবলিগ জামাতের আমির মাওলানা সাদ কান্ধলভীর অনুসারীদের আগামীকাল বুধবারের মধ্যে রাজধানীর কাকরাইলের মারকাজ ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে পুলিশ। পূর্বনির্ধারিত সময় অনুযায়ী এখন মারকাজে উঠবেন সাদ কান্ধলভীর বিরোধীরা।

[৩] সাদের অনুসারীরা বলছেন, ১৩টি দেশের ১৫০ জন অতিথি মারকাজে অবস্থান করছেন। করোনাভাইরাস সংক্রমণের এই পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে এদের অন্য কোথাও রাখার বন্দোবস্ত তাদের নেই।

[৪] ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সাদের অনুসারীরা কাকরাইল মারকাজে দুই সপ্তাহ অবস্থান করেন। আর সাদবিরোধীরা অবস্থান করেন চার সপ্তাহ। সাদ অনুসারীদের দুই সপ্তাহের সময়সীমা ২৫ মার্চ সরকারি ছুটি ঘোষণার সময়ই শেষ হয়ে যায়। তারপরও করোনাভাইরাসের কারণে বিশেষ পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ায় তাদের থাকতে দেওয়া হয়। এখন সাদবিরোধীরা মারকাজে উঠতে চাচ্ছেন। দুই সপ্তাহ আগে দুই পক্ষকে ডেকে আনা হয়েছিল। তারা বসেই মারকাজ ছেড়ে দেওয়ার সময়সীমা নির্ধারণ করেছে।’

[৫] তাবলিগের সাদ কান্ধলভীর অনুসারীদের অন্যতম মুরব্বি ওয়াসিফুল ইসলাম বলেন, ‘নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বেশি দিন মারকাজে অবস্থান করার কোনো বাসনা তাদের ছিল না। কিন্তু বিদেশি অতিথিদের জন্যই তারা রয়ে যান। এখন মারকাজ ছেড়ে দিতে হলে তাদের রাখার কোনো ব্যবস্থা তাদের নেই। মারকাজের বাইরে গুলিস্তানের একটি মসজিদে তাদের অনুসারীরা থাকেন। কিন্তু সেখানেও স্বাস্থ্যবিধি মেনে ৪৫ জনের বেশি থাকার সুযোগ নেই।’

[৬] বিদেশি অতিথিদের বিষয়ে ওসি মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘বিদেশি অতিথিদের থাকার ব্যবস্থা তাদের নিজেদেরই করতে হবে।’

[৭] সাদবিরোধীদের মুরব্বি মো. আলমগীর হোসেন জানান, তাদের শতাধিক বিদেশি অতিথি যাত্রাবাড়ীর মদিনা মসজিদে অবস্থান করছেন। সেখানে থাকার ব্যবস্থা ভালো না। দীর্ঘদিন ধরে তারা কষ্ট করে আছেন। এ জন্য তাদের মারকাজে সরিয়ে আনতে চাচ্ছেন তারা। এ ছাড়া সাদ অনুসারীদের মারকাজে থাকার সময়সীমাও শেষ।

[৮] কাকরাইল মারকাজের পাশেই একই সীমানায় সাদবিরোধীদের নিয়ন্ত্রণে একটি মাদ্রাসা রয়েছে। সাদ অনুসারীদের মুরব্বি ওয়াসিফুল ইসলাম বলেন, ‘মাদ্রাসাটি এখন বন্ধ থাকায় সেখানে অন্তত তিনটি তলা ফাঁকা রয়েছে। যাত্রাবাড়ির মসজিদে থাকা বিদেশি অতিথিদের সেখানে অনায়াসেই রাখার ব্যবস্থা করা সম্ভব। এই ব্যবস্থা হলে কোনো পক্ষের বিদেশি অতিথিদেরই সমস্যায় পড়তে হয় না।’

[৯] ওয়াসিফুল ইসলাম বলেন, ‘তাদের বিদেশি অতিথি ছিলেন ৩০০ জন। এর মধ্যে ইন্দোনেশিয়ার ১৫০ জন অতিথি কিছুদিন আগে তাদের দূতাবাসের মাধ্যমে চলে গেছেন। এখন ১৩টি দেশের ১৫০ জন অবস্থান করছেন।’

[১০] তাবলিগের বর্তমান আমির মাওলানা সাদ কান্ধলভীকে আমির মানা- না-মানাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে তাবলিগের বিভেদ প্রকাশ্য হয় ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত বিশ্ব ইজতেমা থেকে। এক পক্ষে অবস্থান নেন সাদের অনুসারীরা। অন্য পক্ষে ওই বছর সাদবিরোধীদের সঙ্গে যোগ দেন কওমি মাদ্রাসার আলেমদের পাশাপাশি হেফাজতে ইসলামের সমর্থকেরা।

[১১] ধর্ম নিয়ে সাদের কিছু বক্তব্যের কারণে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। বিরোধিতার কারণে ২০১৭ সাল থেকে বাংলাদেশে ইজতেমায় অংশ নিতে পারেন না সাদ কান্ধলভী। ২০১৮ সাল থেকে দুই পক্ষ পৃথকভাবে ইজতেমার আয়োজন করে আসছে। আমাদের সময়, দেশ রূপান্তর

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত