প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] এমন চাঁদরাত দেখেনি কখনো কেউ, করোনা থামিয়েছে আনন্দ-উচ্ছ্বাস

সালেহ্ বিপ্লব, সুজন কৈরী : [২] করোনা এবার কেড়ে নিয়েছে কিছু আলো, কিছু রং, কিছু গন্ধ, কিছু শব্দ।

[৩] রোজার মাস পুরোটাই আলোকসজ্জা থাকে সারাদেশে। ঈদের আগের সন্ধ্যাটা থাকে অনেক বেশি আলোকময়। মার্কেট, দোকানপাট, ক্লাব, সরকারি বেসরকারি ভবন এবং রাস্তার দু’পাশ থাকে বহুরঙা আলোয় উদ্ভাসিত। এবার নেই।

[৪] স্মরণাতীত কাল থেকে চাঁদরাত হয় কোলাহলমুখর। শেষ রোজার ইফতার করেই ঘর থেকে বের হয়ে যায় শিশুরা। আতশবাজি আর পটকার শব্দে অনেকক্ষণ শব্দময় থাকে পুরো বাংলাদেশ। এবার জনপদ জনপথ নিঃশব্দ।

[৫] সন্ধ্যায় কথা হলো মধুবাগের বাসিন্দা, ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্র ইসরাফিল ইসলাম তাহসীনের সঙ্গে। জানালো, এবার বের হতে পারছে না। পটকা কিনেছে কয়েকটা। কিছুক্ষণ পর বোনদের নিয়ে ছাদে যাবে, সেখানেই ফোটাবে পটকা। ঘোরাঘুরি করতে না পারার কষ্টটা বুকেই চেপে রেখে তার বক্তব্য, কী আর করা!

[৬] এই সন্ধ্যায় প্রতিটি পাড়া মহল্লায় বাচ্চাদের খেলনা, কাপড়, জুতা ও বিভিন্ন প্রসাধনীর পসরা বসে। এবার বসেনি।

[৭] কমবেশি সব এলাকাতেই চাঁদরাতে গরু জবাই হয়। মাংস কাটা, ভাগ করা এবং বাসায় নিয়ে যাওয়া- পুরো পর্বটাই থাকে আনন্দমুখর। সেই চিত্র এবার নেই।

[৮] মসজিদের সামনে জায়নামাজ, টুপি ও আতরের বিক্রি বেড়ে যায় এই চাঁদরাতে। এবার নীরব, সুনসান।

[৯] বিকেল চারটায় বন্ধ হয়ে গেছে সব মার্কেট। নগরীর মৌচাক-আনারকলি মার্কেট ও সংলগ্ন এলাকা চাঁদরাতে গমগম করে মানুষের আনাগোনায়। সন্ধ্যায় এই এলাকায় গিয়ে দেখা গেলো অন্ধকার ভূতুড়ে পরিবেশ।

[১০] গুলশান পুলিশ প্লাজা, নয়াপল্টন পলওয়েল মার্কেট, বায়তুল মোকাররম মার্কেট, বঙ্গবাজারসহ গোটা শহরের সব মার্কেট ও শপিং মল নির্জীব পড়ে আছে, দেখা গেলো এবারের চাঁদরাতে।

[১১] হাইকোর্টের সামনে জাতীয় ঈদগাহে কয়েকদিন ধরে চলে ঈদ জামাতের প্রস্তুতি। ডেকোরেটর কর্মী, সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা কর্মচারী আর আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতিতে সরব থাকে ঈদগাহ ও সংলগ্ন এলাকা। এবার সব নিশ্চুপ।

[১২] ঈদের সকালে মিষ্টিমুখের রেওয়াজ। পায়েস, ফিরনি এবং অন্যান্য মিষ্টি আইটেম তৈরির ধুম পড়ে চাঁদরাতের সন্ধ্যায়। এবারও হচ্ছে, তবে উচ্ছ্বাসটুকু অনেক কম।

[১৩] পাড়ায় পাড়ায় দর্জির দোকানে থাকে মেশিনের শব্দ, কর্মব্যস্ততা। গ্রাহক, বিশেষ করে মেয়েদের তাড়ায় টেনশন বেড়ে যায় সেলাই কর্মীদের। এবার সব নিস্তব্ধ।

[১৪] মাছ-মাংস কেনাকাটা হয়ে গেলেও চাঁদরাতে বাড়িতে বাড়িতে গিন্নীরা তাড়া দেন কর্তাদের, সবজি আর সালাদ আইটেম এই সন্ধ্যাতেই কেনার রেওয়াজ। এবার তা নেই।

[১৫] তেজগাঁও, গুলশান, রামপুরা, মীরবাগ, মধুবাগ, মালীবাগ, শাহজাহানপুর ঘুরে দেখা গেলো, রাস্তা জনশূন্য। কোলাহলশূন্য পাড়া মহল্লা। উঁচুলয়ে গান বাজিয়ে গাড়ি চলে তরুণরা, এবার তারাও নামতে পারেনি।

[১৬] বিশেষ করে সংসদ এলাকা ও হাতিরঝিল উপচে পড়ে মানুষের ভিড়ে। তরুণদের হাসি-গান-উল্লাসে জমজমাট হয়ে ওঠে চাঁদরাত। এবার হাতিরঝিল একদম সুনসান।

[১৭] করোনাকালের ঈদ একদম নতুন এক অভিজ্ঞতা নিয়ে এলো বাংলাদেশে।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত